নিউইয়র্কে আইসের সঙ্গে পুলিশের সহযোগিতা নিষিদ্ধের আইন কার্যকর


দেশ রিপোর্ট , আপডেট করা হয়েছে : 26-08-2026

নিউইয়র্কে আইসের সঙ্গে পুলিশের সহযোগিতা নিষিদ্ধের আইন কার্যকর

নিউইয়র্ক স্টেটে স্থানীয় পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার সঙ্গে ফেডারেল অভিবাসন কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা সীমিত করার নতুন আইন ২৬ অগাস্ট মঙ্গলবার থেকে কার্যকর হয়েছে। এর ফলে স্থানীয় পুলিশ ও সরকারি সংস্থাগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বা আইসের বেসামরিক অভিবাসন কার্যক্রমে সহযোগিতার ওপর নতুন বিধিনিষেধ আরোপ হয়েছে।

লোকাল কপস, লোকাল ক্রাইমস অ্যাক্ট নামে পরিচিত এই আইনে স্থানীয় সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোকে আইসের সঙ্গে ২৮৭(জি) ধরনের চুক্তি করা বা বহাল রাখা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ফেডারেল বেসামরিক অভিবাসন আইনের আওতায় আটক ব্যক্তিদের রাখার জন্য স্থানীয় কারাগার, সংশোধনাগার ও কিশোর আটককেন্দ্র ব্যবহারের ওপরও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

গভর্নর ক্যাথি হোচুল গত ২৭ মে ২০২৬ সালে আইনটির সংশ্লিষ্ট বিধানগুলোতে স্বাক্ষর করেন। নতুন আইনের অধীনে বিদ্যমান ২৮৭(জি) চুক্তিগুলো ২৫ আগস্টের মধ্যে বাতিল করার কথা। নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমসের কার্যালয় জানিয়েছে, রাজ্যে বর্তমানে ১২টি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার আইসের সঙ্গে ২৮৭(জি) চুক্তি ছিল। জুলাইয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের নতুন অফিস অব ইমিগ্র‍্যান্ট ট্রাস্ট এসব সংস্থাকে চিঠি দিয়ে ২৫ আগস্টের মধ্যে চুক্তি বাতিল করার আইনি বাধ্যবাধকতার কথা জানায়।

গভর্নর হোচুল বলেছেন, স্থানীয় পুলিশের মূল দায়িত্ব হওয়া উচিত স্থানীয় অপরাধ মোকাবিলা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা। তার বক্তব্য অনুযায়ী, কোনো প্রকৃত অপরাধ সংঘটিত হলে স্থানীয় পুলিশ আইসকে সহযোগিতা করতে পারে, কিন্তু শুধু বেসামরিক অভিবাসন বিষয়ক কার্যক্রমে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্যবহার করা যাবে না।

তবে নতুন আইনকে কেন্দ্র করে নাসাউ কাউন্টির সঙ্গে স্টেট সরকারের সম্ভাব্য আইনি বিরোধ তৈরি হয়েছে। নাসাউ কাউন্টি এখনো আইনটি পুরোপুরি মেনে চলার সিদ্ধান্ত নেয়নি। ফেব্রুয়ারিতে কাউন্টি ১০ জন পুলিশ কর্মকর্তাকে আইসের অধীনে বিশেষ ক্ষমতা দিয়েছিল। একই সঙ্গে নাসাউ কাউন্টির কারাগারগুলোকে আইসের আটক সুবিধা হিসেবে ব্যবহারের সুযোগও দেওয়া হয়েছিল এবং এর জন্য ফেডারেল সরকার থেকে অর্থ নেওয়া হচ্ছিল।

নাসাউ কাউন্টি এক্সিকিউটিভ ব্রুস ব্লেকম্যান, যিনি গভর্নর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, বলেছেন কাউন্টি নতুন আইন মেনে চলবে কি না তা পর্যালোচনা করছে। এদিকে নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিস অব ইমিগ্র‍্যান্ট ট্রাস্ট নাসাউ কাউন্টি পুলিশ ও নাসাউ কাউন্টি শেরিফের কাছে সমন জারি করেছে। স্টেট কর্তৃপক্ষের অবস্থান হলো, নাসাউ কাউন্টি নতুন আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ অবস্থানে নেই।

আইনটি আদালতে চ্যালেঞ্জ করা হতে পারে কি না, সেটিও এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। নাসাউ কাউন্টি যুক্তি দিতে পারে যে আইনটি স্থানীয় সরকারের নিজস্ব প্রশাসনিক ক্ষমতার ওপর হস্তক্ষেপ করছে। একই সঙ্গে আইন না মানা কাউন্টিগুলোর ফেডারেল অর্থায়ন বন্ধ বা আটকে দেওয়ার ক্ষমতা স্টেটের আছে কি না, সেটিও আইনি বিতর্কের বিষয় হতে পারে।

নতুন অফিস অব ইমিগ্র‍্যান্ট ট্রাস্ট নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের সামাজিক ন্যায়বিচার বিভাগের অধীনে কাজ করছে। অফিসটি অভিবাসন কার্যক্রমসংক্রান্ত অভিযোগ গ্রহণ, তদন্ত, স্থানীয় ও স্টেট সংস্থাকে নির্দেশনা প্রদান এবং প্রয়োজনে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা রাখে। প্রয়োজনে তারা সমন জারি, সাক্ষীদের সাক্ষাৎকার এবং সরকারি নথি পর্যালোচনাও করতে পারবে।

নিউ ইয়র্ক অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় জানিয়েছে, নিউইয়র্কে কেউ ফেডারেল অভিবাসন অভিযান প্রত্যক্ষ করলে তা সংশ্লিষ্ট অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে জানাতে পারবেন। কোনো রাজ্য বা স্থানীয় সংস্থা, কর্মী, ঠিকাদার বা স্কুল অভিবাসনসংক্রান্ত নতুন স্টেট আইন লঙ্ঘন করেছে বলে মনে হলে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে অভিযোগ করার সুযোগও রয়েছে।


প্রকাশক: মঞ্জুর হোসেন

সম্পাদক: মিজানুর রহমান

House : 29, Road : 01 Sector : 02, Block :F Aftabnagar, Dhaka:1212 (Opposite China Building) E-mail : deshusdhaka@gmail.com (Advertising & News For Bangladesh)