বিপুল উৎসাহ্ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হলো নরসিংদী জেলা সমিতি ইউএসএ ইনকের বার্ষিক বনভোজন। গত ২৮ জুন নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ড কাউন্টির বেথপেইজ স্টেট পার্কের মনোরম পরিবেশে বনভোজনে নরসিংদীবাসীসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশের মানুষ উপস্থিত ছিলেন। বনভোজন উপলক্ষে সংগঠনের পক্ষ থেকে একটি উপকমিটি গঠন করা হয়, পাঁচ শতাধিক লোকের সমাগমের মাধ্যমে এ উপকমিটি একটি সফল সার্থক মহামিলন মেলায় পরিণত করেছেন।
বনভোজনে প্রধান অতিথি ছিলেন কুইন্স সোশ্যাল অ্যাডাল্ট ডে কেয়ারের প্রেসিডেন্ট ইঞ্জিনিয়ার মাহফুজুল হক। উদ্বোধক আইডিপিএসের প্রেসিডেন্ট আবুল কালাম খান, গেস্ট অব অনার নরসিংদী জেলা সমিতির সাবেক সভাপতি আহসান হাবিব, বিশেষ অতিখির মধ্যে ছিলেন রূপসী চাঁদপুর ফাউন্ডেশনের সভাপতি মাহাবুর রহমান, কুইন্স সোশ্যাল অ্যাডাল্ট ডে কেয়ারের কর্মকর্তা তানিয়া চোধুরী, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আকমল খান, বাংলাদেশ অ্যাসেম্বলি অব ইউএসএর প্রেসিডেন্ট শামিম হাসান। আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন-বাংলাদেশে শিল্পব্যাংকের সাবেক জিএম সাদেকুর রহমান ভূইয়া, শিবপুর শহিদ আসাদ কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ সেলিনা বেগম, ডিজিটাল গ্রাফিক্সের প্রেসিডেন্ট মনিরুল ইসলাম, ব্যাংক কর্মকর্তা নাবিদ আহমেদ, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সামসুল হক, রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী সেলিম রেজা, প্রধান পৃষ্ঠপোষক জাহিদুল হক খান অরুন, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য মোল্লা মনিরুজ্জামান মনির, আসাদুজ্জামান আসাদ, সাখাওয়াত হোসেন, প্রধান নির্বাচন কমিশন বুরুজ আফ্রাদ, কমিশনার মনিরা বেগম, এহসানুল করিম রাসেল, কমিউনিটি অ্যাকটিভিস্ট মানিক মিয়া, ফজলুল করিম, মতিন ভূঁইয়া।
সকাল ১০টায় সংগঠনের সভাপতি হারুন অর রশীদ, সাধারণ সম্পাদক গোলাম কিবরিয়া, সিনিয়র সহ-সভাপতি তরিকুল ইসলাম তুহিন, বনভোজন উপকমিটির আহ্বায়ক আলহাজ সহন ভূঁইয়া, সদস্য সচিব কামরুজ্জামান ভূঁইয়া, প্রধান সমন্বয়কারী বেলাল হোসেনসহ আমন্ত্রিত সব অতিথি, উপদেষ্টমণ্ডলীর সদস্য, সংগঠনের বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে বনভোজনটি উদ্বোধন করা হয়। সকাল ৯টা থেকে বনভোজনে আগত সবাইকে সকালের নাশতা পরিবেশন করা হয়, রকমারি নাশতার মধ্যে ছিল ক্রোসেন্ট, কলা, মিষ্টি জুস, সিঙ্গারা, পুরি, চা, তরমুজসহ অন্যান্য খাবার। দুপুর ১২টায় ছোটবড় সবার জন্য ছিল খেলাধুলা। বড়দের জন্য ফুটবল প্রতিযোগিতা। বনভোজনে আগত বাচ্চাদের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের খেলনাসামগ্রী বিতরণ করা হয়। যোহরের নামাজের বিরতির পর বাচ্চাদের বিনোদনের জন্য বিশেষ আকর্ষণ ছিল ব্রাউন ফেস আর্ট, ট্যাট্টু আঁকা, কটন ক্যান্ডি, বেলুন অ্যানিমেল। বনভোজনে সংগীত পরিবেশন করেন, প্রবাসের অত্যান্ত জনপ্রিয় ক্লোজ আপ ওয়ানের শিল্পি শশী, শিল্পি রোজী আজাদ, কে এম কবিরসহ সংগঠনের শিল্পীরা। বেলা ২টায় দুপুরের রকমারি খাবার পরিবেশন করা হয়। দুপুরের খাবারের পর মহিলাদের জন্য আকর্ষণীয় পিলো খেলা অনুষ্ঠিত হয়। পিলো খেলাতে প্রায় দুই শতাধিক মহিলা অংশগ্রহণ করেন। পিলো খেলায় অংশগ্রহণকারী সবাইকে সান্ত্বনা পুরস্কার প্রদান করা হয় এবং বিজয়ীদের মধ্যে বিশেষ পুরস্কার প্রধান করা হয়। বনভোজনে রাফেল ইভেন্টে ১০টি আকর্ষণীয় পুরস্কার প্রদান করা হয়। বনভোজনে রাফেল ড্র লটারিতে প্রথম পুরস্কার ছিল নগদ এক হাজার ডলার। ১ম পুরস্কারটি জিতেছেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সামসুল হক, দ্বিতীয় পুরস্কার ছিল আইফোন ১৪, তৃতীয় পুরস্কার ছিল ৬৫” এলইডি টেলিভিশন, বিজয়ী হয়েছেন অনুষ্ঠানের গেস্ট অব অনার আসান হাবীব। এছাড়াও আরো ৭টিসহ সর্বমোট ১০টি পুরস্কার ছিল। দুপুরের খাবার পর সবার জন্য ফিরনি, মিষ্টি, চা, পান সুপারী পরিবেশন করা হয়। একই সংগে ছিল স্পটে ভাজা সিঙ্গারা এবং পুরি, তরমুজ ইত্যাদি। বিকাল ৫টায় সংগঠনের পক্ষে থেকে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরুপ ১২ জনকে ক্রেস্ট প্রদান করা হয় ।
বনভোজন উপলক্ষে প্রতি বছরের মতো এবারও একটি স্মরণিকা ‘সোনাইমুড়ী টেক-৩’, নামে প্রকাশ করা হয়। স্মরণিকাটি সম্পাদনা করেন সম্পাদক ওবায়েদুর রহমান ভূঁইয়া ইমন, উপসম্পাদক কামাল হোসেন। সম্পাদক অতিথিবৃন্দ এবং সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে নিয়ে ম্যাগাজিন উদ্বোধন করেন এবং উপস্থিত সবার মধ্যে বিতরণ করেন।
বনভোজন সংগঠনের নেতৃবৃন্দের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন-সহ-সভাপতি বাবু সন্তোষ সাহা, তাজুল ইসলাম কামাল, সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান হাবিব, সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদ উজ জামান বাবু, আইন ও আন্তজার্তিক বিষয়ক সম্পাদক তোফাজ্জল হোসেন কাজী বাবুল, সমাজ কল্যাণ সম্পাদক আশরাফুল আজিজ মুরাদ, দফতর সম্পাদক মাসুম ভূঁইয়া, প্রচার সম্পাদক ফারুক মিয়া, মহিলা বিষয়ক সম্পাদীকা আয়েশা বেগম, কমিউনিটি অ্যাকটিভিস্ট আমিনুল হক, নুরুল হক, সংগঠনের আজীবন সদস্য নিলূফা রশীদ, পাপড়ী খান, জিনিয়া ভূঁইয়া, তাসনিয়া সুলতানা সুরভী, সদস্য রাশিদা রহমান, নাইমা সুলতানা, সরকার কামরুন নাহার কেয়া, ফরিদা ইয়াসমিন, আফরোজা জামান, মনিকা নাসরিন, মিনু বেগম, শিখা সাহা, শাম্মি আকতার, সালাম প্রমুখ। বিকাল ৬টায় তরিকুল ইসলাম তুহিনের সঞ্চালনায় সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন অনুষ্ঠানের অতিথি ও সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। বিভিন্ন খেলাধুলায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। বিকাল ৭টায় অনুষ্ঠানের বিশেষ আকর্ষণ র্যাফেল ড্র অনুষ্ঠিত হয় এবং সঙ্গে সঙ্গে বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। পুরস্কার বিতরণের পর সংগঠনের সভাপতি হারুন অর রশীদ উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে বনভোজনটি সমাপ্তি ঘোষণা করেন।