ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস-(ডিওজে) ২৩ জুলাই কলোরাডো স্টেটের দীর্ঘদিনের একটি শিক্ষা আইন চ্যালেঞ্জ করে ইউএস ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে মামলা করেছে। মামলায় কলোরাডোর অ্যাডভান্সিং স্টুডেন্টস ফর আ স্ট্রংগার ইকোনমি টুমরো (অ্যাসেট) অ্যাক্ট বাতিল বা কার্যকর বন্ধ করার আবেদন জানানো হয়েছে। এ আইনের আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ অভিবাসন কাগজপত্র না থাকা শিক্ষার্থীরা নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে স্টেটের সরকারি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থানীয় শিক্ষার্থীদের মতো ইন-স্টেট টিউশন সুবিধা পেয়ে আসছে। বিচার বিভাগের দাবি, এ সুবিধা ফেডারেল আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং এতে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক শিক্ষার্থীদের প্রতি বৈষম্য করা হচ্ছে।
ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিসের এ পদক্ষেপকে অভিবাসন নীতি নিয়ে ফেডারেল সরকার ওস্টেট সরকারের মধ্যে নতুন আইনি লড়াই হিসেবে দেখা হচ্ছে। ডিওজের অভিযোগ, কলোরাডোর এ আইন ফেডারেল আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং এর মাধ্যমে এমন শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষাগত সুবিধা দেওয়া হচ্ছে, যারা যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে অবস্থান করছে।
কলোরাডোর অ্যাসেট অ্যাক্ট-অ্যাডভান্সিং স্টুডেন্টস ফর আ স্ট্রংগার ইকোনমি টুমরো ২০১৩ সালে পাস হয়। দীর্ঘ এক দশকে ছয়বার ব্যর্থ প্রচেষ্টার পর স্টেটের আইনপ্রণেতারা সেনেট বিল ৩৩ (এসবি ৩৩) অনুমোদন করেন। এ আইনের অধীনে, যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ অভিবাসন স্ট্যাটাস না থাকা শিক্ষার্থীরাও নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে কলোরাডোর সরকারি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রাজ্যের বাসিন্দাদের মতো কম টিউশন ফি দেওয়ার সুযোগ পায়।
আইন অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের কলোরাডোর কোনো হাইস্কুলে অন্তত তিন বছর পড়াশোনা করতে হবে এবং সেখান থেকে গ্র্যাজুয়েট হতে হবে অথবা জিইডি অর্জন করতে হবে। ২০২৫ সালে কিছু পরিবর্তন হওয়ার আগে, শিক্ষার্থীদের একটি হলফনামায় স্বাক্ষর করতে হতো যে তারা ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করবে।
অ্যাসেট অ্যাক্ট-এর অন্যতম উদ্যোক্তা ছিলেন তৎকালীন রাজ্য সিনেটর মাইকেল জনস্টন, যিনি বর্তমানে ডেনভারের মেয়র। আইনটি তৎকালীন গভর্নর জন হিকেনলুপার স্বাক্ষর করে কার্যকর করেন, যিনি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটর।
ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস বৃহস্পতিবার মামলা দায়েরের ঘোষণা দিয়ে জানায়, কংগ্রেসের আইন অনুযায়ী স্টেটগুলো যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে অবস্থানরত অভিবাসীদের এমন কোনো শিক্ষা সুবিধা দিতে পারে না, যা একইভাবে সব মার্কিন নাগরিকের জন্য উন্মুক্ত নয়। সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল স্ট্যানলি ই. উডওয়ার্ড জুনিয়র বলেন, তিন দশক ধরে কংগ্রেস স্পষ্ট করেছে যে রাজ্যগুলো অবৈধ অভিবাসীদের শিক্ষা সুবিধা দিতে পারবে না, যদি একই সুবিধা সব মার্কিন নাগরিকের জন্য না থাকে। কলোরাডো ইন-স্টেট টিউশন দিয়ে ফেডারেল আইন লঙ্ঘন করছে এবং করদাতাদের অর্থে অবৈধ অভিবাসীদের শিক্ষা ভর্তুকি দিচ্ছে।
ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিসের দেওয়া বিবৃতিতে আরো বলা হয়, কলোরাডোর আইন মার্কিন নাগরিকদের সঙ্গে বৈষম্য করছে, কারণ অন্য রাজ্যের নাগরিকরা একই কম টিউশন সুবিধা বা বৃত্তির সুযোগ পাচ্ছেন না। ডিওজে-এর সিভিল ডিভিশনের সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ব্রেট শুমেট বলেন, কলেজগুলো এমন সুবিধা অবৈধ অভিবাসীদের দিতে পারে না, যা তারা মার্কিন নাগরিকদের দেয় না। এ বিভাগ মার্কিন শিক্ষার্থীদের নিজেদের দেশেই দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক হিসেবে বিবেচনা করা মেনে নেবে না।
মামলায় আদালতের কাছে কলোরাডোর আইন কার্যকর বন্ধ করার নির্দেশ চাওয়া হয়েছে। এর ফলে অবৈধ অভিবাসী শিক্ষার্থীদের জন্য ইন-স্টেট টিউশন এবং আর্থিক সহায়তা বা বৃত্তির সুযোগ বন্ধ হতে পারে। উচ্চশিক্ষা ও অভিবাসন নীতি পর্যবেক্ষণকারী হায়ার এডুকেশন ইমিগ্রেশন পোর্টালের তথ্য অনুযায়ী, কলোরাডোর কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার শিক্ষার্থীর মধ্যে আনুমানিক ৬ হাজার ৬৮১ জন শিক্ষার্থীর বৈধ অভিবাসন স্ট্যাটাস নেই।
বর্তমানে কলোরাডো এমন স্টেটগুলোর একটি, যেখানে অবৈধ অভিবাসী শিক্ষার্থীদের জন্য ইন-স্টেট টিউশন ও কিছু শিক্ষা সহায়তা নীতির সুযোগ রয়েছে। এটি বিচার বিভাগের পক্ষ থেকে ইন-স্টেট টিউশন সুবিধা নিয়ে দায়ের করা ১৪তম মামলা। এর আগে টেক্সাস, কেনটাকি, ওকলাহোমা ও নেব্রাস্কা রাজ্যে একই ধরনের আইনি চ্যালেঞ্জে বিচার বিভাগ সাফল্য পেয়েছে বলে জানিয়েছে। একই ধরনের মামলা বর্তমানে ইলিনয়, মিনেসোটা, ভার্জিনিয়া, ক্যালিফোর্নিয়া, নিউ জার্সি, কানসাস, ম্যাসাচুসেটস, রোড আইল্যান্ড এবং মেরিল্যান্ড রাজ্যের বিরুদ্ধেও চলমান রয়েছে।