ডিপোর্টেশন অভিযানে ৯ প্রাণহানি, প্রশ্ন উঠছে আইন প্রয়োগ নিয়ে


দেশ রিপোর্ট , আপডেট করা হয়েছে : 15-07-2026

ডিপোর্টেশন অভিযানে ৯ প্রাণহানি, প্রশ্ন উঠছে আইন প্রয়োগ নিয়ে

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন অভিযান শুরুর পর থেকে ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্ট কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্তত ৯ জনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ মেইনের বিডেফোর্ডে এক অভিবাসন এজেন্টের গুলিতে এক ব্যক্তির মৃত্যু এ তালিকায় যোগ হয়েছে। অভিবাসন অভিযানের সময় ঘটে যাওয়া এসব মৃত্যুর ঘটনায় সরকারি ভাষ্য নিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রত্যক্ষদর্শী, পরিবারের সদস্য এবং কিছু ক্ষেত্রে ভিডিও ফুটেজের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিবরণের সঙ্গে ভিন্ন তথ্য সামনে এসেছে। ঘটনাগুলোর মধ্যে রয়েছে পুলিশের গুলিবর্ষণ, সড়ক দুর্ঘটনা এবং অভিযানের সময় উচ্চতা থেকে পড়ে মৃত্যুর ঘটনা।

মেইনের বিডেফোর্ডে ১৩ জুলাইয়ের গুলির ঘটনা

মেইনের বিডেফোর্ডে ১৩ জুলাই এক ইমিগ্রেশন এজেন্টের গুলিতে ২৬ বছর বয়সী এক কলম্বিয়ান নাগরিক নিহত হন। কর্তৃপক্ষের দাবি, গ্রেফতারের চেষ্টার সময় ওই ব্যক্তি গাড়ি ব্যবহার করে কর্মকর্তাদের আঘাত করার চেষ্টা করেছিলেন।

মেইনের সিনেটর অ্যাঙ্গাস কিং জানান, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি ট্রয় এডগার মুলিন তাকে বলেছেন, ওই ব্যক্তি তার গাড়িকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে প্রত্যক্ষদর্শীদের কেউ কেউ এই বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছেন। তাদের দাবি, গাড়িটি ধীরে ধীরে চলছিল এবং কর্মকর্তাদের আঘাত করার চেষ্টা করছে বলে মনে হয়নি। ঘটনার তদন্ত করছে এফবিআই। মেইন স্টেট পুলিশও তদন্তে সহায়তা করছে।

লরেঞ্জো সালগাদো আরাউহো

টেক্সাসের হিউস্টনে গত ৭ জুলাই ইমিগ্রেশন অভিযানের সময় মেক্সিকোর নাগরিক লরেঞ্জো সালগাদো আরাউহো গুলিতে নিহত হন। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ জানায়, তিনি যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ কাগজপত্র ছাড়া অবস্থান করছিলেন এবং গ্রেফতার এড়ানোর চেষ্টা করেছিলেন। কর্মকর্তাদের দাবি, তিনি একটি গাড়ি দিয়ে একজন এজেন্টকে আঘাত করার চেষ্টা করলে আত্মরক্ষার্থে গুলি চালানো হয়। তবে তার পরিবার বলেছে, তিনি নির্মাণকাজের জন্য শ্রমিক খুঁজছিলেন এবং তখনই তাকে গুলি করা হয়। অভিবাসী অধিকার সংগঠন ও কয়েকজন ডেমোক্র‍্যাট আইনপ্রণেতা ঘটনার স্বাধীন তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

রুবেন রে মার্টিনেজ

টেক্সাসের সাউথ পাদ্রে আইল্যান্ডে মার্চ ২০২৫ সালে ২৩ বছর বয়সী মার্কিন নাগরিক রুবেন রে মার্টিনেজ ফেডারেল এজেন্টের গুলিতে নিহত হন। কর্তৃপক্ষের দাবি, ট্রাফিক থামানোর পর তিনি নির্দেশ মানেননি এবং গাড়ি দিয়ে একজন কর্মকর্তাকে চাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে তার পরিবারের দাবি, তিনি পুলিশের নির্দেশ মেনে চলার চেষ্টা করছিলেন। পরবর্তীতে একটি তথ্য অধিকার মামলার মাধ্যমে ঘটনার নথি প্রকাশ পায়।

অ্যালেক্স প্রেটি

মিনিয়াপোলিসে অভিবাসনবিরোধী অভিযানের প্রতিবাদ চলাকালে গত ২৪ জানুয়ারি ৩৭ বছর বয়সী মার্কিন নাগরিক অ্যালেক্স প্রেটি নিহত হন। তিনি মিনিয়াপোলিস ভেটেরান্স অ্যাফেয়ার্স মেডিকেল সেন্টারের একজন নিবিড় পরিচর্যা বিভাগের নার্স ছিলেন। ফেডারেল কর্মকর্তারা প্রথমে তাকে অস্ত্রধারী ও হুমকি হিসেবে বর্ণনা করলেও প্রত্যক্ষদর্শীর ভিডিও ও সাক্ষ্য সে দাবিকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। ভিডিওতে দেখা যায়, ঘটনার সময় তিনি মাটিতে পড়ে ছিলেন এবং তার হাতে একটি মোবাইল ফোন ছিল।

রেনে গুড

মিনিয়াপোলিসে অভিবাসন অভিযানের প্রতিবাদ চলাকালে গত ৭ জানুয়ারি আইসির এক কর্মকর্তার গুলিতে মার্কিন নাগরিক রেনে গুড নিহত হন। ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, গুলি চালানোর সময় তার গাড়ির চাকা কর্মকর্তার দিক থেকে ঘুরিয়ে নেওয়া হচ্ছিল। ট্রাম্প প্রশাসন দাবি করে, কর্মকর্তার জীবন ঝুঁকিতে ছিল। ঘটনার পর দেশজুড়ে প্রতিবাদ হয় এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শক্তি ব্যবহারের বিষয়ে প্রশ্ন ওঠে।

সিলভেরিও ভিলেগাস গনজালেস

শিকাগোর উপকণ্ঠে গত ১২ সেপ্টেম্বর মেক্সিকোর নাগরিক ৩৮ বছর বয়সী সিলভেরিও ভিলেগাস গনজালেস ইমিগ্রেশন অভিযানের সময় গুলিতে নিহত হন। তার পরিবার জানায়, সকালে শিশুকে ডে-কেয়ারে দিয়ে ফেরার পথে তিনি ঘটনাটির শিকার হন। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি দাবি করে, তিনি গ্রেফতার এড়ানোর চেষ্টা করেছিলেন এবং গাড়ি দিয়ে একজন কর্মকর্তাকে টেনে নিয়ে গিয়েছিলেন।

জেইমে আলানিস

দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার দুটি গাঁজা খামারে ইমিগ্রেশন অভিযানের সময় ৫৭ বছর বয়সী মেক্সিকান শ্রমিক জেইমে আলানিস প্রায় ৩০ ফুট (৯ মিটার) উচ্চতা থেকে পড়ে মারা যান। কর্তৃপক্ষ জানায়, তিনি তাদের হেফাজতে ছিলেন না। তবে পরিবারের সদস্যরা বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে কৃষি শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন এবং অভিযানের সময় লুকানোর চেষ্টা করছিলেন।

রবার্তো কার্লোস মন্টোয়া ভালদেজ

গুয়াতেমালার নাগরিক ৫২ বছর বয়সী রবার্তো কার্লোস মন্টোয়া ভালদেজ দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় অভিবাসন অভিযানের সময় সড়ক পার হওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে গাড়ির ধাক্কায় মারা যান।কর্তৃপক্ষ জানায়, তিনি সরাসরি এজেন্টদের ধাওয়া থেকে পালাচ্ছিলেন না। তবে ঘটনাটি অভিবাসন অভিযানের সময় ঘটেছে।

জোসুয়ে কাস্ত্রো রিভেরা

হন্ডুরাসের নাগরিক ২৪ বছর বয়সী জোসুয়ে কাস্ত্রো রিভেরা ভার্জিনিয়ার নরফোকে একটি ইমিগ্রেশন ট্রাফিক স্টপের সময় হাইওয়ে পার হওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে পিকআপ ট্রাকের ধাক্কায় নিহত হন। তার পরিবারের দাবি, তিনি কাজের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলেন। কর্তৃপক্ষ জানায়, গাড়ি থামানোর পর তিনি পায়ে হেঁটে পালানোর চেষ্টা করেছিলেন।

এসব ঘটনায় অভিবাসন অভিযান পরিচালনার পদ্ধতি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শক্তি প্রয়োগ, কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতা এবং স্বচ্ছতা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, অনেক ক্ষেত্রে এজেন্টরা আত্মরক্ষার্থে বা আইন প্রয়োগের অংশ হিসেবে ব্যবস্থা নিয়েছেন। অন্যদিকে অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলো বলছে, প্রতিটি প্রাণহানির ঘটনায় স্বাধীন ও স্বচ্ছ তদন্ত প্রয়োজন। ট্রাম্প প্রশাসনের ব্যাপক অভিবাসন অভিযান অব্যাহত থাকায় ভবিষ্যতে এসব ঘটনার তদন্ত, আইনি প্রক্রিয়া এবং নীতিগত প্রভাব নিয়ে আরো আলোচনা চলবে।


প্রকাশক: মঞ্জুর হোসেন

সম্পাদক: মিজানুর রহমান

House : 29, Road : 01 Sector : 02, Block :F Aftabnagar, Dhaka:1212 (Opposite China Building) E-mail : deshusdhaka@gmail.com (Advertising & News For Bangladesh)