২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে ৩০ লাখ ৯৪ হাজার ৫৯৩ জন মানুষের মৃত্যু


দেশ রিপোর্ট , আপডেট করা হয়েছে : 15-07-2026

২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে ৩০ লাখ ৯৪ হাজার ৫৯৩ জন মানুষের মৃত্যু

যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৫ সালে আনুমানিক ৩০ লাখ ৯৪ হাজার ৫৯৩ জন মানুষের মৃত্যু হয়েছে। সেন্টার্স ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি)-এর ন্যাশনাল সেন্টার ফর হেলথ স্ট্যাটিস্টিকস(এনসিএইচএস) প্রকাশিত মর্টালিটি ইন দ্য ইউনাইটেড স্টেটস : প্রোভিশনাল ডেটা, ২০২৫ শীর্ষক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনটি গত ৮ জুলাই প্রকাশ করা হয়। সিডিসি জানিয়েছে, এটি একটি প্রাথমিক বা প্রোভিশনাল হিসাব, যা মৃত্যুসনদ থেকে সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে আরো তথ্য যাচাই ও যুক্ত হলে চূড়ান্ত সংখ্যায় কিছুটা পরিবর্তন আসতে পারে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালেও যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুর প্রধান কারণ ছিল হৃদরোগ। এ বছর হৃদরোগে আনুমানিক ৬ লাখ ৯৪ হাজার ৭০৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। হৃদরোগের মধ্যে হার্ট অ্যাটাক, করোনারি আর্টারি ডিজিজ, হার্ট ফেইলিউরসহ বিভিন্ন ধরনের হৃদ্সংক্রান্ত সমস্যা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উচ্চ রক্তচাপ, উচ্চ কোলেস্টেরল, স্থূলতা, ধূমপান, শারীরিক নিষ্কিয়তা এবং অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস হৃদরোগের অন্যতম বড় ঝুঁকি।

মৃত্যুর দ্বিতীয় প্রধান কারণ ছিল ক্যানসার। সিডিসির হিসাবে, ২০২৫ সালে প্রায় ৬ লাখ ২২ হাজার ৮৩২ জন মানুষ ক্যানসারে মারা গেছেন। ফুসফুস, কোলন, স্তন, অগ্ন্যাশয়সহ বিভিন্ন ধরনের ক্যানসার এখনো যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুর অন্যতম বড় কারণ। চিকিৎসা বিজ্ঞানের অগ্রগতির ফলে অনেক ক্যানসার রোগীর বেঁচে থাকার হার বেড়েছে, তবে দেরিতে শনাক্ত হওয়া ও জটিল পর্যায়ে পৌঁছে যাওয়া রোগ এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়েছে।

২০২৫ সালে মৃত্যুর তৃতীয় প্রধান কারণ ছিল দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু । এ ধরনের দুর্ঘটনায় আনুমানিক ১ লাখ ৮৪ হাজার ২৬৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনা, পড়ে যাওয়া, বিষক্রিয়া, ওষুধের অতিরিক্ত ব্যবহার এবং অন্যান্য অনিচ্ছাকৃত ঘটনা রয়েছে। বিশেষ করে মাদকজনিত অতিরিক্ত মৃত্যুর ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের জনস্বাস্থ্যের জন্য দীর্ঘদিন ধরে একটি বড় উদ্বেগের বিষয়।

সিডিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের মৃত্যুর একটি বড় অংশ দীর্ঘমেয়াদি রোগের সঙ্গে সম্পর্কিত। বয়স্ক জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বাড়ার কারণে হৃদরোগ, ক্যানসার, ডায়াবেটিস, আলঝেইমারসহ বিভিন্ন দীর্ঘস্থায়ী রোগের প্রভাবও বৃদ্ধি পাচ্ছে। স্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভবিষ্যতে মৃত্যুহার আরো কমাতে হলে রোগ প্রতিরোধ, প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্তকরণ এবং সবার জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ।

প্রতিবেদনে দেখা গেছে, পুরুষ ও নারীর মৃত্যুর হারেও পার্থক্য রয়েছে। দীর্ঘদিনের সিডিসি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সাধারণত পুরুষদের মৃত্যুহার নারীদের তুলনায় বেশি থাকে। এর পেছনে হৃদরোগ, দুর্ঘটনা, ধূমপানজনিত রোগ এবং কিছু ঝুঁকিপূর্ণ জীবনযাপনের কারণ ভূমিকা রাখে।

স্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞরা সাধারণ মানুষকে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ, স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ, নিয়মিত ব্যায়াম, ধূমপান পরিহার এবং নিরাপদ জীবনযাপনের পরামর্শ দিয়েছেন। তাদের মতে, হৃদরোগ ও ক্যানসারের মতো বড় রোগের ঝুঁকি কমাতে জীবনযাত্রার পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

সিডিসি বলেছে, মৃত্যুর পরিসংখ্যান শুধু কতজন মানুষ মারা যাচ্ছেন তা দেখায় না, বরং কোন রোগ ও পরিস্থিতি মানুষের জীবনের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি তৈরি করছে, সেটিও বুঝতে সাহায্য করে। এসব তথ্যের ভিত্তিতে সরকার স্বাস্থ্যনীতি, হাসপাতাল পরিকল্পনা, রোগ প্রতিরোধ কর্মসূচি এবং জরুরি স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা উন্নত করতে পারে।

সেন্টার্স ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি)-এর ন্যাশনাল সেন্টার ফর হেলথ স্ট্যাটিস্টিকস (এনসিএইচএস)-এর একজন জনস্বাস্থ্য পরিসংখ্যানবিদ ফারিদা বি. আহমদ জানান, ২০২৫ সালের এ প্রতিবেদন এখনো চূড়ান্ত নয়। সিডিসি মৃত্যুসনদ ও অন্যান্য তথ্য সম্পূর্ণ যাচাই করার পর চূড়ান্ত হিসাব প্রকাশ করবে। তবে প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুর প্রধান বোঝা এখনো হৃদরোগ, ক্যানসার ও দুর্ঘটনার মতো কারণগুলোর ওপর কেন্দ্রীভূত রয়েছে।


প্রকাশক: মঞ্জুর হোসেন

সম্পাদক: মিজানুর রহমান

House : 29, Road : 01 Sector : 02, Block :F Aftabnagar, Dhaka:1212 (Opposite China Building) E-mail : deshusdhaka@gmail.com (Advertising & News For Bangladesh)