রাজধানীর বুক থেকে নদী গায়েবের চেষ্টা রুখে দিল পরিবেশবাদিরা


সৈয়দ মাহবুব মোর্শেদ , আপডেট করা হয়েছে : 15-07-2026

রাজধানীর বুক থেকে নদী গায়েবের চেষ্টা রুখে দিল পরিবেশবাদিরা

রাজধানীর বুক থেকে এবার একটা নদী গায়েব করে ফেলার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তা রুখে দিয়েছে পরিবেশবাদিরা। পাশাপাশি নদী গায়েব করে ফেলার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-৮৮৩) দায়ের করা হয়েছে। 

দেশের বিশিষ্ট পরিবেশবাদী, নদী ও প্রাণ প্রকৃতি সুরক্ষা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘নোঙর বাংলাদেশ’ এর পক্ষ থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। এতে জানানো হয় যে, রাজধানীর বুকে ‘নড়াই নদীর নামফলক (সাইনবোর্ড) প্রকাশ্য দিবালোকে উধাও করে দেওর্য়া মধ্য দিয়ে গায়েবের ঘটনাটি ধরা পড়ে দেশের পরিবেশবাদীদের কাছে। এতে বলা হয় যে, রাজধানীর রামপুরা ও খিলগাঁও এলাকার পরিবেশ ও নদী রক্ষার প্রতীক ঐতিহাসিক ‘নড়াই নদীর নামফলক (সাইনবোর্ড) প্রকাশ্য দিবালোকে উধাও করে দিয়েছে অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতকারীরা। অথচ গত ২০২৩ সালের ১৪ অক্টোবর নড়াই নদী রক্ষায় সচেতনতা বাড়াতে মানববন্ধন এবং নৌ-র‌্যালির আয়োজন করা হয়েছিল। দেশের বিশিষ্ট পরিবেশবিদ ও নদীপ্রেমীদের উপস্থিতিতে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে এই নামফলকটি স্থাপন করা হয়, যা দীর্ঘ দিন ধরে এলাকার নদী রক্ষা ও পরিবেশগত সচেতনতার এক অনন্য প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে ছিল। কিন্তু গত ২৬ জুন সকাল ১০টার পর থেকে সাইনবোর্ডটি আর নির্দিষ্ট স্থানে দেখা যাচ্ছে না।

এতে পরিবেশের ওপর এমন নগ্ন হামলার প্রতিবাদে এবং নামফলকটি দ্রুত উদ্ধারের দাবিতে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন ‘নোঙর বাংলাদেশ’ ব্যানারে পরিবেশবাদিরা। এই পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার ১৩ জুলাই সন্ধ্যা ৭টায় নোঙর বাংলাদেশ এর প্রতিষ্ঠাতা ও কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সুমন শামস রাজধানীর রামপুরা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-৮৮৩) দায়ের করেছেন। জিডি গ্রহণের পর রামপুরা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে এসআই পলাশ কুমার ঘোষকে দ্রুত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানানো হয়। 

এব্যাপারে সুমন শামস বলেন, নদী ও পরিবেশের ওপর পরিকল্পিত আঘাত করা হয়েছে। তিনি বলেন, পরিবেশবাদীদের ধারণা, নড়াই নদীর অস্তিত্ব মুছে ফেলা এবং নদী দখলের হীন উদ্দেশ্যে কোনো স্বার্থান্বেষী মহল অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে এই চুরির ঘটনা ঘটিয়েছে। একটি নদীর নামফলক উপড়ে ফেলার অর্থ হলো-নদীটির নাম ও ইতিহাসকে সমাজ থেকে আড়াল করে দেওয়া, যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

সরকার ও গণমাধ্যমের প্রতি জরুরি আহ্বানে নড়াই নদী রক্ষায় এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে নোঙর ট্রাস্ট-এর চেয়ারম্যান সুমন শামস বলেন, নদীর নামফলক চুরি কেবল একটি সাইনবোর্ড চুরি নয়, এটি আমাদের নদী ও পরিবেশের ওপর এক ধরনের সন্ত্রাসী হামলা। নদীখেকো চক্রকে অবিলম্বে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। আমরা প্রশাসন ও সরকারের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি, অবিলম্বে এই চুরির নেপথ্যের নায়কদের খুঁজে বের করা হোক এবং নদীর সীমানা ও অস্থিত্ব রক্ষায় কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হোক। তিনি বলেন, নোঙর বাংলাদেশের পক্ষ থেকে গণমাধ্যম ও দেশের সচেতন নাগরিকদের এই নদী রক্ষার লড়াইয়ে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। ঢাকার বুক থেকে একে একে নদী ও খাল হারিয়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে নড়াই নদীর মতো একটি ঐতিহাসিক প্রবাহকে বাঁচাতে হলে এখনই প্রশাসনকে কঠোর হতে হবে। জনসাধারণের দাবি, রামপুরা থানা পুলিশ যেন দ্রুত তদন্ত শেষ করে দোষীদের গ্রেপ্তার করে এবং নড়াই নদীর বুকে আবারো সগৌরবে সেই সচেতনতার প্রতীক-নামফলকটি পুনঃস্থাপন করার ব্যবস্থা করে।


প্রকাশক: মঞ্জুর হোসেন

সম্পাদক: মিজানুর রহমান

House : 29, Road : 01 Sector : 02, Block :F Aftabnagar, Dhaka:1212 (Opposite China Building) E-mail : deshusdhaka@gmail.com (Advertising & News For Bangladesh)