ইউএস সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্ট অব নিউইয়র্কের বিচারক জেনেট এ ভার্গাস গত ২১ আগস্ট দেওয়া আদেশের পর বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা ইস্যুতে জানুয়ারি ২০২৬ থেকে চলা স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করেছে স্টেট ডিপার্টমেন্ট। ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব স্টেট ২৮ আগস্ট এক ঘোষণায় জানিয়েছে, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ২১ আগস্ট থেকেই এই স্থগিতাদেশ আর কার্যকর নেই। ফলে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, নেপাল, ভুটানসহ তালিকাভুক্ত দেশগুলোর নাগরিকরা অভিবাসী ভিসার আবেদন জমা দিতে, ইউএস এম্বাসিতে সাক্ষাৎকারে অংশ নিতে এবং নির্ধারিত প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে পারবেন। তবে স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার মানেই ভিসা স্বয়ংক্রিয়ভাবে অনুমোদন নয়। বরং আবেদনকারীদের আর্থিক সক্ষমতা, সরকারি সুবিধার ওপর সম্ভাব্য নির্ভরতা, নিরাপত্তা এবং অন্যান্য যোগ্যতা নিয়ে মার্কিন সরকারের যাচাই-বাছাই অব্যাহত থাকবে।
এর আগে ২১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে ৭৫টি দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছিল। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের দাবি ছিল, এসব দেশের অভিবাসীদের যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি কল্যাণমূলক সুবিধার ওপর নির্ভরশীল হওয়ার ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। ট্রাম্প প্রশাসন আরো বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রে আসা অভিবাসীদের আর্থিকভাবে স্বনির্ভর হতে হবে এবং তারা যেন মার্কিন করদাতাদের ওপর আর্থিক বোঝা হয়ে না দাঁড়ান।
ডিপার্টমেন্ট অব স্টেট জানিয়েছে, অভিবাসী ভিসা আবেদনকারীদের স্ক্রিনিং ও ভেটিং ব্যবস্থা নিয়ে আরো বিস্তৃত পর্যালোচনা চলছে। বিশেষ করে সরকারি সুবিধার ওপর সম্ভাব্য নির্ভরতা এবং ‘পাবলিক চার্জ’ হওয়ার ঝুঁকি বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।
তালিকাভুক্ত কোনো দেশের নাগরিক যদি অন্য কোনো দেশের বৈধ পাসপোর্টধারী দ্বৈত নাগরিক হিসেবে আবেদন করেন, তাহলে তিনি এ স্থগিতাদেশের আওতায় পড়বেন না। এছাড়া মার্কিন নাগরিকদের দত্তক নেওয়া শিশুদের জন্যও নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে ব্যতিক্রমের সুযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলোকে দত্তক গ্রহণের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া চালিয়ে যেতে এবং ভিসার আবেদন ও কনস্যুলার সাক্ষাৎকার সম্পন্ন করতে বলা হয়েছে।
ডিপার্টমেন্ট অব স্টেট স্পষ্ট করেছে, এ নীতির কারণে আগে ইস্যু করা কোনো বৈধ অভিবাসী ভিসা বাতিল করা হয়নি। তবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের (ডিএইচএস) নিয়ম প্রযোজ্য হবে। এ স্থগিতাদেশ শুধু অভিবাসী ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ছিল। ফলে তালিকাভুক্ত ৭৫টি দেশের নাগরিকদের পর্যটক বা অন্যান্য নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এ নীতির কারণে প্রভাবিত হচ্ছে না।
ডিপার্টমেন্ট অব স্টেটের তালিকায় বাংলাদেশসহ আফগানিস্তান, আলজেরিয়া, ব্রাজিল, কলম্বিয়া, কিউবা, মিশর, ঘানা, হাইতি, ইরান, ইরাক, জ্যামাইকা, জর্ডান, লেবানন, মরক্কো, নেপাল, নাইজেরিয়া, পাকিস্তান, রাশিয়া, সোমালিয়া, সুদান, সিরিয়া, তানজানিয়া, থাইল্যান্ড, তিউনিসিয়া, উগান্ডা, উজবেকিস্তান ও ইয়েমেনসহ মোট ৭৫টি দেশ রয়েছে। তবে স্থগিতাদেশ উঠে গেলেও আবেদনকারীদের ভিসা পাওয়া নিশ্চিত নয়। আগের মতোই অভিবাসী ভিসার যোগ্যতা, আর্থিক সক্ষমতা, নিরাপত্তা এবং অন্যান্য ভিসা-সংক্রান্ত শর্ত পূরণ করতে হবে।