বিংহ্যামটনে কৃষ্ণাঙ্গ সিনেটরকে ‘গাছে ঝুলিয়ে’ হত্যার হুমকি


দেশ রিপোর্ট , আপডেট করা হয়েছে : 01-07-2026

বিংহ্যামটনে কৃষ্ণাঙ্গ সিনেটরকে ‘গাছে ঝুলিয়ে’ হত্যার হুমকি

বিংহ্যামটন অঞ্চলের প্রতিনিধিত্বকারী নিউইয়র্ক স্টেট সিনেটর লিয়া ওয়েবকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গাছে ঝুলিয়ে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগে ৪৯ বছর বয়সী ঠিকাদার জেমস ক্রসবিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে ঘৃণাজনিত অপরাধ (হেট ক্রাইম) হিসেবে সন্ত্রাসী হুমকি দেওয়ার অভিযোগ এনেছে। একই সঙ্গে তার বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে একাধিক অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ও অস্ত্র-সরঞ্জামও উদ্ধার করা হয়েছে।

ব্রুম কাউন্টি শেরিফের দফতর জানায়, গত ২৩ জুন বিকাল প্রায় ৪টা ৪০ মিনিটে ক্রসবিকে গ্রেফতার করা হয়। তার বিরুদ্ধে আনা সন্ত্রাসী হুমকির অভিযোগটি হেট ক্রাইম হিসেবে অভিযোগ করা হয়েছে, যা নিউইয়র্ক আইনে ক্লাস ‘সি’ ফেলনি। পরে নিউইয়র্ক স্টেট পুলিশের তদন্তে তার কাছে একটি অ্যাসল্ট-ধাঁচের রাইফেল, একটি সাইলেন্সার এবং উচ্চ ধারণক্ষমতার ম্যাগাজিনসহ একাধিক অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার হয়। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে তৃতীয় ডিগ্রিতে অস্ত্র রাখার চারটি পৃথক অভিযোগ আনা হয়েছে, যা প্রতিটিই ক্লাস ডিফেলনি। তদন্তকারীরা জানান, ক্রসবি এর আগে একটি ফেলনি অপরাধে দণ্ডিত হওয়ায় আইন অনুযায়ী তার কোনো ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র রাখার অধিকার ছিল না। এছাড়া তার কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া অস্ত্রগুলোর কিছু নিউইয়র্কের আইনে সাধারণ নাগরিকদের জন্যও নিষিদ্ধ।

ঘটনার সূত্রপাত গত ১৯ জুন যুক্তরাষ্ট্রেরজুনটিন্থ দিবসে। স্থানীয় টেলিভিশন স্টেশন ডব্লিউবিএনজি ১২ নিউজ সিনেটর লিয়া ওয়েবের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত একটি জুনটিন্থ অনুষ্ঠানের সংবাদ ফেসবুকে প্রকাশ করলে সেখানে মন্তব্য করেন ক্রসবি। তিনি লিখেছিলেন, ওকে গাছে ঝুলিয়ে দিতে পারলে আমি গর্ববোধ করতাম। পরে মন্তব্যটি মুছে ফেলা হলেও তার স্ক্রিনশট তদন্তকারীদের হাতে আসে। পুলিশ বলছে, শ্বেতাঙ্গ ক্রসবির এ মন্তব্য কৃষ্ণাঙ্গদের অতীতে সংঘটিত লিঞ্চিংয়ের ইতিহাসের প্রতি ইঙ্গিত বহন করে এবং সেটি জুনটিন্থ দিবসে করা হওয়ায় বিষয়টি আরো গুরুতর হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। জুনটিন্থ হলো ১৮৬৫ সালে টেক্সাসে দাসপ্রথার অবসানের খবর দাসদের কাছে পৌঁছানোর স্মরণে পালিত একটি ফেডারেল ছুটির দিন।

লিয়া ওয়েব নিউইয়র্ক স্টেট সিনেটে বিংহ্যামটন অঞ্চলের টম্পকিন্স, ব্রুম এবং কর্টল্যান্ড কাউন্টির একটি অংশের প্রতিনিধিত্ব করেন। ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই ক্রসবির প্রতিষ্ঠান ক্রসবি হোম ইমপ্রুভমেন্ট বয়কটের আহ্বান জানান। বিংহ্যামটন সিটি ডেমোক্রেটিক কমিটিও ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত দাবি করে। পরে প্রতিষ্ঠানটির ফেসবুক পেজ অপ্রাপ্য হয়ে যায়।

গত ২২ জুন ক্রসবি ফেসবুকে একটি ক্ষমাপ্রার্থনা পোস্ট দেন। সেখানে তিনি স্বীকার করেন যে তিনি সিনেটর ওয়েবকে নিয়ে ওই মন্তব্য করেছিলেন, তবে দাবি করেন, আমি কোনোভাবেই বর্ণবাদী হতে চাইনি। তিনি আরো বলেন, নিজের মন্তব্যে যে ক্ষতি হয়েছে তা তিনি উপলব্ধি করেছেন এবং ভবিষ্যতে নিজেকে আরো সংযতভাবে প্রকাশ করার চেষ্টা করবেন। ক্ষমা চাওয়ার পোস্টে ক্রসবি দাবি করেন, সিনেটর ওয়েবের বিরুদ্ধে প্রকাশিত একটি সংবাদ দেখে তিনি ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ওয়েব তার বাড়িসংক্রান্ত একটি ফোরক্লোজার মামলায় একটি অলাভজনক আইন সংস্থার কাছ থেকে বিনামূল্যে আইনি সহায়তা নিয়েছিলেন, যে সংস্থার জন্য তিনি আগে ৩০ হাজার ডলার অঙ্গরাজ্যের অনুদান নিশ্চিত করেছিলেন। তবে ওয়েব পরে জানান, তিনি ওই আইনি সেবার জন্য অর্থ পরিশোধ করবেন। গ্রেফতারের পর এক বিবৃতিতে সিনেটর লিয়া ওয়েব বলেন, জুনটিন্থের মতো একটি ঐতিহাসিক দিনে এমন ঘৃণামূলক মন্তব্য তাকে গভীরভাবে কষ্ট দিয়েছে। তিনি বলেন, নীতিগত মতপার্থক্য বা সমালোচনা এক বিষয়, কিন্তু প্রকাশ্যে কাউকে হত্যার আহ্বান জানানো সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য এবং অত্যন্ত বিপজ্জনক। তিনি সমাজ থেকে বর্ণবাদ, বিদ্বেষ এবং সহিংসতা নির্মূলে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান। বর্তমানে ক্রসবি পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। মামলার পরবর্তী শুনানিতে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হবে।


প্রকাশক: মঞ্জুর হোসেন

সম্পাদক: মিজানুর রহমান

House : 29, Road : 01 Sector : 02, Block :F Aftabnagar, Dhaka:1212 (Opposite China Building) E-mail : deshusdhaka@gmail.com (Advertising & News For Bangladesh)