বিভ্রান্তির বেড়াজালে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। দলে শীর্ষ পর্যায় থেকে একেক জন একেক ধরনের বক্তব্য দিচ্ছে। একারণে বিভিন্নভাবে সক্রিয় হওয়ার চেষ্ঠায় যারা রয়েছে তাদের মধ্যে বড়ো ধরনের বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে এবং হয়েছেও। এসব তথ্য মিলেছে দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সাথে কথা বলেন।
কে কি বললো?
ভারতের গণমাধ্যম ‘এই সময়’-কে একটি দীর্ঘ একান্ত সাক্ষাৎকার দিয়েছেন বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সাক্ষাৎকারের এক জায়গায় গণভবন ছেড়ে আসা, ইস্তফা না-দেওয়ার কারণ থেকে বর্তমান সরকারের মূল্যায়ন, নিজের ও দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা- সব বিষয়েই খোলামেলা কথা বলেছেন তিনি। তবে এই সাক্ষাৎকারের একটি অংশে তিনি যে বক্তব্য রেখেছেন তা-তে তার দলের ভেতরেই বিভিন্ন ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কেননা রাজনীতি থেকে তার অবসরে যাওয়ার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়ে শেখ হাসিনা পুনরায় নিশ্চিত করেন যে, দেশের জনগণের দুঃসময়ে তিনি নিজেকে গুটিয়ে নিতে চান না। তিনি বিশ্বাস করেন, সত্যের পথ সবসময় কঠিন হলেও তা শেষ পর্যন্ত জয়ী হয় এবং দেশের মানুষের কল্যাণই তার রাজনৈতিক জীবনের একমাত্র ব্রত। অর্থ্যাৎ শেখ হাসিনা অবসরে যাচ্ছেনই না বরং দেশে ফেরার কথাই ইঙ্গিত করছেন এখনো।
জানা গেলো, পত্রিকাটি শেখ হাসিনাকে লিখিত প্রশ্ন পাঠিয়ে নিয়েছে ওই সাক্ষাৎকার। এতে পত্রিকাটি তাদের পত্রিকায় প্রকাশিত সাক্ষাৎকারে দেখা যায় এইভাবে.. তা হলো..
’ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়ার পরে রাজনীতি থেকে অবসরের কথাই একটা সময়ে ভেবেছিলেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে এখন সেই ভাবনা খারিজ। দেশের ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে’ সেই চিন্তা সরিয়ে রেখে ‘নিজের দেশের মানুষের পাশে থাকা’-র সিদ্ধান্তই নিয়েছেন আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা। একান্ত সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বললেন, ‘আমার বাবা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমাকে মানুষের দুঃসময়ে তাঁদের পাশে থাকার শিক্ষা দিয়েছেন। ১৯৮১-তে আমি যখন সব হারিয়ে দেশে ফিরেছিলাম, তখন আওয়ামি লীগের কর্মীরাই ছিলেন আমার পরিবার। আজ সেই নেতা-কর্মীরা নির্যাতিত, আমার দেশের জনগণের জীবন আজ বিপর্যস্থ। আমি কী ভাবে তাদের ছেড়ে বিশ্রামে যাই?’
জয়ের বক্তব্যেও কি ছিল?
এদিকে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই সর্বশেষ সাক্ষাৎকারের বেশ কয়েক মাস আগে তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় একটি বিদেশেী পত্রিকায় সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন। এতে শেখ হাসিনা আর কখনো রাজনীতিতে ফিরবেন না এবং তার বর্তমান মেয়াদ শেষ হলে তিনি এমনিতেই অবসরে যেতেন বলে জানিয়েছিলেন তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়। ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পর বিভিন্ন বিদেশি গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এই কথাগুলো বলেন। আর এখন খোদ শেখ হাসিনাই বলছেন অন্য কথা। সাক্ষাৎকারের অবসরে যাওয়ার সম্ভাবনা নাকচ করে দেন তিনি। তিনি নিশ্চিত করেন যে, দেশের জনগণের দুঃসময়ে তিনি নিজেকে গুটিয়ে নিতে চান না। তিনি বিশ্বাস করেন, সত্যের পথ সবসময় কঠিন হলেও তা শেষ পর্যন্ত জয়ী হয় এবং দেশের মানুষের কল্যাণই তার রাজনৈতিক জীবনের একমাত্র ব্রত।
মাঠের বর্তমান অবস্থা কি
এদিকে মা-বেটার এমন বক্তব্যের পর রাজনীতির মাঠে অন্যরকম পরিস্থিতি তৈরি করেছে। যারা মাঠে নিজেদের সক্রিয় রেখেছেন তারা ভাবছেন খুব শিগগিরই তাদের সভপতি শেখ হাসিনা দেশে ফিরবেন। এবং রাজনীতিতে সক্রিয় হবেন.. তাদের পাশে এসে দাঁড়াবে। এমন ভাবনায় যারা আছেন তারা দ্বিধা-দ্বন্দ্বে পড়েছেন। কেননা জয়ের বক্তব্যের পরপরই একটি অংশ ধরে নিয়েছে শেখ হাসিনা আর আওয়ামী লীগের সভাপতি থাকতে পারবেন না এবং আর ফিরছেনও না। আবার এটাও ধরে নিয়েছেন যে টুক বা হুট করে ভারতও তাকে বাংলাদেশে ছেড়ে দেবে না।
আসল রহস্য কি?
প্রশ্ন দেখা দিয়েছে মাতা-পুত্রের বক্তব্যে আসল রহস্য কি? এনিয়ে হয়তবা নেপথ্যে আরও অন্য কিছু আছে বলেই অনেক এখন মনে করছেন। কেনোনা সাক্ষাৎকারের একটি অংশে তিনি নিশ্চিত হয়েছেন যে, তারেক রহমান সরকারের সঙ্গে ভারতের সুসম্পর্ক স্থাপনের প্রয়াস ফলপ্রসূ হবে না। তিনি বলেছেন, ‘দু’দেশের টেকসই সম্পর্কের প্রকৃত ভিত্তি হলো বাংলাদেশে সত্যিকারের গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা। যারা এগুলো নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হচ্ছেন, প্রতিনিয়ত হীনরাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ভারত-বিরোধী অপপ্রচারকে প্রশ্রয় দিচ্ছেন এবং অতীতে ভারতের নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন, তাদের সঙ্গে ভারতের কোনও নতুন ইনিংসই দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার কথা নয়।’ রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সূত্র মিলিয়ে কি শেখ হাসিনা এখনো আওয়ামী লীগের হাল ধরে রাখার পক্ষে দৃঢ়তায় আছেন? সেজন্যেই কি রাজনীতি থেকে কি অবসরে যাওয়ার কথা বাতিল করে দিয়েছেন। এর পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর তথ্যবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমানের দিল্লিতে হেনস্থার ঘটনাও একিই সূত্রে গাঁথা কি-না দেখতে কিছু সময় লাগবে বলেই বিশ্লেষকরা মনে করেন। কেননা প্রধানমন্ত্রীর এই তথ্যবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমানের দিল্লি সফরের বিষয়টি অন্তত দুই দিন আগেই ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছিল বাংলাদেশ। এরপরও গত ১৪ জুন রোববার দিল্লির ইন্দিরাগান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাঁকে প্রায় আড়াই ঘণ্টা অপেক্ষায় রাখা হয়।