এতো প্রশংসিত রাষ্ট্রপতিকে কেনো তড়িঘড়ি চলে যেতে হলো?


সৈয়দ মাহবুব মোর্শেদ , আপডেট করা হয়েছে : 29-07-2026

এতো প্রশংসিত রাষ্ট্রপতিকে কেনো তড়িঘড়ি চলে যেতে হলো?

রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মো. সাহাবুদ্দিন। জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে সব আলোচনার অবসান ঘটানো হলো গত ২৪ জুলাই শুক্রবার। মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রায় পৌনে দুই বছর আগেই রাষ্ট্রপতির পদ ছাড়লেন মো. সাহাবুদ্দিন। এক সপ্তাহ হয়ে গেলেও রাষ্ট্রপতির মো. সাহাবুদ্দিন এই পদত্যাগ নিয়ে অনেক গুঞ্জন-উৎকণ্ঠা কাজ করে সারাদেশে। সবার মনে নানান ধরনের প্রশ্ন দেখা দেয় কি হচ্ছে? কি হতে যাচ্ছে? কেনোইবা সরকারকে এইধরনের সিদ্ধান্ত নিতে হলো? রাজনীতির মাঠে এসব নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে। এতো প্রশংসিত রাষ্ট্রপতিকে কেনো তড়িঘড়ি চলে যেতো হলো?

পদত্যাগপত্রে কী লিখলেন মো. সাহাবুদ্দিন?

২৪ জুলাই শুক্রবার বিকেলে পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করে রাষ্ট্রপতির মো. সাহাবুদ্দিন বেশ দৃঢতার সাথেই বলেন, ‘এটা তো সর্বজনবিদিত, আমার মুখ থেকে শুনে কী লাভ? আই অ্যাম সিক, সো ইট ইজ ডান।’ অন্যদিকে পদত্যাগপত্রে লেখার চুম্বক অংশে তিনি বলেছেন, ‘তার সুদৃঢ় ও ইতিবাচক ভূমিকার কারণে দেশে কোনো সাংবিধানিক বিপর্যয় ঘটেনি।’ এছাড়া জানিয়েছেন যে, ‘তিনি গুরুতর অসুস্থ। হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনি জটিলতায় ভুগছেন। জানিয়েছেন হৃদযন্ত্রে বাইপাস সার্জারি হয়েছে। তারপরে উল্লেখ করেছেন যে, তার ‘অটোনমিক নিউরোপ্যাথিক’ রোগ শনাক্ত হয়েছে। একে করে তিনি মাঝে মাঝে ক্ষণিক অচেতন হয়ে যান। রোগসমূহের প্রাদুর্ভাবে শারীরিক ও মানসিক অসামর্থ্যতার কারণে রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদের দায়িত্ব পালন করা তার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। তার দীর্ঘমেয়াদে চিকিৎসা প্রয়োজন। এমতাবস্থায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে দেওয়ার পদত্যাগপত্র সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী তিনি রাষ্ট্রপতির পদ হতে পদত্যাগ করেন।’

কে কি বললেন?

সদ্য পদত্যাগী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নেতারা। দলটির দাবি, রাষ্ট্রপতির পদ থেকে সরে যাওয়ার পর তার কোনো আইনগত দায়মুক্তি নেই। তাই তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করতে হবে। অন্যদিকে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগকে ‘স্বৈরাচারের কালো ছায়া’র বিদায় বলে আখ্যা দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। দলটির আমির এবং বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘দেরিতে হলেও জাতির ঘাড় থেকে স্বৈরাচারের একটা কালো ছায়া সরে গেল।’ এর পাশাপাশি শফিকুর রহমান বলেন, ‘তিনি কী কারণে পদত্যাগ করেছেন এ বিষয়ে আমাদের কোনো আগ্রহ নেই। কারণ আমরা আগে থেকেই বিবেচনায় নিয়েছি যে, তিনি রাষ্ট্রপতি পদে থাকার আর যোগ্য নন, তিনি তাঁর যোগ্যতা হারিয়েছেন।’

সরকারি দলের নেতারা যা বললেন

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের খবর জানাতে সংবাদ সম্মেলনে তাকে নিয়ে নিজের মূল্যায়ন তুলে ধরেছেন ওই সময়ের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, মো. সাহাবুদ্দিন ‘মাফিয়া সরকারের আমলে’ রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলেও বর্তমানে জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের প্রতি তিনি সব সময় সমর্থন ও শ্রদ্ধা প্রকাশ করেছেন। রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ ইস্যুতে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি বিএনপি। দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ স্থায়ী কমিটির সদস্যরা এ নিয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করতে চাননি। তবে এক প্রতিক্রিয়ায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, আমরা এটিকে (রাষ্ট্রপতির পদ) কোনো ব্যক্তির বিষয় হিসেবে দেখি না, বরং একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখি। আমরা দেখেছি, তিনি যথাযথ মর্যাদার সঙ্গে তাঁর দায়িত্ব পালন করেছেন এবং তিনি আমাদের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে পূর্ণ সহযোগিতা করেছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রপতির পদটিকে বিএনপি কোনো ব্যক্তির মাধ্যমে নয়, বরং রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবেই বিবেচনা করে এসেছে।

সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান গণমাধ্যমে বলেছেন, রাষ্ট্রপতির পদ থেকে সদ্য পদত্যাগ করা মো. সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় ব্যাংক আলাদা কোনো অনুসন্ধান চালাবেন না। তবে তাঁর বিরুদ্ধে নতুন করে কোনো তদন্ত না হলেও পুরনো কোনো ঘটনায় সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এর পাশাপাশি তিনি বলেন, মো. সাহাবুদ্দিন সাংবিধানিকভাবে দেশের সর্বোচ্চ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাই তাঁকে লক্ষ্য করে ব্যক্তিগতভাবে আলাদা কোনো অনুসন্ধান বা তদন্ত পরিচালনার পরিকল্পনা নেই।

গুঞ্জন কি ছিল?

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগর আগে নানান ধরনের গুঞ্জনে বাতাস ভারী হচ্ছিল। সবার মধ্যে একটা ধারণা বদ্ধমূল হয় যে, এই জুলাইতেই বিদায় নিচ্ছেন তিনি। তবে এসব গুঞ্জনের পেছনে কিছু একটা কাজ করেছে। সর্বশেষ গুঞ্জন উঠে যে যখন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৬ সালের মে মাসে চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য লন্ডন সফর করেন। সেখানে তিনি কোনো এক ফাঁক ফোকড় বের করে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। কেউ কেউ এমন সংবাদ পরিবেশন করে যে তিনি চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যে অবস্থান করলেও তিনি আসলে পরিবারসহ সরকারি খরচে যুক্তরাজ্যের লন্ডনে গেছেন। এবং সেখানে শপিং এ ব্যস্ত ছিলেন। একথা ঠিক যে শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুত কিছুদিন পরেই একটি গণমাধ্যমে এই রাষ্ট্রপতি গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকারে বিতর্কের ঝড় তুলে। কেননা ৫ আগস্ট জাতির উদ্দেশে ভাষণে তিনি বলেছিলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন এবং তিনি তা গ্রহণ করেছেন। কিন্তু পরে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, শেখ হাসিনার পদত্যাগের কোনো প্রামাণ্য কপি তার হাতে ছিল না এবং তিনি তা সংগ্রহ করতে পারেননি। এসব কারণের পাশাপাশি আওয়ামী লীগ আমলের এই রাষ্ট্রপতি রাজনৈতিক মহলের একটি অংশ পদে পদে সন্দেহ অবিশ্বাস করে তার পদত্যাগ দাবি করে আসছিল?

ডিসেম্বরে শেখ হাসিনা

এদিক একটি মহল মনে করেন, আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানিয়েছেন, তিনি চলতি বছরের ডিসেম্বর নাগাদ দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণ করার পরিকল্পনা করছেন। কারো কারো কারো মতে, এবিষয়টি আমলে নিয়েই সরকার তাকে সরিয়ে দিয়েছে।

গুঞ্জনের বিশ্লেষণ

প্রথমতা আসা যাক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকার প্রসঙ্গে। এতে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তিনি চলতি বছরের ডিসেম্বর নাগাদ দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণ করার পরিকল্পনা করছেন। কিন্তু প্রম্ন হচ্ছে শেখ হাসিনাকে কি প্রয়োজনে এখনই বাংলাদেশে ছেড়ে দেবেন? এর কি কি আনুষ্ঠানিকতা চোখে পড়েছে? ভারতই-বা কেনো বাংলাদেশে পাঠাবে আর বাংলাদেশ সরকারই বা কেনো তাকে এখন দেশে নিয়ে আসবে। দেশে এখন কি পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছে যে ভারত হাসিনাকে পাঠিয়ে তাদের ব্যাপারে বাংলাদেশের মানুষের ক্ষোভ আরও বাড়াবে? কেননা এমনিতেই বিশ্বে বৃহৎ গণতান্ত্রিক দেশ বলে দাবিদার ভারত শেখ হাসিনার আমলে অনুষ্ঠিত সব অগণতান্ত্রিকভাবে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনকে ঢালাওভাবে সমর্থন দিয়ে দুর্নাম কুড়িয়েছে। এখন সেই শেখ হাসিনাকে দেশে আনার তাদের কি প্রয়োজনই বা আছে? কেননা বর্তমান সরকারের কোন পদক্ষেপ ভারতের প্রতিকূলে যাচ্ছে? তবে ড. ইউনুসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে ভারতের সাথে সম্পর্ক তলানিতে পৌঁছায়। এখন তা অনেক স্বাভাবিক পর্যায়ে রয়েছে বলে অনেকেই মনে করেন। এবিষয়ে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকমহল মনে করেন, ভারত সরকারের কৌশলগত ইঙ্গিত ছাড়া শেখ হাসিনা কখনেই বাংলাদেশে ফিরতে পারবে না। কোনো কোনো ক্ষেত্রে আরও উঁচুপর্যায়ে রয়েছে বলে কূটনৈতিক মহলের দাবি। যার উদাহরণ মেলে পাওয়া মেলে আগামী ১২-১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ১৮তম ব্রিকস সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে যোগদানের জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এতো আগে আমন্ত্রণের বিষয়টি কূটনৈতিক মহলে বেশ ইঙ্গিতবহ। এই আমন্ত্রণের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন মাত্রা যোগ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই এই সময়ে সাবেক ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনাকে নিয়ে ভারত দেনদরবার করবে? কূটনৈতিক মহল এমন ইঙ্গিত দেয় না। তাই ডিসেম্বরে হাসিনা দেশে ফিরবেন এমন সাদামাটা ধারণায় সরকার রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে- এটা কারো কাছে গ্রহণযোগ্য কৌশল বলে মনে হয় না। তাছাড়া রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পরেও তাকে বিএনপির নেতারা যেভাবে সমর্থন করে বক্তব্য দিয়েছেন সেটিও বেশ দেখার মতো। সর্বশেষ গত ২৬ জুলাই রোববার চট্টগ্রামে একটি অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের বক্তব্য আরও ইঙ্গিতপূর্ণ। তিনি বলেছেন, সদ্য পদত্যাগ করা রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিনের বিষয়ে সরকার সবকিছু যাচাই-বাছাই করে সঠিক সময়ে সিদ্ধান্ত নেবে। তিনি বলেন, জনদাবিকে গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি কেউ যেন অন্যায়ের শিকার না হয়, সেদিকেও নজর রাখা হবে। অন্যদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ এই রাষ্ট্রপতির সহযোগিতা পেয়েছেন বলে একধরনের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। সময়কাল উল্লেখ করে তিনি জানালেন, স্বৈরাচার সরকারের শেষ দিক, অন্তর্বর্তী সরকারের পুরোটা এবং বর্তমান রাজনৈতিক সরকারের এই প্রায় পাঁচ-ছয় মাসের এই সময়ে সাহাবুদ্দিন সাংবিধানিকভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এবং বিধিবিধান অনুযায়ীই করেছেন। আমরা রাষ্ট্রপতির সহযোগিতা পেয়েছি। এর আগে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ তো বলেই ফেলেছেন যে, মো. সাহাবুদ্দিন ‘মাফিয়া সরকারের আমলে’ রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলেও বর্তমানে জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের প্রতি তিনি সব সময় সমর্থন ও শ্রদ্ধা প্রকাশ করেছেন। ফলে ওই রাষ্ট্রপতির দ্বারা কোনো গোপন ষড়যন্ত্রের কারণে তাকে সড়ে যেতে হয়েছে বলে বিএনপির শীর্ষ নেতাদের কথা বার্তায় মনে হয় না। 

রাষ্ট্রপতি এতো সমর্থনেরও কারণ রয়েছে

একটি সূত্র জানায়, ক্ষমতায় থাকলে ও সরকার চালাতে এবং শেখ হাসিনার পতনের পরে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে বিএনপি রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ক্ষেত্রে বেশ বেকায়দায় ছিল। তাই বিভিন্ন ইস্যু ও সুদূর ভবিষ্যতর কথা মাথায় রেখে কৃতজ্ঞতা স্বীকার করে বিএনপি রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ব্যাপারে ইতিবাচক মন্তব্য করে যাচ্ছেন। তাছাড়া কারো কারো মতে, এই ধররনের সহযোগিতাকে অস্বীকার করলে বর্তমানে ও ভবিষ্যত বিভিন্ন ক্ষেত্রে এই সরকারের ব্যাপারে উচ্চ পর্যায়ে আসীন অনেকের মধ্যে সন্দেহ আস্থাহীনতা দেখা দেবে। সে-ই জন্যে বিএনপি রাষ্ট্রপতিকে এতোটা অন্যরকম সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে। 

আবেগের জায়গা থেকেও সরকার

কারো কারো মতে, মাসটা চলছে জুলাই। সামনে রয়েছে ৫ আগস্ট। রাষ্ট্রীয়ভাবে ৫ আগস্ট জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস। অন্যদিকে দেশে একটি নির্বাচিত সরকার ক্ষমতাসীন। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের দিন ৫ আগস্ট। এই সময়ে ফ্যাসিস্ট আমলে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন থেকে গেলে এতে বিএনপির রাজনৈতিক দৈনতা প্রকাশ পাবে। সমালোচিত হবে এই বলে যে এখনো বিএনপি একজন রাষ্ট্রপতি পচ্ছে না। কারো কারো মতে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আকতরে যারা অংশ নিয়েছিল তাদের মধ্যেও একধরনের অপমানবোধ কাজ করবে মনে করে বিএনপি এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলের একটি বড়ো অংশ মনে করেন। 

তার পরেও কিছু প্রশ্ন থেকেই যা

এতো কিছুর পরেও রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগের পেছনে কিছু সন্দেহ থেকেই যায়- যখন দেখা যায় চীন সফর শেষে দেশে ফিরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কিন্তু প্রথা অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সাথে সাক্ষাৎ করনেনি। অন্যদিকে তার পদত্যাগপত্রটি ভালোভাবে দেখলে দেখা যাবে যে তিনি একটি স্পর্শকাতর সময়ে পদত্যাগ পত্রে ‘আসসালামু আলাইকুম। ধন্যবাদান্তে’ লেখাগুলি টাইপের বদলে নিজ হাতের লেখায় কেনো চালিয়ে দিতে হলো সে-টি নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি করেছে। সময় কি এতো কম ছিলো যে পদত্যাগ পত্র সংশোধন করা যাচ্ছিল না? কেননা ওই পদত্যাগ পত্রে দেখা গেলো দু’টি বাক্যকে হাতে লিখে দিতে হলো? দেখা গেছে আসসালামু আলাইকুম। ধন্যবাদান্তে লেখাগুলি স্বহস্তে। স্বাক্ষর মেনে নেয়া গেলেও ওই শব্দগুলি কেনো হাতে লিখে দিতে হলো? নিজের নাম-সাহাবুদ্দিন ও তারিখ হাতের লেখা- নিয়ে কারো সন্দেহের তেমন উদ্বেগ অবশ্য হয়নি। এছাড়া আরেকটি বিষয় রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ শুক্রবারই করতে হবে বলে কেনো এতো তড়িঘড়ি সব আয়োজন করতে হয়েছে? কেনোই বা জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদকে গত ২৪ জুলাই শুক্রবারই থাইল্যান্ডের ব্যাংকক থেকে নির্ধারিত সময়ের দুই দিন আগে ঢাকায় ফিরতে হয়েছে। তাই রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ব্যাপারে বিএনপির শীর্ষ নেতারা যতোই ইতিবাচক বক্তব্য দিক না কোনো এ প্রশ্নগুলি চলে আসবেই।


প্রকাশক: মঞ্জুর হোসেন

সম্পাদক: মিজানুর রহমান

House : 29, Road : 01 Sector : 02, Block :F Aftabnagar, Dhaka:1212 (Opposite China Building) E-mail : deshusdhaka@gmail.com (Advertising & News For Bangladesh)