আ’লীগের কোনো লজ্জা শরম নেই


দেশ রিপোর্ট , আপডেট করা হয়েছে : 26-08-2026

আ’লীগের কোনো লজ্জা শরম নেই

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র জনতার অভ্যুত্থানে ভারত পালিয়ে গিয়েছিলো তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা। তার সাথে তার দুর্নীতিবাজ, রাষ্ট্রের সম্পদ লুন্ঠনকারীরাও বিদেশে পালিয়ে যায়। যার মধ্যে কেউ কেউ আমেরিকায়ও রয়েছেন। তারা এখন বিদেশে বসে নানা ধরনের হুমকি দিচ্ছে। সত্যি কথা বলতে কী যারা আওয়ামী লীগ করে আসলে তাদের কোন লজ্জা শরম নেই- এত অন্যায় করার পরও কীভাবে কথা বলে? এত মানুষ হত্যার পরও কীভাবে মানুষের সামনে আসে? গত ২৪ আগস্ট সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম জাতীয়তাবাদী ফোরাম আয়োজিত এক সংবর্ধনা সভায় চট্টগ্রাম-৯ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান এ সব কথা বলেন।

জ্যাকসন হাইটসের নবান্ন পার্টি হলে অনুষ্ঠিত সংবর্ধনা সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির অন্যতম সদস্য মিজানুর রহমান মিল্টন ভূইয়া এবং পরিচালনা করেন নিউইয়র্ক দক্ষিণ বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বদিউল আলম। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন আবু সুফিয়ান এমপি, প্রধান বক্তা ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির অন্যতম সদস্য আব্দুল লতিফ সম্রাট, গেস্ট অব অর্নার ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির অন্যতম সদস্য জিল্লুর রহমান জিল্লু। মঞ্চে উপবিষ্ট ছিলেন এবং বক্তব্য রাখেন যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক সহ সভাপতি শামসুল ইসলাম মজনু, যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক কোষাধ্যক্ষ জসীম ভূইয়া, স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মাকসুদুল হক চৌধুরী, যুক্তরাষ্ট্র জাসাসের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর সরওয়ার্দী, যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি নেতা ফিরোজ আহমেদ, ছৈয়দুল হক, এডভোকেট খায়রুল বাশার, তারিখ চৌধুরী দীপু, কম্যুনিটি এক্টিভিস্ট সিপিএ সরওয়ার চৌধুরী, হারুণ মিয়া প্রমুখ।

অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নিউইয়র্ক বিএনপি উত্তরের সাধারণ সম্পাদক ফয়েজ চৌধুরী, স্বেচ্ছাসেব দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক সাইফুর খান হারুণ, যুবদল নেতা আবুল কাশেম, উত্তম বণিক, সৈয়দা মাহমুদা শিরিন, মাজহারুল ইসলাম জনি, রিয়াজ মাহমুদ, এমলাখ হোসেন ফয়সাল, নাসির উদ্দিন, মাওলানা আবুল কালাম, বদরুল হক আজাদ প্রমুখ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে আবু সুফিয়ান এমপি বলেন, গত ১৭ বছর বাংলাদেশে আমরা এক শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতির মধ্যে ছিলাম। আমরা বথা বলতে পারতাম না, আপনারা বলেছেন, আপনাদের বলার কারণেই আমাদের বলা হতো বিদেশ ন্যাশনাল পার্টি। তবে আপনাদের আন্দোলন আমাদের প্রেরণা জুগিয়েছে। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র জনতার অভ্যুত্থানে ভারত পালিয়ে গিয়েছিলো তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার সাথে তার দুর্নীতিবাজ, লুন্ঠনকারীরাও বিদেশে পালিয়ে যায়। যার মধ্যে কেউ কেউ আমেরিকায়ও রয়েছেন। তারা এখন বিদেশে বসে নানা ধরনের হুমকি দিচ্ছে। সত্যি কথা বলতে কী যারা আওয়ামী লীগ করে আসলে তাদের কোন লজ্জা শরম নেই- এত অন্যায় করার পরও কীভাবে কথা বলে? এত মানুষ হত্যার পরও কীভাবে মানুষের সামনে আসে? আসলে এই দলটি বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে বার বার হত্যা করেছে, স্বাধীনতা- সার্বভৌমত্বে বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। শেখ মুজিব বাংলাদেশে বাকশাল কায়েম করেছিলো, সকল সংবাদপত্র বন্ধ ঘোষণা করেছিলো। আর ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা তার বাবাকেও ছাড়িয়ে গিয়েছিলো। বাংলাদেশে মানুষে কোন অধিকার ছিলো না। ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার ভারত পালিয়ে যাবার পর আন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতায় এসে নির্বাচন দেয়। সেই নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় আসে। তারেক রহমান রাষ্ট্রপরিচালনার দায়িত্ব পান। দায়িত্ব নেয়ার পর গত ৬ মাসে তিনি পরিবর্তনের রাজনীতি শুরু করেছেন, রাষ্ট্রকে মানবিক এবং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পরিণত করার কার্যক্রম শুরু করেছেন। চালু করেছেন ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, ইমাম ও পুরহীতদের সম্মানীর ব্যবস্থা। স্বাস্থ্য কার্ড থেকে শুরু করে আরো সুযোগ- সুবিধা দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। কিন্তু বিরোধী দল ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। তারা রাজপথে নেমে হুমকি দিচ্ছে- সরকারকে উৎখাতের। তাদের জানা উচিত বাংলাদেশের মানুষ তারেক রহমানের সরকারকে ৫ বছরের জন্য ক্ষমতা দিয়েছে।

আব্দুল লতিফ সম্রাট বলেন, বিএনপি সরকার প্রবাস বান্ধব সরকার। যে কারণ এই রুটে বিমান চালু করেছিলো, সোনালী এক্সচেঞ্জ চালু করেছিলো। প্রবাসীদের লাশ বিনা অর্থে বাংলাদেশে প্রেরণ করেছিলো। আগামীতে আবারো নিউইয়র্ক রুটে বিমান চালু হবে। ঢাকায় তৃতীয় টার্মিনাল চালু হলেই এই রুটে বিমান চলবে।

জিল্লুর রহমান জিল্লু বলেন, বিএনপি সরকার প্রবাসীদের প্লট এবং ফ্ল্যাট দিয়েছিলো।

মিজানুর রহমান মিল্টন ভূইয়া বলেন, আবু সুফিয়ান এমপি একজন কর্মীবান্ধব নেতা। তার শত্রুতারাও তাকে ভালবাসেন। যে কারণে তিনি সর্বাধিক ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি বলেন, আমরা জানি চট্টগ্রাম ৯ আসন যার সরকার। আবার এই আসন যিনি নির্বাচিত হন তিনি মন্ত্রী হন। এবারই ছিলো তার ব্যতিক্রম। আশা করি আগামীতে তিনি মন্ত্রী হবেন।

মাকসুদুল হক চৌধুরী অনুষ্ঠানকে সফল এবং স্বার্থক করার জন্য সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। সেই বলেন, আবু সুফিয়ান এমপির মত সবাই যদি কর্মীবান্ধব নেতা হতেন তাহলে দেশ এবং দলের অনেক উপকার হতো।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথিকে ফুল দিয়ে অভিনন্দন জানানো হয়।


প্রকাশক: মঞ্জুর হোসেন

সম্পাদক: মিজানুর রহমান

House : 29, Road : 01 Sector : 02, Block :F Aftabnagar, Dhaka:1212 (Opposite China Building) E-mail : deshusdhaka@gmail.com (Advertising & News For Bangladesh)