যুক্তরাষ্ট্রে ক্রেডিট কার্ডের ঋণ আবারও সর্বকালের সর্বোচ্চ পর্যায়ের কাছাকাছি পৌঁছেছে। ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কের নতুন তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে মার্কিন ভোক্তাদের ক্রেডিট কার্ড ঋণ ২১ বিলিয়ন ডলার বেড়ে মোট ১.২৬ ট্রিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। সব ধরনের ঋণ মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মোট গৃহস্থালি ঋণ এখন ১৮.৮ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। ১৮ অগাস্ট মঙ্গলবার প্রকাশিত নিউইয়র্ক ফেডের তথ্য বলছে, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রেডিট কার্ডের মোট বকেয়া ঋণ গত বছরের চতুর্থ প্রান্তিকে গড়া ১.২৮ ট্রিলিয়ন ডলারের সর্বকালের রেকর্ড থেকে মাত্র ২০ বিলিয়ন ডলার কম। অর্থাৎ ক্রেডিট কার্ড ঋণ আবারও রেকর্ড উচ্চতার খুব কাছাকাছি চলে এসেছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, মার্কিন ভোক্তাদের শক্তিশালী ব্যয় প্রবণতা ক্রেডিট কার্ডের ঋণ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। একই সঙ্গে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়াও অনেক পরিবারকে ক্রেডিট কার্ডের ওপর বেশি নির্ভর করতে বাধ্য করছে। বিশেষ করে মুদি পণ্য ও গ্যাসের মতো দৈনন্দিন খরচ বেড়ে যাওয়ায় অনেক পরিবার তাদের আয় দিয়ে সব ব্যয় মেটাতে না পেরে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করছে।
শুধু ঋণের পরিমাণ বাড়ছে না, অনেক পরিবার ক্রেডিট কার্ডের বিল পরিশোধেও পিছিয়ে পড়ছে। নিউইয়র্ক ফেডের তথ্য অনুযায়ী, ৯০ দিনের বেশি সময় ধরে বকেয়া থাকা ক্রেডিট কার্ড ঋণের অনুপাত ২০২২ সালের মাঝামাঝি সময়ের ৭.৬ শতাংশ থেকে ২০২৬ সালের শুরুর দিকে বেড়ে ১২.৮ শতাংশে পৌঁছেছে।
নিউইয়র্ক ফেডের গবেষকরা সাংবাদিকদের সঙ্গে এক আলোচনায় বলেন, অনেক পরিবার এখন মাসিক বেতন পাওয়ার পর তা প্রায় পুরোপুরি খরচ করে ফেলছে। ফলে হঠাৎ কোনো অতিরিক্ত ব্যয় বা আর্থিক বিপর্যয় দেখা দিলে তারা ক্রেডিট কার্ডের বিল পরিশোধে পিছিয়ে পড়তে পারে। তবে গবেষকেরা সতর্ক করে বলেছেন, বকেয়া ঋণের উচ্চ হার পুরোপুরি নতুন করে ক্রেডিট কার্ডের বিল পরিশোধে ব্যর্থতার কারণে নয়। এর একটি বড় অংশ পুরোনো বকেয়া ঋণের সঙ্গে সম্পর্কিত। অর্থাৎ আগের সময়ের অপরিশোধিত ঋণও বর্তমানের উচ্চ ডেলিনকোয়েন্সি বা বকেয়া হারের পেছনে ভূমিকা রাখছে।
এদিকে দ্বিতীয় প্রান্তিকে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য ধরনের গৃহস্থালি ঋণেও পরিবর্তন দেখা গেছে। এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত অটো লোন এবং হোম ইকুইটি লাইন অব ক্রেডিট বা বাড়ির সম্পদের বিপরীতে নেওয়া ঋণ বেড়েছে। বিপরীতে শিক্ষাঋণ এবং মর্টগেজ বা গৃহঋণের পরিমাণ কমেছে।
আমেরিকানদের সব ধরনের ঋণ মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মোট গৃহস্থালি ঋণ এখন ১৮.৮ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশ হলো মর্টগেজ ঋণ, যার পরিমাণ ১৩.১২ ট্রিলিয়ন ডলার। অটো লোন বা গাড়ি ঋণ বেড়ে ১.৭১ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা একটি নতুন রেকর্ড। শিক্ষাঋণের পরিমাণ ১.৬৫ ট্রিলিয়ন ডলার এবং ক্রেডিট কার্ড ঋণ ১.২৬ ট্রিলিয়ন ডলার।
এছাড়া বাড়ির ইকুইটির বিপরীতে নেওয়া হোম ইকুইটি লাইন অব ক্রেডিটের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪৫৯ বিলিয়ন ডলার। আমেরিকানদের পরিবারের ঋণের ধরন অনুযায়ী বর্তমান চিত্র হলো, মর্টগেজে ১৩.১২ ট্রিলিয়ন ডলার, অটো ঋণে ১.৭১ ট্রিলিয়ন ডলার, শিক্ষাঋণে ১.৬৫ ট্রিলিয়ন ডলার, ক্রেডিট কার্ডে ১.২৬ ট্রিলিয়ন ডলার এবং হোম ইকুইটি লাইনে ৪৫৯ বিলিয়ন ডলার।
নিউইয়র্ক ফেডের এ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে ইকুইফ্যাক্সের ক্রেডিট রিপোর্টের তথ্য থেকে নেওয়া একটি বেনামি ও জাতীয়ভাবে প্রতিনিধিত্বশীল নমুনার ভিত্তিতে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তাদের ঋণের সামগ্রিক পরিস্থিতি ও পরিশোধের প্রবণতার একটি বিস্তৃত চিত্র উঠে এসেছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, ভোক্তা ব্যয় অর্থনীতিকে সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও ক্রেডিট কার্ড ঋণের দ্রুত বৃদ্ধি এবং বকেয়া ঋণের হার বাড়তে থাকা পরিবারগুলোর আর্থিক চাপের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত। বিশেষ করে আয় ও নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয়ের মধ্যে ব্যবধান বাড়তে থাকলে আরো বেশি পরিবার ঋণের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারে। ফলে ক্রেডিট কার্ড ঋণ ১.২৮ ট্রিলিয়ন ডলারের আগের রেকর্ড অতিক্রম করে নতুন সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে কি না, সেদিকেই এখন নজর অর্থনীতিবিদদের।