২০২৫ সাকের জানুয়ারি মাসে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় ফেরার পর তার অন্যতম প্রধান নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল ব্যাপক অভিবাসন বহিষ্কার অভিযান। ক্ষমতা গ্রহণের পর প্রশাসন দেশজুড়ে অভিবাসন আইন প্রয়োগের পদ্ধতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে। ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট এবং কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন (সিবিপি)-এর সর্বশেষ তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, ট্রাম্প প্রশাসনের সময় অভিবাসন গ্রেফতার, আটক এবং বহিষ্কারের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০২৫ সালের ২৮ জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ১১ জুলাই পর্যন্ত সময়ের হিসাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন প্রয়োগ কার্যক্রমে বড় ধরনের বৃদ্ধি দেখা গেছে।
সংখ্যায় ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন অভিযান
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসনের সময় ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট ও কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন (সিবিপি) মিলে মোট ৫ লাখ ৮২ হাজার ৪০ জনকে গ্রেফতার করেছে। ২০২৬ সালের ৪ এপ্রিলের তুলনায় এ সংখ্যা বেড়েছে ১ লাখ ২৩ হাজার ৫৯০ জন। একই সময়ে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের হেফাজতে রয়েছেন প্রায় ৬৫ হাজার ৭৭০ জন অভিবাসী। ৪ এপ্রিলের তুলনায় আটক ব্যক্তির সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৫ হাজার ৪৫০ জন।
অন্যদিকে ২০২৫ সালের জানুয়ারির শেষ থেকে ২০২৬ সালের ১১ জুলাই পর্যন্ত ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের তথ্য অনুযায়ী, মোট ৫ লাখ ৯০ হাজার ৬০০ জনকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। আগের হিসাবের তুলনায় এ সংখ্যা বেড়েছে ১ লাখ ২২ হাজার ১৫০ জন। তবে গ্রেফতার, আটক এবং বহিষ্কারের সংখ্যা একে অপরের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কযুক্ত নয়। একজন ব্যক্তি গ্রেফতার হলেও তাকে সবসময় আটক কেন্দ্রে রাখা হয় না, আবার কেউ কেউ আটক ছাড়াই বহিষ্কারের প্রক্রিয়ায় যেতে পারেন।
ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট ও সিবিপির গ্রেফতার কার্যক্রম
ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতিতে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে অভ্যন্তরীণ অভিবাসন আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে। ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট এবং কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন যৌথভাবে দেশজুড়ে অভিযান পরিচালনা করছে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শুরু থেকে গ্রেফতারের সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এ গ্রেফতারের মধ্যে সীমান্তে আটক ব্যক্তি এবং যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে পরিচালিত অভিযানে ধরা পড়া ব্যক্তিরা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।
ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের গ্রেফতার তথ্য মূলত গ্রেফতারকারী সংস্থা ও মাস অনুযায়ী প্রাথমিক কারাবন্দি নিবন্ধন (বুক-ইন) সংখ্যা রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। তবে এই সংখ্যা কিছুটা কম হতে পারে, কারণ সংস্থাটি সাধারণত সেইসব গ্রেফতার হিসাব করে যেগুলোর পর ব্যক্তি তাদের হেফাজতে প্রবেশ করেন।
বর্তমানে কতজন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের হেফাজতে?
২০২৬ সালের ১১ জুলাই পর্যন্ত ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের হেফাজতে ছিলেন প্রায় ৬৫ হাজার ৭৭০ জন।তথ্য অনুযায়ী, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের অভিবাসন ও অপরাধমূলক ইতিহাস রয়েছে। কেউ কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড ছাড়াই আটক রয়েছেন, কেউ অপরাধের রেকর্ডসহ, আবার কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ বিচারাধীন রয়েছে।
অভিবাসন অধিকার সংগঠনগুলো বলছে, আটক কেন্দ্রের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদি আটক অভিবাসী পরিবারগুলোর ওপর বড় ধরনের সামাজিক ও অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করছে। অন্যদিকে প্রশাসনের সমর্থকদের দাবি, যাদের বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ রয়েছে বা যারা অভিবাসন আইন লঙ্ঘন করেছেন, তাদের আটক করা জননিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয়।
বহিষ্কারের সংখ্যা ৫ লাখ ৯০ হাজার ছাড়িয়েছে
ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসনের সময় যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কারের সংখ্যা ৫ লাখ ৯০ হাজার ৬০০-তে পৌঁছেছে। তবে এ হিসাব শুধু ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের মাধ্যমে পরিচালিত অপসারণ বা ডিপোর্টেশন অন্তর্ভুক্ত করে। এটি কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশনের মাধ্যমে সীমান্ত থেকে সরাসরি ফেরত পাঠানো সব ব্যক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করে না।
অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থা অত্যন্ত জটিল। একজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে গ্রেফতার, আটক, আদালতের মামলা এবং বহিষ্কার-প্রতিটি ধাপ আলাদা আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যায়।