নিউইয়র্কের কুইন্সে ৩৯-১৮ ৪৭ অ্যাভিনিউয়ে অবস্থিত সানিসাইড মুসলিম সেন্টার মসজিদে গুলি চালানোর হুমকি দিয়েছে এক দুর্বৃত্ত। গত ৭ জুলাই মসজিদ কর্তৃপক্ষ একটি ভয়েসমেইলে এ হুমকি পাওয়ার বিষয়টি প্রকাশ করে। হুমকিদাতা জানায়, তিন দিন পর শুক্রবার জুমার নামাজের সময়, যখন মসজিদে সবচেয়ে বেশি মুসল্লির সমাগম হয়, তখন হামলা চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এরপরই বিষয়টি নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের ১০৮তম প্রিসিঙ্কটে জানানো হয় এবং পুলিশ তদন্ত শুরু করে। জুমার নামাজের আগে পাওয়া এ হুমকির ঘটনায় কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনসের (কেয়ার)-এর নিউইয়র্ক শাখা ঘটনাটিকে সম্ভাব্য বিদ্বেষমূলক বা হেট ক্রাইম অপরাধ হিসেবে তদন্তের দাবি জানিয়েছে। পাশাপাশি মুসল্লিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের আহ্বান জানানো হয়েছে।
মসজিদ কর্তৃপক্ষ জানায়, তারা একটি ভয়েসমেইল পান, যেখানে এক ব্যক্তি নিজের নাম ও বাড়ির ঠিকানা উল্লেখ করে মসজিদে ঢুকে প্রত্যেক মুসলিমকে গুলি করবে বলে হুমকি দেয়। তারা জানান, শুক্রবার জুমার নামাজের সময়, যখন মসজিদে সবচেয়ে বেশি মুসল্লির সমাগম হয়, তখনই হামলা চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে তার। হুমকি পাওয়ার পরপরই বিষয়টি নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের ১০৮তম প্রিসিঙ্কটে জানানো হয়। পুলিশ ঘটনাটির তদন্ত শুরু করেছে এবং হুমকিদাতার পরিচয় ও উদ্দেশ্য যাচাই করছে।
কেয়ার নিউ ইয়র্কের এর নির্বাহী পরিচালক আফাফ নাশের বলেন, এই হুমকি মুসলমানদের ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে এবং একটি উপাসনালয়কে লক্ষ্য করে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, এটি শুধু একটি মসজিদের বিরুদ্ধে নয়, বরং ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত। তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি ঘটনাটি হেইট ক্রাইম হিসেবে তদন্ত করার, মসজিদ ও মুসল্লিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার এবং দায়ী ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানান।
সানিসাইড মুসলিম সেন্টারের ইমাম ইউসুফ চৌধুরী বলেন, আমাদের মসজিদের বিরুদ্ধে এই সহিংস হুমকি শুধু আমাদের কমিউনিটির নয়, সব ধর্মীয় উপাসনালয়ের জন্যই উদ্বেগের বিষয়। তিনি দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য এনওয়াইপিডির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতেও মসজিদ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অধিকারকর্মীরা বলছেন, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে মসজিদ ও মুসলিম প্রতিষ্ঠানগুলোকে লক্ষ্য করে একের পর এক হুমকির ঘটনা ঘটছে। এর ফলে অনেক মুসল্লি জুমার নামাজে অংশ নেওয়ার আগে নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ছেন।
কেয়ার-এর মতে, ধর্মীয় উপাসনালয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা শুধু আইনশৃঙ্খলার বিষয় নয়, এটি সংবিধানস্বীকৃত ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষারও একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। সংগঠনটি বলছে, এ ঘটনা প্রমাণ করবে যে মুসলিম সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আসা সহিংস হুমকিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কতটা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে এবং কোনো সহিংসতা ঘটার আগেই কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিতে পারে কি না।
ঘটনার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। এখন পর্যন্ত পুলিশ কোনো গ্রেফতারের তথ্য প্রকাশ করেনি এবং মসজিদে হুমকিদাতা ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগও দায়ের করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি। তবে জুমার নামাজকে কেন্দ্র করে মসজিদের নিরাপত্তা বাড়াতে এনওয়াইপিডি পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।