মেরিল্যান্ড স্টেটের অভিবাসন নীতির বিরুদ্ধে মামলা করেছে ইউ এস ডিপার্টমেন্ট অফ জাস্টিস। কেন্দ্রীয় সরকারের অভিযোগ, মেরিল্যান্ডের কিছু স্যাংচুয়ারি নীতি বা অভিবাসন সুরক্ষা আইন ফেডারেল অভিবাসন আইন কার্যকর করার ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করছে।
বিচার বিভাগের করা মামলায় মেরিল্যান্ড স্টেট এবং স্টেটের অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যান্থনি ব্রাউনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলায় বলা হয়েছে, মেরিল্যান্ডের কিছু আইন ও নীতি অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে ফেডারেল সরকারের প্রয়োগ কার্যক্রমকে সীমিত করছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস )-এর সঙ্গে সহযোগিতা বাধাগ্রস্ত করছে।
বিচার বিভাগের অভিযোগ অনুযায়ী, মেরিল্যান্ডের স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলো ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সহযোগিতা করতে অস্বীকৃতি জানানোয় কিছু ক্ষেত্রে আটক অভিবাসীদের ফেডারেল হেফাজতে স্থানান্তর করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্লাঞ্চের নির্দেশে বিচার বিভাগের সিভিল ডিভিশন বর্তমানে বিভিন্ন স্টেট ও স্থানীয় সরকারের এমন আইন, নীতি ও কার্যক্রম পর্যালোচনা করছে, যেগুলো ফেডারেল আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বা ফেডারেল কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
বিচার বিভাগের সহযোগী অ্যাটর্নি জেনারেল স্ট্যানলি উডওয়ার্ড বলেন, যখন কোনো স্যাংচুয়ারি জুরিসডিকশন অবৈধ অভিবাসীদের ফেডারেল আইন প্রয়োগকারী সংস্থার হাত থেকে রক্ষা করার জন্য আইন তৈরি করে, তখন শুধু ফেডারেল আইনই লঙ্ঘিত হয় না, বরং সাধারণ আমেরিকান ভোটারদের মতামতও উপেক্ষিত হয়।
মামলায় বিশেষভাবে মেরিল্যান্ডের কমিউনিটি ট্রাস্ট অ্যাক্ট -এর উল্লেখ করা হয়েছে। এই আইন মে মাসে কার্যকর হয়। আইনের অধীনে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সাধারণত আদালতের ওয়ারেন্ট ছাড়া কোনো ব্যক্তিকে শুধু আইসের অনুরোধে আটক রাখতে পারে না। তবে গুরুতর অপরাধ বা যৌন অপরাধে অভিযুক্তদের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে। মেরিল্যান্ডের এ আইন নিয়ে স্টেটের বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা আগে থেকেই আপত্তি জানিয়ে আসছেন। স্টেটের ২৪টি কাউন্টির মধ্যে ১৭ জন শেরিফ এ আইনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।
তাদের অভিযোগ, কমিউনিটি ট্রাস্ট অ্যাক্ট স্থানীয় ও ফেডারেল কর্মকর্তাদের মধ্যে সহযোগিতা কমিয়ে দিচ্ছে এবং জননিরাপত্তার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। শেরিফদের মতে, আইনটি অপরাধীদের ফেডারেল অভিবাসন কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের ক্ষেত্রে বাধা তৈরি করছে।
বিচার বিভাগ তাদের মামলায় যুক্তি দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের সর্বোচ্চ আইন ধারা অনুযায়ী ফেডারেল আইন স্টেটের আইনের ওপর প্রাধান্য পায়। তাই কোনো স্টেট এমন নীতি গ্রহণ করতে পারে না যা কংগ্রেস বা প্রেসিডেন্টের অধীনে পরিচালিত ফেডারেল কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করে। ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস বলছে, মেরিল্যান্ডের নীতিগুলো ফেডারেল অভিবাসন আইন বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টি করছে এবং এর ফলে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর কাজ কঠিন হয়ে যাচ্ছে।
ট্রাম্প প্রশাসন ক্ষমতায় আসার পর অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ এবং ফেডারেল অভিবাসন আইন কঠোরভাবে কার্যকর করার ওপর জোর দিচ্ছে। এর অংশ হিসেবে প্রশাসন স্যাংচুয়ারি নীতির বিরুদ্ধে বিভিন্ন রাজ্য ও শহরের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিচ্ছে। অন্যদিকে অভিবাসন অধিকার সংগঠনগুলো বলছে, স্থানীয় আইনগুলো মূলত অভিবাসীদের অধিকার রক্ষা এবং স্থানীয় পুলিশের সঙ্গে জনগণের আস্থা বজায় রাখার জন্য তৈরি করা হয়েছে।