অভিবাসন এজেন্টদের বাধা, দোষী সাব্যস্ত সাবেক বিচারক


দেশ রিপোর্ট , আপডেট করা হয়েছে : 15-07-2026

অভিবাসন এজেন্টদের বাধা, দোষী সাব্যস্ত সাবেক বিচারক

যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিন স্টেটের সাবেক বিচারক হান্নাহ সি. ডাগানকে অভিবাসন কর্মকর্তাদের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করার পর আদালত কারাদণ্ড না দিয়ে ৫ হাজার ডলার জরিমানা করেছেন। অভিযোগ ছিল, তিনি একটি অননুমোদিত অভিবাসীকে ফেডারেল ইমিগ্রেশন এজেন্টদের হাত থেকে এড়িয়ে যেতে সহায়তা করেছিলেন।

মিলওয়াকি কাউন্টি সার্কিট কোর্টের সাবেক বিচারক ডাগানের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে যে, ২০২৪ সালে তার আদালতে হাজির হওয়া মেক্সিকোর নাগরিক এডুয়ার্ডো ফ্লোরেস-রুইজকে তিনি আদালতের সাধারণ প্রবেশপথের পরিবর্তে একটি পাশের দরজা দিয়ে বের হয়ে যেতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। সেই সময় ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তারা আদালতের বাইরে ওই ব্যক্তিকে গ্রেফতারের জন্য অপেক্ষা করছিলেন।

ফ্লোরেস-রুইজের বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতার অভিযোগ ছিল এবং তাকে গ্রেফতারের জন্য ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস)-এর কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। আদালত ভবন থেকে বের হতে পারলেও পরে কাছাকাছি এলাকায় ধাওয়া করার পর তাকে গ্রেফতার করা হয়। কয়েক মাস পর তাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করা হয়।

গত বছর ফেডারেল জুরি হান্নাহ ডাগানকে ফেডারেল কর্মকর্তাদের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে। এই অপরাধে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। তবে ৯ জুলাই বুধবারের শুনানিতে ফেডারেল বিচারক লিন অ্যাডেলম্যান তাকে জেলে না পাঠিয়ে জরিমানা দেওয়ার নির্দেশ দেন।

ডাগান আদালতে নিজের পক্ষে বক্তব্য দিয়ে বলেন, গত এক বছরের বেশি সময় ধরে তার বিরুদ্ধে হওয়া মামলাটি রাজনৈতিক বিতর্কের অংশ হয়ে গেছে। তিনি বলেন, তাকে কখনো আইন ভঙ্গকারী আবার কখনো নায়ক হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে, কিন্তু তিনি নিজেকে একজন সরকারি কর্মচারি হিসেবে দেখেন, যিনি নিজের দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করেছেন।

তিনি বলেন, আমি একজন জনসেবক, যিনি শুধু নিজের কাজ করার চেষ্টা করছিলাম। তিনি বলেন, ভারাক্রান্ত হৃদয়ে আজ আমি একজন আসামি হিসেবে আদালতের সামনে দাঁড়িয়েছি। ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস আদালতের রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। বিচার বিভাগ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ডাগানকে কারাদণ্ড না দেওয়ার সিদ্ধান্তের সঙ্গে তারা একমত নয় এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য সম্ভাব্য সব বিকল্প পর্যালোচনা করছে। মামলার শুনানিতে প্রসিকিউটররা যুক্তি দিয়েছিলেন, ডাগান বিচারকের ক্ষমতা ব্যবহার করে ফেডারেল কর্মকর্তাদের বৈধ কার্যক্রমে বাধা দিয়েছেন। তাদের মতে, এটি ছিল গুরুতর অপরাধ এবং এর জন্য কঠোর শাস্তি প্রয়োজন।

প্রসিকিউটররা আদালতে ১৫ থেকে ২১ মাসের কারাদণ্ডের সুপারিশ করেছিলেন। তারা বলেন, একজন বিচারক হিসেবে ডাগানের দায়িত্ব ছিল আইনকে সমর্থন করা, কিন্তু তিনি ফেডারেল এজেন্টদের কাজ বাধাগ্রস্ত করেছেন।

তবে বিচারক অ্যাডেলম্যান বলেন, কারাদণ্ড প্রয়োজনীয় নয়। তিনি ডাগানকে ‘মূলত একজন ভালো মানুষ’ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং বলেন, অভিবাসন কার্যক্রম নিয়ে তার উদ্বেগের কারণে তিনি মুহূর্তের মধ্যে একটি ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। ডাগানের আইনজীবীরা আদালতে যুক্তি দেন, তিনি ইতোমধ্যে বিচারকের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন, তার কোনো পূর্ব অপরাধের ইতিহাস নেই এবং ভবিষ্যতে একই ধরনের ঘটনা ঘটার সম্ভাবনাও নেই। তারা বলেন, বিচারক পদ হারানোই তার জন্য বড় পরিণতি।

আইনজীবীরা আরো অভিযোগ করেন, বিচার বিভাগ ও এফবিআইয়ের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা ডাগানকে দেশজুড়ে রাজনৈতিকভাবে অপমান করেছেন।

দোষী সাব্যস্ত হলেও ডাগান সম্ভবত তার সরকারি পেনশন সুবিধা ধরে রাখতে পারবেন। উইসকনসিনের আইন অনুযায়ী, অপরাধে দোষী সাব্যস্ত সাবেক সরকারি কর্মচারিরাও সাধারণত পেনশন সুবিধা বজায় রাখতে পারেন।

তার আইনজীবী হিসেবে কাজ করার লাইসেন্সও এখনো সক্রিয় রয়েছে। তবে কোনো আইনজীবী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলে তাকে রাজ্য কর্তৃপক্ষকে জানাতে হয় এবং ভবিষ্যতে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। হান্নাহ ডাগানের মামলা ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতি বাস্তবায়নে বাধা দেওয়ার অভিযোগে রাজ্য ও স্থানীয় কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নেওয়া বৃহত্তর পদক্ষেপের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।


প্রকাশক: মঞ্জুর হোসেন

সম্পাদক: মিজানুর রহমান

House : 29, Road : 01 Sector : 02, Block :F Aftabnagar, Dhaka:1212 (Opposite China Building) E-mail : deshusdhaka@gmail.com (Advertising & News For Bangladesh)