গঙ্গা ব্যারাজ নিয়ে নেতিবাচক প্রচারণার নেপথ্যে কারা


সৈয়দ মাহবুব মোর্শেদ , আপডেট করা হয়েছে : 26-08-2026

গঙ্গা ব্যারাজ নিয়ে নেতিবাচক প্রচারণার নেপথ্যে কারা

সরকার ৩৪ হাজার ৪৯৭ কোটি ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ‘পদ্মা ব্যারাজ (প্রথম পর্যায়)’ প্রকল্প গ্রহণ করেছে বর্তমান সরকার। দেশের প্রধান নদী ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার, লবণাক্ততার আগ্রাসন হ্রাস, সেচ সুবিধা সম্প্রসারণ এবং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় প্রকল্পটি নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। পরিকল্পনা কমিশনের সুপারিশে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে।

চলতি বছরের মে’তে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)-এর সভায় এই মেগা প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়। একনেক চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সভায় সভাপতিত্ব করেন। এতে জানানো হয় যে, জুলাই ২০২৬ থেকে জুন ২০৩৩ মেয়াদে প্রকল্পটি শতভাগ সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়িত হবে। এ্যাপারে পরিকল্পনা কমিশন জানিয়েছে, খুলনা, ঢাকা, রাজশাহী ও বরিশাল বিভাগের ১৯টি জেলা এই প্রকল্পের আওতায় আসবে। একনেক সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানী বলেন, এটি জাতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রকল্প। এর মাধ্যমে দেশের এক-তৃতীয়াংশ এলাকা এবং প্রায় ৭ কোটি মানুষ উপকৃত হবে।

দেশ জুড়ে সমালোচনার ঢেউ

কিন্তু এই প্রকল্প নিয়ে সারাদেশের পরিবেশবাদি সংগঠনের পাশাপাশি নদী পানি বিশেষজ্ঞরা বলা যায় উদ্বেগ উৎকন্ঠায় দিন পার করে। তারা এই ভেবে উদ্বিগ্ন যে পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প যা সর্বসাধারণ গঙ্গা ব্যারাজ পরিচিতি পেয়েছে, তা হতে যাচ্ছে একটি পরিবেশ বিধবংসী কর্মযজ্ঞ। পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প নিয়ে পরিবেশবিদ ও বিশেষজ্ঞদের মধ্যে তীব্র বিতর্ক-ও দেশ জুড়ে চলতে থাকে। একপক্ষ একে দক্ষিণ অঞ্চলের পানির সংকট ও লবণাক্ততা দূর করার উপায় বললেও, অন্যপক্ষ এর সম্ভাব্য নেতিবাচক পরিবেশগত প্রভাব রয়েছে বলে মাঠে ময়দানে কলমের লেখনীতে গর্জে উঠে। বলা হচ্ছে, এটি হবে সরকারী সহায়তায় পরিবেশ বিধ্বংসী কাজ যা, প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্যের ক্ষতিসাধন করা হবে। আবার প্রশ্ন-ও উঠেছে পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের বাস্তবায়ন-সম্ভাব্যতা প্রতিবেদনসহ প্রকল্প সংক্রান্ত সব তথ্য জনগণের জন্য কেনো গোপনীয় করে রাখা হয়েছে। তা-ই তারা উন্মুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন পরিবেশবিদ ও বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা বলেছেন, বিপুল ব্যয়ের এই ‘সুপার মেগা’ প্রকল্প নিয়ে জনগণকে পর্যাপ্ত তথ্য দেওয়া হয়নি। রাষ্ট্র পরিচালনায় স্বচ্ছতার সাম্প্রতিক দাবির সঙ্গে এমন গোপনীয়তা সাংঘর্ষিক।

বাপা’র আয়োজন

এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) ও বাংলাদেশ পরিবেশ নেটওয়ার্ক (বেন) এর যৌথ উদ্যোগে শনিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনের ‘‘গঙ্গা (পদ্মা) ব্যারেজ : কতিপয় প্রশ্ন ও প্রস্তাব’’-শীর্ষক এক জাতীয় মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। পুরো সভাটি ছিল কানায় কানায় পরিপূর্ণ। বাপা’র সভাপতি অধ্যাপক নুর মোহাম্মদ তালুকদারের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর কবির সঞ্চালনায় এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক এম. ফিরোজ আহমেদ, মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন, যৌথভাবে বাপার সহ-সভাপতি ও অধ্যাপক, এশীয় প্রবৃদ্ধি ইনস্টিটিউট ও জাতিসংঘের উন্নয়ন গবেষণা বিভাগের সাবেক প্রধান ড. নজরুল ইসলাম, এবং বাপার সহ-সভাপাতি ভূত্ত্ববিদ অধ্যাপক ড. মো: খালেকুজ্জামান। মতবিনিময় সভায় অন্যানদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, বাপা’র সহ-সভাপতি মহিদুল হক খান, অধ্যাপক ড. এম. শহীদুল ইসলাম, জাকির হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক,মিহির বিশ্বাস, যুগ্ম সম্পাদক, হুমায়ুন কবির সুমন, নির্বাহী সদস্য এড. পারভিীন আক্তার, গাউস পিয়ারী, আশরাফ আমিরুল্লাহসহ কেন্দ্রীয় ও জাতীয় কমিটির নেতৃবৃন্দ।

মতবিনিময় সভায় মূল প্রবন্ধে ড. নজরুল বলেন, আমাদের সরকারের প্রথম কাজ হবে আন্তর্জাতিক নদী ব্যবহার সংক্রান্ত জাতিসংঘের ১৯৯৭ সালের সনদ স্বাক্ষর করা। দ্বিতীয়ত, গঙ্গার পানি ভাগাভাগি সংক্রান্ত ১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর স্বাক্ষরিত বাংলাদেশ-ভারত চুক্তির ৩০ বছরের মেয়াদ শীঘ্র শেষ হবে এবং এই চুক্তির নবায়ণের বিষয়ে ভারতের সাথে দেন-দরবারের জন্য বাংলাদেশকে এখনই প্রস্তুত হতে হবে। তিনি বলেন, ব্যারাজ সংক্রান্ত সরকারের নিকট যা তথ্য উপাত্ত আছে তা দ্রুত জনগণের নিকট প্রকাশ করা হোক।

ড. মো. খালেকুজ্জামান তার লিখিত প্রবন্ধে বলেন, ভূ-উপরিস্থ পানি প্রবাহ এবং ব্যবস্থাপনার মৌলিক নীতি হচ্ছে অববাহিকা-ভিত্তিক সমন্বিত পানি-পলি-ভূগাঠনিক পরিবর্তনকে আমলে নিয়ে শুধু শুকনো মৌসুমের জন্য নয় বরং অববাহিকা-ভিত্তিক দীর্ঘ-মেয়াদী সুফল-কুফল ভাগাভাগি করে সমন্বিত ব্যবস্থাপনার উদ্যোগ নেওয়া। গঙ্গা অববাহিকার মাত্র ৪% এলাকা বাংলাদেশে অবস্থিত হলেও দেশের ৩৭% এলাকা এবং ৩৩% মানুষের বাস। উজানের সমস্ত প্রাকৃতিক এবং মানব-সৃষ্ট কর্মকান্ডের প্রভাব কিন্তু ভাটির দেশে হিসাবে বাংলাদেশেই সবচেয়ে বেশি পড়ে। গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তিতে অববাহিকা-ভিত্তিক বাস্তবতাকে আমলে নেওয়া হয়নি (নেপাল অংশ নয়) এবং ফারাক্কা ছাড়াও সর্বসাকুল্যে ৩০০ অবকাঠামো রয়েছে যার মাধ্যমে স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বিঘ্নিত হয়; জলবায়ু পরিবর্তন এবং ভবিষ্যতে নির্মিত উজানের অবকাঠামো এই প্রবাহকে আরো বিঘ্নিত করবে। তিনি বলেন, পদ্মা ব্যারেজের জন্য প্রস্তুতকৃত বিভিন্ন ডকুমেন্টে এবং গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী সম্ভাব্যতা সমীক্ষাটি ২০১০ সাল পর্যন্ত পানি প্রবাহের পরিমাণের উপর ভিত্তি করে করা হয়েছে; ২০২৬ পর্যন্ত উপাত্ত নেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, সমীক্ষা অনুযায়ী, ১৯৯৭-২০২০ সালের এপ্রিলের গড় প্রবাহের পরিমাণ ছিল ৯৩৪ কিউমেক (৩২,৯৭০ কিউসেক) এবং সর্বনিম্ন প্রবাহ ছিলো ১১,৬৪৯ কিউসেক যা কিনা মার্চ মাসে ছিল মাত্র ৭,৪৮৩ কিউসেক। তাহলে প্রস্তাবিত ২৮,২৪০ কিউসেক পানি কোথা থেকে আসবে? গঙ্গা পানি-বণ্টন চুক্তিতে কোন গ্যারান্টি ক্লজ নেই। তিনি আরো বলেন ভবিষ্যতে ফারাক্কাতে গঙ্গার প্রবাহ বিষয়ে ভারতে দারুন অস্বস্তি বিদ্যমান; ১৯৯২-৯৩ সনে ফারাক্কায় প্রবাহ টানা ২০ ধরে ৪০,০০০ কিউসেকের নিচে নেমে আসে। চুক্তি অনুযায়ী, হুগলী-ভাগীরথীতে ৩৫,০০০ কিউসেক সরিয়ে নেওয়ার পর বাংলাদেশের জন্য ক্রিটিক্যাল পিরিয়ডে (মার্চ-মে) ৫,০০০ কিউসেক দেওয়া যাবে। ভারতের পরিবেশবিদ কল্যাণ রুদ্রের মতে পশ্চিমবঙ্গে ২০২৫ সালে চাহিদার তুলনায় ৫৯% সরবরাহ ঘাটতি ছিল। পদ্মায় অতিরিক্ত পানি প্রবাহের সময় ব্যারেজের ধারণক্ষমতার সীমাবদ্ধতার কারণে উজানে ২০-৩০ কিমি জুড়ে ভয়াবহ বন্যা ও পলি জমবে, আর ভাটিতে তীব্র স্রোতের (৪.৭৬ মি/সে) কারণে ব্যাপক নদীভাঙন দেখা দেবে। শুষ্ক মৌসুমের সংকট ও ভুল ডিজাইন: খরার সময়ে প্রয়োজনীয় ২.৯ বিসিএম পানি জমাতেই ৩৬ দিন লেগে যাবে। ফলে এই ব্যারেজ মূলত বর্ষার পানি ধরে রাখার বদলে ভাটির অঞ্চলকে পানি থেকে বঞ্চিত করার নীতিতে তৈরি।

লেখক-গবেষক, শেখ রোকন বলেন, সঠিক তথ্য না থাকা কারণ সরকার নদী পত্র প্রকাশ করেনা। ক্রান্তি -গঙ্গা নিয়ে কথা বললে ভারত এর দালাল বলা হয়। কৌতুক- পদ্মা ব্যারেজ এর নাম গঙ্গা ব্যারেজ হওয়া উচিত। পদ্মা নদীর সাথে সংযোগ আছে বলেই মূল নদী গঙ্গা কে বাদ দেওয়া যাবে না।

সরকারি ভাষ্যে বদলে গেলো পুরো চিত্র

তবে অনুষ্ঠানে এক পর্যায়ে সেখানে উপস্থিত সরকারের একজন নদী পানি পরিবেশ বিশেষজ্ঞের বক্তব্যের পরপরই পুরো আলোচনার পরিবেশ বদলে যায়। আইডাব্লিউএমএর সাবেক নির্বহিী পরিচালক এবং এই প্রকল্পের একজন ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তা এস এম মাহবুবুর রহমান ড. নজরুল ইসলাম এর উত্থাপিত ১০টি প্রশ্নের উত্তর দেন। তিনি বলেন, এই প্রকল্প নিয়ে যথেষ্ট গবেষণার পরেই এটি বাস্তবায়নের জন্য সরকারের নিকট প্রেরণ করা হয়েছে। চায়না-ইন্ডয়া সবাইকে নিয়েই এই প্রকল্প করা হয়েছে। তিনি বলেন গঙ্গা প্রকল্পে এতো গোপনীয়তা কেন সেই প্রশ্নের উত্তর তার জানা নেই। অক্টোবরে ব্যাজের দরজা গুলো বন্ধ করা হবে এবং উপরে যে জলাধারগুলো সৃষ্টি হবে সেখান থেকে যেই সময়ে পানি পাওয়া যাবেনা শুকনো মৌসুমে সেই সময় পানি সরবরাহ দেওয়া হবে। তিনি বলেন, ভাটি অঞ্চলের গঙ্গা ব্যারেজের উপরিভাগে অভিঘাতের বিষয়টি এইনিয়ে আলাদা একটা চ্যাপটার আছে। সেখানে বিস্তারিত দেওয়া আছে। ভাটিতে কী? ধরনের পরিবেশগত প্রভাব পড়বে। তিনি যে করেই হোক এই প্রকল্প বাস্তবায়নের অভিমত ব্যক্ত করেন।

অন্যদিকে সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্টাল অ্যান্ড জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সার্ভিসেস (ঈঊএওঝ)-এর সাবেক নির্বাহী পরিচালক। পানি ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা খাতে তাঁর দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি অভিজ্ঞতা সম্পন্ন বিশেষজ্ঞ মালিক ফিদা এ খান পদ্মা ব্যারেজ কারিগরি দিকটি তুলে ধরেন। তিনি জানান ব্যারাজটি যে সবসময় খোলা থাকবে তা না। ১৯ জুলাই থেকে ১০ অক্টোবর শুধু টানা ব্যারেজ খোলা থাকবে যদি ব্যারেজ না থাকে তাহলে আমাদের বিকল্প কী? বাকি যেই বিকল্প আছে তা অত্যাধিক বায়বহুল বলে তিনি মস্তব্য করেন।

ব্যারাজের সুফল বললেন আরও যারা

বিশিষ্ট কৃষি অর্থনীতিবিদ, অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর আলম খান বলেন, এক পক্ষের যুক্তি হচ্ছে ব্যারেজ করা। যুক্তি শুষ্ক মৌসুমে পানি সংগ্রহ করা কিন্তু অন্য পক্ষের যুক্তি হচ্ছে এই সংগৃহীতি পানি যথেষ্ট না। বর্তমান এ যে সমস্যা গুলা হচ্ছে এগুলা আমলে নেওয়া হোক। আমাদের মূল উদ্দেশ্য খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কৃষক এর উন্নয়ন ও অনেক বেশি জরুরি । 

নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় এর অধ্যাপক, ড. মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, পৃথিবীতে প্রায় ১ লক্ষের বেশি ব্যারেজ আছে। ব্যারেজ এর প্রয়োজনীয়তা অবশ্যই আছে। আমাদের খাদ্য উৎপাদনের প্রয়োজনীয়া আছে, অতীতে যেরকম শুধু বৃষ্টির পানিতে কৃষ্টি নির্ভর থাকা যেত তা এখন আর করা যায়না। বর্তমান এ ব্যারেজ এর প্রয়োজনীতা শুধু কৃষিই কাজ এ না বরং এর আরও ব‍্যবহার রয়েছে।

বর্তমানে এমন পরিস্থিতির জন্য দায়ী কে?

সরকারের ভাষায় ৩৪ হাজার ৪৯৭ কোটি ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ে পদ্মা ব্যারাজটি নিয়ে নেতিবাচক বির্তকের সূত্রপাত হয়েছে প্রচার না পাওয়ায়। যেদিন থেকে এই পদ্মা ব্যারাজ হওয়ার কথা জানানো হয় তার পর থেকে সরকারের পক্ষ থেকে প্রকল্পটি নিয়ে তেমন প্রচারণাতেই যাওয়া হয়নি। সরকারের এমন একটি ইতিবাচক মেঘা প্রকল্পটি কেনো জানি ছাই চাপা পড়েছিল বলে কারো কারো অভিমত। অথচ পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের ফলে দেশের ২৪ থেকে ২৬ জেলার প্রায় ৭ কোটি মানুষ সরাসরি ও পরোক্ষভাবে উপকৃত হবেন। এই বিশাল জনগোষ্ঠীর জীবনমান ও অর্থনৈতিক ভাগ্য পরিবর্তনে প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। কিন্তু সরকারের সংশ্লিস্ট মিডিয়া সেলের পাশাপাশি পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকেও পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের ইতিবাচক কোনো তথ্য গণমাধ্যমের কোনো পর্যায়েই তুলে ধরা হয়নি। ফলে স্বভাতই পদ্মা ব্যারাজ নিয়ে নদী পানি পরিবেশবাদিদের পাশাপাশি নাগরিক সমাজের মধ্যে দেখা দেয় উদ্বেগ উৎকন্ঠা। 

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সহ বিভিন্ন প্রচার প্রচারণায় কারো কারো মন্তব্য এমন ছিল যে, পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পটি হতে যাচ্ছে বর্তমান সরকারের একটি মহলের যোগসাজশে ‘পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের লুটপাটের প্রকল্প’। তা না হলে কেনো কি কারণে পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প নিয়ে প্রচারণা পেলো না? আর কোনোই বা বলা হচ্ছে সরকার পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পটি জনসমক্ষে তুলে ধরছে না, আশ্রয় নিচ্ছে লুকোচুরির..। এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতেই বাপা আয়োজিত ২২ আগস্ট শনিবারের আলোচনায় সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর কবির হতাশা ব্যক্ত করে একটি গুরত্বপূর্ণ তথ্য দেন। তিনি জানান, বাপা’র পক্ষ থেকে পানি উন্নয়ন বোডের চেয়ারম্যানকে উপযুক্ত আলোচক পাঠানোর আবেদন করা হলে উনি না-কি এবিষয়ে উপযুক্ত ব্যক্তি নাই বলে তিনি উত্তর দেন। 

প্রশ্ন হচ্ছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান কি করে একথা বললেন? তাহলে তিনি-ও কি চাইলেন পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প নিয়ে পুরো দেশের নদী পানি পরিবেশ বিশেয়জ্ঞদের মধ্যে একটা ধোয়াশা তৈরি হোক, যাতে করে ৭ কোটি লোকের ভাগ্য অনিশ্চিয়তার মুখে পড়ে? এমন প্রশ্ন এখন সর্বত্র ঘোরপাক খাচ্ছে। কেননা সরকারের দায়িত্বশীল লোকদের এমন মন্তব্য ও গা ছাড়া ভাবের কারণেই ‘পদ্মা ব্যারাজের’ মতো একটি ইতিবাচক প্রকল্পর নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে ‘তথ্য গোপন করা’র অভিযোগ আসে। এই গোপনীয়তার কারণেই দেশের সর্বমহল থেকে আওয়াজ উঠে প্রকল্টটি বাস্তবায়ন-সম্ভাব্যতা প্রতিবেদনসহ প্রকল্প সংক্রান্ত সব তথ্য জনগণের জন্য উন্মুক্ত করার দাবি, যা জানিয়ে আসছিলেন পানি নদী পরিবেশবিদ ও বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা অভিযোগ করে আসছিলেন, বিপুল ব্যয়ের এই ‘সুপার মেগা’ প্রকল্প নিয়ে জনগণকে পর্যাপ্ত তথ্য দেওয়া হয়নি, রাষ্ট্র পরিচালনায় স্বচ্ছতার সাম্প্রতিক দাবির সঙ্গে এমন গোপনীয়তা সাংঘর্ষিক। কারো কারো মতে, এমন প্রচারণা করে একটি মহল কৌশলে দেশের ২৬ জেলার প্রায় ৭ কোটি মানুষের ভাগ্যকে পেছনের দিকে ঘুরিয়ে দেওয়ার পায়তারা করা হয়েছে। কারো কারো মতে, এর পেছনে আরও অনেকি রহস্যও থাকতে পারে।


প্রকাশক: মঞ্জুর হোসেন

সম্পাদক: মিজানুর রহমান

House : 29, Road : 01 Sector : 02, Block :F Aftabnagar, Dhaka:1212 (Opposite China Building) E-mail : deshusdhaka@gmail.com (Advertising & News For Bangladesh)