শেখ হাসিনার ফিরে আসার ঘোষণায় কৌতূহল


বিশেষ প্রতিনিধি , আপডেট করা হয়েছে : 01-07-2026

শেখ হাসিনার ফিরে আসার ঘোষণায় কৌতূহল

২০২৪-এর ৫ আগস্ট দেশ ছেড়ে শেখ পরিবারের সব সদস্যকে নিয়ে পালিয়ে যাওয়া শেখ হাসিনা ইদানীং বক্তব্য দিচ্ছেন, তিনি ফিরবেন এবং তিনি এ বছরের মধ্যেই ফিরবেন। তার এ ফেরাটা কতটা সত্য এ নিয়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যেই কৌতূহল। শেখ হাসিনা ফেরার পরিবেশ তৈরি করতে অবশ্যই তার সঙ্গে যাওয়া পরিবারবর্গ বা দলের শীর্ষ যেসব নেতা দেশ ছেড়ে চলে গেছেন তাদেরও আগে দেশে ফিরতে হবে। তাদের ‍ওপর যতই হুলিয়া বা গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকুক না কেন। অন টেস্ট হিসেবেও কারো না কারো ফেরার বিষয়টি দেখতে চায় মানুষ। কিন্তু অজ্ঞাত স্থানে পেছনে সাদা ওয়াল রেখে দুয়েকজন যারা ফেসবুকে কথা বলেন, পোস্ট দেন, তাদের মনবল দেখে ওইরকম সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন বিশ্লেষকরা। 

সম্প্রতি (জুন ২০২৬) শেখ হাসিনা একটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ‘এ বছরের মধ্যেই দেশে ফেরার’ প্রত্যয় ব্যক্ত করলেও মাঠপর্যায়ের রাজনৈতিক বাস্তবতা অন্য। মানুষ এ কথ সহজে বিশ্বাস করতে পারছে না। 

শীর্ষনেতাদের অনুপস্থিতি ও আইনি জটিলতা

হুলিয়া বা গ্রেফতারি পরোয়ানা মাথায় নিয়ে কোনো শীর্ষ নেতা বা শেখ পরিবারের সদস্যরা দেশে না ফিরলে সাধারণ কর্মীদের মনে আস্থা ফেরা কঠিন। বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকে পরিষ্কার জানানো হয়েছে যে, শেখ হাসিনা বা অন্য কোনো পলাতক নেতা দেশে ফিরলে তাদের সরাসরি আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হবে এবং আদালতে আত্মসমর্পণ করতে হবে। এ পরিস্থিতিতে দলটির শীর্ষ সারির নেতারা এখনো দেশের বাইরে অবস্থান করছেন অথবা আত্মগোপনে আছেন। ফলে নিজেরা ওভাবে ফিরে দলের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করবেন এমন নিবেদিতপ্রাণ নেতা গত দুই বছরে ভার্চুয়ালিও আস্থা রাখার মত কাজ করে দেখাতে পারেনি। 

নেতৃবৃন্দের মধ্যে যারা ভার্চুয়ালি সামনে আসছেন, তারা অজ্ঞাত স্থানে পেছনে সাদা দেয়াল রেখে ফেসবুক বা সামাজিক মাধ্যমে দুয়েকজনের বক্তব্য দেওয়া মাঠপর্যায়ের সাধারণ কর্মীদের মনে এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি করে। নির্বাসনে বা আত্মগোপনে থেকে ভিডিও বার্তা দেওয়ার মাধ্যমে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব নিজেদের উপস্থিতি জানান দেওয়ার চেষ্টা করলেও তা বাস্তবে কোনো বড় ধরনের রাজনৈতিক মাঠ প্রস্তুত করার জন্য যথেষ্ট নয় বলেই বিশ্লেষকদের ধারণা।

সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা

বর্তমানে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রমের ওপর আইনি ও প্রশাসনিক কড়াকড়ি রয়েছে। দলটির সাংগঠনিক কাঠামো আগের মতো সক্রিয় নেই এবং অধিকাংশ জেলা-উপজেলা পর্যায়ের নেতারাও হয় কারাগারে, না হয় আত্মগোপনে। এ অবস্থায় কোনো ধরনের রাজনৈতিক ভিত্তি বা শক্তিশালী মাঠপর্যায়ের সহযোগিতা ছাড়া সরাসরি দলের প্রধানের ফিরে আসা প্রায় অসম্ভব একটি চ্যালেঞ্জ।

বিদেশ থেকে কী কেউ ফিরবেন? 

অন টেস্ট হিসেবেও হলেও কারো না কারো ফেরার বিষয়টি দেখতে চায় মানুষ। এ বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাজনৈতিকভাবে কোনো বড় পরিবর্তনের আবহ তৈরি করতে হলে সাধারণত দ্বিতীয় বা তৃতীয় সারির নেতাদের মাঠে নেমে পরিস্থিতি পরীক্ষা করতে হয়। যতক্ষণ পর্যন্ত তেমন কোনো বাস্তব পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না, ততক্ষণ পর্যন্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বক্তব্যগুলোকে কেবলই ‘রাজনৈতিকভাবে টিকে থাকার কৌশল’ বা কর্মীদের মনোবল ধরে রাখার চেষ্টা হিসেবেই দেখছেন বিশ্লেষকরা।

ফলে সে দৃষ্টিকোণ থেকে শেখ হাসিনা ফেরার যে ঘোষণা সেটা ফলাও করে এনডিটিভি প্রচার করার পর সে সূত্র ধরে টাইমস অব ইন্ডিয়া, গালফ নিউজসহ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অনেক মিডিয়ায় প্রচার করলেও দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে তেমন কোনো প্রতিফলন লক্ষ করা যাচ্ছে না। 

তবে এটা অনেক দেরিতে হলেও শেখ হাসিনার দেশে ফেরার বিষয়টি তিনি নিজে তুলে ধরার পর অন্তত একটা বিষয় ক্লিয়ার হয়েছেন দলের নেতৃবৃন্দ, সেটা হলো আওয়ামী লীগ আবারও ঘুরে দাঁড়াবে, রাজনীতি করবে সেটা একমাত্র শেখ হাসিনার হাত ধরেই। এখানে অন্য কাউকে নিয়ে যদি চিন্তা করা হয় দলটির অবশিষ্ট নেতৃবৃন্দের মধ্য থেকে, সেটা সাধারণ  নেতাকর্মীরা মেনে নেবে না। 

এনডিটিভির সাক্ষাতকারে কী বলেছেন শেখ হাসিনা- সাক্ষাৎকারের বিস্তারিত নিচে তুলে ধরা হলো:

প্রশ্ন: আপনার সমর্থকরা আশাবাদী যে আপনি দ্রুতই বাংলাদেশে ফিরবেন। কিছু নেতা বলছেন এটি চলতি বছরই হতে পারে। আপনার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় থাকা সত্ত্বেও এ সম্ভাবনা কতটা বাস্তবসম্মত?

শেখ হাসিনা: আমার ফেরা কোনো ব্যক্তিগত উচ্চাকাক্সক্ষার বিষয় নয়। এটি বাংলাদেশের মানুষের রাজনৈতিক অধিকার, গণতন্ত্রের পুনরুদ্ধার, আইনের শাসন এবং আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঙ্গে যুক্ত। আমি ক্ষমতার জন্য রাজনীতি করি না, করি মানুষের কল্যাণের জন্য এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ‘সোনার বাংলার’ স্বপ্ন পূরণের জন্য।

আমার বিরুদ্ধে যে রায় দেওয়া হয়েছে, তা কোনো বিচার নয়, এটি একটি অবৈধ, অসাংবিধানিক এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রক্রিয়া। আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বহীন করতেই বিচার বিভাগকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার হাতিয়ার বানানো হয়েছে। আমি মৃত্যুকে ভয় পাই না। ১৯৭৫ সালে আমি আমার বাবা-মা, ভাই এবং প্রায় পুরো পরিবার হারিয়েছি। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা করে আমাকে হত্যার চেষ্টা হয়েছে। অনেক ষড়যন্ত্র হয়েছে, তবে সব ভেঙে আমি মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছি। সাধারণ মানুষের ভোটে আমি পাঁচবার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়ে দেশের অভূতপূর্ব উন্নয়ন করেছি। তাই সব বাধা উপেক্ষা করে আমি চলতি বছরই দেশে ফিরবো।

প্রশ্ন: বর্তমান সরকারের কিছু ঘাটতির সুযোগে আওয়ামী লীগ আবার জনসমর্থন ফিরে পাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। এ সমর্থনকে রাজনৈতিক সাফল্যে রূপ দেওয়ার মতো সাংগঠনিক শক্তি কি দলের আছে?

শেখ হাসিনা: আওয়ামী লীগ বাংলার মাটিতে, মানুষের হৃদয়ে এবং বাঙালি জাতির পরিচয়ের গভীরে প্রোথিত একটি রাজনৈতিক শক্তি। ৭৭ বছরের পথচলায় এ দলের ওপর বহুবার আঘাত এসেছে, রক্ত ঝরেছে এবং নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কিন্তু প্রতিবারই মানুষের শক্তিতে এটি আবার জেগে উঠেছে। আওয়ামী লীগের ফিরে আসা অন্য কারো ব্যর্থতার ওপর নির্ভর করে না। একটি অংশকে বিভ্রান্ত করে ষড়যন্ত্রমূলক আন্দোলনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে রাষ্ট্রক্ষমতা থেকে সরানো হয়েছিল। কিন্তু মানুষের হৃদয় থেকে দলটিকে মুছে ফেলা যায়নি। প্রথমে মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অবৈধ, অসাংবিধানিক ও দখলদার অন্তর্বর্তী সরকার এবং এখন সাজানো নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত বিএনপি সরকারের অধীনে মানুষ বাস্তব পরিস্থিতি নিজের চোখে দেখছে। দেশে কোনো গণতন্ত্র, আইনের শাসন বা নিরাপত্তা নেই। অর্থনীতি দুর্বল হয়েছে, সংখ্যালঘুরা আক্রান্ত হচ্ছে এবং চরমপন্থা ছড়াচ্ছে। মানুষ এখন আগের আমলের সঙ্গে তুলনা করতে পারছে। তারা বোঝে, আওয়ামী লীগ সরকারে থাকলে দেশে স্থিতিশীলতা ও উন্নয়ন থাকে। দমনপীড়ন আওয়ামী লীগকে প্রতিদিন আরো শক্তিশালী করছে। আমাদের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি বন্ধ করতে সেনা, বিজিবি ও পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে; এটি বর্তমান সরকারের দুর্বলতারই প্রমাণ।

প্রশ্ন: দল এখনো নিষিদ্ধ এবং নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে হাজার হাজার মামলা রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে অদূর ভবিষ্যতে দলের রাজনৈতিক পুনরুত্থান কতটা সম্ভব?

শেখ হাসিনা: আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক পুনরুত্থান কোনো সরকারের দয়ার ওপর নির্ভর করে না, এটি নির্ভর করে জনগণের ওপর। অবৈধ নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে তারা হয়তো সাজানো নির্বাচন থেকে আওয়ামী লীগকে দূরে রেখেছে, দলের কার্যালয় বন্ধ করেছে, কিন্তু সাধারণ মানুষের মন থেকে মুছতে পারেনি। আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার সব নির্যাতন সত্ত্বেও দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রতিদিন আওয়ামী লীগের সমর্থনে মিছিল হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাতে যোগ দিচ্ছে।

বাংলাদেশে একটি সঠিক গণতান্ত্রিক পরিবেশ এবং স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে হলে আওয়ামী লীগের ওপর থেকে অবৈধ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে হবে। মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি দিতে হবে। তবে বর্তমান দখলদারেরা যদি এ ন্যূনতম গণতান্ত্রিক পথও বন্ধ রাখে, তবে মানুষের জমে থাকা ক্ষোভ ও বেদনা থেকেই নতুন পথ তৈরি হবে।

প্রশ্ন: ক্ষমতাচ্যুতির পর বাংলাদেশ তার মৌলিক চরিত্র হারিয়ে পাকিস্তানের মতো মডেলে রূপান্তর হচ্ছে বলতে আপনি কী বোঝাতে চেয়েছেন?

শেখ হাসিনা: আমি কোনো দেশের সঙ্গে স্বাভাবিক কূটনৈতিক সম্পর্কের বিরোধী নই। আমাদের পররাষ্ট্রনীতি স্পষ্ট, সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়। তবে সেই সম্পর্ক হতে হবে রাষ্ট্রের মূলনীতি ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে অক্ষুণ্ন রেখে। ৫ আগস্টের পর আমরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ওপর সর্বাত্মক আঘাত দেখতে পেয়েছি। মুক্তিযোদ্ধাদের জুতোর মালা পরিয়ে অপমান করা হয়েছে, স্মৃতিসৌধ ভাঙচুর করা হয়েছে, ‘জয় বাংলা’ সেøাগান অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে এবং জাতির পিতার বাসভবনে বারবার হামলা হয়েছে। মাজার, সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায় আক্রমণের শিকার হয়েছে। চরমপন্থা ছড়ানোর সুযোগ করে দিয়ে বাংলাদেশকে একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করার সব আয়োজন করা হয়েছে।

অথচ আওয়ামী লীগের সময়ে ২০২৩ সালে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ছিল ৭ দশমিক ২৫ শতাংশ, মাথাপিছু আয় দাঁড়িয়েছিল ২ হাজার ৭৯৩ ডলারে। বাংলাদেশ বিশ্বের ৩৫তম বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত হয়েছিল। আমরা দারিদ্র্যের হার ১৮ দশমিক ৭ শতাংশে নামিয়ে এনেছিলাম, শতভাগ মানুষের ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিয়েছিলাম। ছিটমহল ও ভূমিহীনদের পুনর্বাসন করেছি এবং ছাদহীন ৪২ লাখেরও বেশি মানুষকে বিনামূল্যে জমিসহ ঘর দিয়েছি। পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, কর্ণফুলী টানেলের মতো মেগা প্রজেক্টের মাধ্যমে দেশকে উন্নয়নের বৈশ্বিক রোল মডেলে পরিণত করেছিলাম। ৫ আগস্টের পর দেশের এ উন্নয়ন যেভাবে ধ্বংস করা হয়েছে এবং উগ্রবাদের রাজত্ব তৈরি করা হয়েছে, তা থেকে কেবল আওয়ামী লীগই দেশকে মুক্ত করতে পারে। মুক্ত ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগই জিতবে, তা ইউনূস ও বাংলাদেশ-বিরোধী রাজনৈতিক শক্তি খুব ভালো করেই জানে। সে কারণেই তারা আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করে নির্বাচন প্রক্রিয়ার বাইরে রেখেছে।

প্রশ্ন: হিন্দু সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা, মন্দির ভাঙচুর এবং কিছু ইসলামপন্থী গোষ্ঠীর হুমকি নিয়ে যে প্রতিবেদন আসছে, সেটিকে আপনি কীভাবে দেখছেন?

শেখ হাসিনা: এটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক ও গভীর উদ্বেগের। বাংলাদেশে যখনই অসাম্প্রদায়িক বা মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের শক্তি দুর্বল হয়েছে, তখনই সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন নেমে এসেছে। ৫ আগস্টের পর থেকে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান, আদিবাসী, আহমদিয়া এবং সুফি মাজারের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা অনিরাপদ হয়ে পড়েছেন। সবচেয়ে ভীতিজনক বিষয় হলো, অবৈধ অন্তর্বর্তী সরকারের মতো বর্তমান বিএনপি সরকারও এ ঘটনাগুলো অস্বীকার করছে বা রাজনৈতিক প্রচার বলে উড়িয়ে দিচ্ছে। এ অস্বীকারের সংস্কৃতি অপরাধীদের আরো উৎসাহিত করছে। সংখ্যালঘুদের অধিকারের পক্ষে কথা বলা চিন্ময় কৃষ্ণ দাস এখনো মিথ্যা মামলায় কারাগারে আছেন। এটিই প্রমাণ করে যে সরকার পরিবর্তন হলেও সংখ্যালঘুদের ভাগ্য বদলায়নি।

সংখ্যালঘুরা কোনো ভোটব্যাংক নয়, তারা সমান মর্যাদার নাগরিক। যারা ধর্মের নামে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা করে, তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতার চেতনার শত্রু। সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে এবং হামলার সুষ্ঠু বিচার হতে হবে। এ কর্তব্যে ব্যর্থতা কেবল বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ সমস্যাই নয়, এটি দক্ষিণ এশিয়ার স্থিতিশীলতা ও মানবিক মূল্যের জন্যও উদ্বেগের বিষয়।

প্রশ্ন: ভারতে আপনার বর্তমান জীবন কীভাবে কাটছে? আপনার মেয়ের সঙ্গে কি নিয়মিত দেখা হয়, নাকি নির্বাসিত জীবন অনেকটাই সীমাবদ্ধ?

শেখ হাসিনা: দীর্ঘদিন ধরে আমার ব্যক্তিগত জীবন বলতে তেমন কিছু নেই। আমি আমার জীবন বাংলাদেশের মানুষের জন্য উৎসর্গ করেছি। ১৯৭৫ সালে সব হারানোর পরও আমাকে দীর্ঘ সময় নির্বাসনে কাটাতে হয়েছে। আজ বাংলাদেশ যখন আবার একটি কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তখন দেশের মানুষের থেকে দূরে থাকা, আমার মাটির গন্ধ থেকে দূরে থাকা এবং প্রতিদিন আমার নেতাকর্মীদের কষ্টের কথা শোনা অত্যন্ত বেদনাদায়ক।


প্রকাশক: মঞ্জুর হোসেন

সম্পাদক: মিজানুর রহমান

House : 29, Road : 01 Sector : 02, Block :F Aftabnagar, Dhaka:1212 (Opposite China Building) E-mail : deshusdhaka@gmail.com (Advertising & News For Bangladesh)