গভর্নর লিসা কুককে অপসারণে বড় ধাক্কা খেলেন ট্রাম্প


দেশ রিপোর্ট , আপডেট করা হয়েছে : 01-07-2026

গভর্নর লিসা কুককে অপসারণে বড় ধাক্কা খেলেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট গত ২৯ জুন এক গুরুত্বপূর্ণ রায়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ফেডারেল রিজার্ভ (ফেড) বোর্ডের সদস্য লিসা কুককে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। ৫-৪ ভোটের এ রায়ে আদালত বলেছে, মামলার বিচারকালীন কুক তার দায়িত্বে বহাল থাকতে পারবেন।

রায়ে প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস বলেন, প্রেসিডেন্ট কুককে বরখাস্ত করার আগে অভিযোগের বিরুদ্ধে আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য যথাযথ আইনি সুযোগ দেননি। আদালতের মতে, বর্তমানে মূল প্রশ্ন হলো প্রেসিডেন্ট যথোপযুক্ত কারণ দেখিয়ে তাকে অপসারণ করতে পারেন কি না। তবে সেই প্রশ্নের উত্তর নির্ভর করবে মামলার প্রকৃত তথ্যপ্রমাণ ও নিম্ন আদালতের মূল্যায়নের ওপর।

রবার্টস লিখেছেন, আদালত এখনো মামলার প্রকৃত তথ্য বা প্রযোজ্য আইনি মানদণ্ড অনুযায়ী সেগুলোর বিশ্লেষণ করেনি। এ পর্যায়ে শুধু নির্ধারণ করা হয়েছে, কোনো আইনি মানদণ্ড অনুসরণ করে নিম্ন আদালত বিষয়টি বিবেচনা করবে।

এ রায়ে প্রধান বিচারপতি রবার্টসের সঙ্গে আদালতের তিন উদারপন্থী বিচারপতি এবং বিচারপতি ব্রেট ক্যাভানফ সংখ্যাগরিষ্ঠ মত দেন। অন্যদিকে বিচারপতি ক্লারেন্স থমাস, স্যামুয়েল আলিটো, নীল গোরসাচ ও অ্যামি কোনি ব্যারেট ভিন্নমত পোষণ করেন।

বিচারপতি থমাস তার ভিন্নমতে বলেন, যদি আদালত স্বাধীন ফেডারেল রিজার্ভ বোর্ড বজায় রাখতে চায়, তবে তাদের আপত্তি প্রেসিডেন্টের সঙ্গে নয়, সংবিধানের সঙ্গেই হওয়া উচিত। তবে অন্য তিন ভিন্নমতাবলম্বী বিচারপতি উল্লেখ করেন, মামলাটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং তাদের মতামত সে সীমিত প্রশ্নের মধ্যেই সীমাবদ্ধ।

সাম্প্রতিক সময়ে স্বাধীন ফেডারেল সংস্থাগুলোর ওপর প্রেসিডেন্টের নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর প্রচেষ্টায় সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পকে কিছু ক্ষেত্রে সমর্থন দিলেও ফেডারেল রিজার্ভকে সে সিদ্ধান্তের বাইরে রেখেছে। সর্বশেষ এ রায় ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য একটি বড় আইনি ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

রায়ের পর সামাজিক মাধ্যমে ট্রাম্প দাবি করেন, এটি কেবল একটি ‘প্রক্রিয়াগত’ সিদ্ধান্ত। তিনি বলেন, লিসা কুকের বিরুদ্ধে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের দায়িত্বে এমন একজনকে রাখা উচিত নয়। তিনি আরো জানান, প্রশাসন দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।

গত বছরের আগস্টে ট্রাম্প প্রশাসন লিসা কুককে বরখাস্ত করে। অভিযোগ ছিল, তিনি মিশিগান ও জর্জিয়া স্টেটে  একই সময়ে দুটি বাড়িকে  প্রাইমারি রেসিডেন্স  হিসেবে দেখিয়ে অনুকূল শর্তে মর্টগেজ ঋণ নিয়েছিলেন। অভিযোগটি উত্থাপন করেন ফেডারেল হাউজিং ফাইন্যান্স এজেন্সির পরিচালক বিল পুল্টে।

তবে কুকের বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়নি। তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, প্রকৃত কারণ হলো প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অসন্তোষ। কারণ ফেড প্রত্যাশিত গতিতে সুদের হার কমায়নি।

এ মামলা যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। বর্তমানে মূল্যস্ফীতি ও সুদের হার নিয়ে ফেডের নীতিনির্ধারণে ভেতরে-বাইরে মতপার্থক্য বাড়ছে। এরই মধ্যে ট্রাম্পের মনোনীত কেভিন ওয়ার্শ ফেডের নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।

১৯১৩ সালে প্রণীত ফেডারেল রিজার্ভ আইনে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট কেবল যথোপযুক্ত কারণ দেখিয়েই ফেড বোর্ডের সদস্যকে অপসারণ করতে পারেন। তবে আইনে যথোপযুক্ত কারণ বলতে ঠিক কী বোঝানো হয়েছে, তা স্পষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়নি।

ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, সদস্যের আচরণ, সক্ষমতা, সততা বা দায়িত্ব পালনের উপযুক্ততা নিয়ে প্রেসিডেন্ট নিজস্ব বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। অন্যদিকে কুকের আইনজীবীরা যুক্তি দেন, যথোপযুক্ত কারণ বলতে অদক্ষতা, দায়িত্বে অবহেলা বা অসদাচরণের মতো সুস্পষ্ট কারণ বোঝায়। অন্যথায় ফেডের স্বাধীনতা গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

সুপ্রিম কোর্টের রায়ের ফলে মামলাটি এখন আবার নিম্ন আদালতে ফিরে যাবে। সেখানে অভিযোগের প্রকৃত সত্যতা এবং প্রেসিডেন্টের পদক্ষেপ আইনসম্মত ছিল কি না, তা বিস্তারিতভাবে বিচার হবে। ততদিন পর্যন্ত লিসা কুক ফেডারেল রিজার্ভ বোর্ডের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখতে পারবেন।


প্রকাশক: মঞ্জুর হোসেন

সম্পাদক: মিজানুর রহমান

House : 29, Road : 01 Sector : 02, Block :F Aftabnagar, Dhaka:1212 (Opposite China Building) E-mail : deshusdhaka@gmail.com (Advertising & News For Bangladesh)