মসজিদে তিন মুসলিম হত্যাকাণ্ড : লিন্ডসের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ


দেশ রিপোর্ট , আপডেট করা হয়েছে : 02-09-2026

মসজিদে তিন মুসলিম হত্যাকাণ্ড : লিন্ডসের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ

যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলিনার ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরীর বিরুদ্ধে সান দিয়েগোর ইসলামিক সেন্টার অব সান দিয়েগোতে গুলিতে তিন মুসলিম নিহত হওয়ার ঘটনায় তিনটি হত্যা ও একটি হত্যার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে। ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির অভিযোগ, কিশোরীটি হামলার পরিকল্পনায় অনলাইনে যুক্ত ছিল, হামলার লাইভস্ট্রিম ছড়িয়ে দিতে সহায়তা করেছে এবং হামলাকারীদের লেখা ইশতেহার প্রকাশ করেছে। আদালতের নথিতে অভিযুক্ত কিশোরীর নাম সারা লিন্ডসে সান্তিয়াগো। ফোরসিথ কাউন্টির ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি জিম ও’নিল গত ৩১ আগস্ট উইনস্টন-সালেমে এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, সারা লিন্ডসে সান্তিয়াগোকে গত সপ্তাহে নর্থ ক্যারোলিনায় গ্রেফতার করা হয়। এরপর ৩১ আগস্ট সোমবার গ্র‍্যান্ড জুরি তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে। নর্থ ক্যারোলিনার আইনে তাকে প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে বিচার করা হবে। তবে কর্তৃপক্ষ তার গ্রেফতারের সুনির্দিষ্ট স্থান প্রকাশ করেনি।

সারা লিন্ডসে সান্তিয়াগোর বিরুদ্ধে তিনটি প্রথম-ডিগ্রি হত্যার অভিযোগ এবং প্রথম-ডিগ্রি হত্যার ষড়যন্ত্রের একটি অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, হামলার আগে সান্তিয়াগো দুই বন্দুকধারীর সঙ্গে যোগাযোগ করে হামলার ভিডিও লাইভস্ট্রিম করা ও তা ছড়িয়ে দেওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছিল। অভিযোগ অনুযায়ী, সে হামলাকারীদের লেখা একটি ইশতেহারও প্রকাশ করে।

গত ১৮ মে সান দিয়েগোর ক্লেয়ারমন্ট এলাকার ইসলামিক সেন্টার অব সান দিয়েগোতে ১৭ বছর বয়সী কেইন ক্লার্ক ও ১৮ বছর বয়সী ক্যালেব ভাসকেজ গুলি চালায়। হামলায় তিন মুসলিম পুরুষ নিহত হন। তারা হলেন ৫৭ বছর বয়সী নাদির আওয়াদ, ৭৮ বছর বয়সী মানসুর কাজিহা এবং ৫১ বছর বয়সী আমিন আবদুল্লাহ। আবদুল্লাহ মসজিদের নিরাপত্তারক্ষী ছিলেন এবং হামলাকারীদের প্রতিরোধ করতে গিয়ে গুলিবিনিময়ে অংশ নেন।

হামলার সময় ইসলামিক সেন্টারে প্রায় ১৪০ জন মানুষ ছিলেন, যাদের অধিকাংশই স্কুলশিক্ষার্থী। হামলার পর ক্লার্ক ও ভাসকেজ ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে কয়েক ব্লক দূরে যায় এবং পরে নিজেদের গাড়িতে আত্মহত্যা করে বলে কর্তৃপক্ষ জানায়।

তদন্তকারীদের ধারণা, ক্লার্ক ও ভাসকেজ অনলাইনে পরিচিত হয়েছিল এবং সেখানে ঘৃণাভিত্তিক মতাদর্শে উগ্রপন্থী হয়ে ওঠে। ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি ও'নিল জানান, হামলাকারীরা গোপ্রো ক্যামেরাযুক্ত হেলমেট পরে হামলার ভিডিও লাইভস্ট্রিম করছিল। অন্তত তিনজন সেই লাইভস্ট্রিম দেখছিলেন বলে তদন্তে জানা গেছে। তাদের মধ্যে পূর্বাঞ্চলীয় সময় অঞ্চলে বসবাসকারী এক তরুণী ছিলেন, যাকে পরে সান্তিয়াগো হিসেবে শনাক্ত করা হয়।

অভিযোগপত্রে আরো বলা হয়েছে, সান্তিয়াগো হামলাকারীদের একজনকে নাৎসি প্রতীকযুক্ত একটি প্যাঁচ কিনে পাঠিয়েছিল। হামলার সময় ওই হামলাকারী প্যাঁচটি পরেছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রসিকিউটরদের দাবি, হামলার পর ঘটনাটির ভিডিও ও ইশতেহার ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রেও সান্তিয়াগো ভূমিকা রাখে।

ফোরসিথ কাউন্টির ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির মতে, দুই হামলাকারীর পরিকল্পনা শুধু মসজিদে হামলার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। তাদের পরবর্তী লক্ষ্য ছিল একটি স্থানীয় ইহুদি উপাসনালয় এবং একটি প্রধানত আফ্রিকান-আমেরিকান উচ্চবিদ্যালয়। ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি ও'নিল বলেন, তাদের উদ্দেশ্য ছিল যত বেশি সম্ভব মানুষকে হত্যা করা এবং সেই হত্যাকাণ্ডের ভিডিও ধারণ করে অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়া।

সান্তিয়াগো নিজে ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল না। তার আইনজীবী অ্যালান দুরাসামি সিনিয়র অভিযোগগুলো অস্বীকার করে বলেছেন, তার মক্কেল নির্দোষ। তবে প্রসিকিউটররা নর্থ ক্যারোলিনার এমন একটি আইন ব্যবহার করছেন, যার অধীনে কোনো ব্যক্তি নিজে অপরাধ সংঘটনের মূল কাজ না করলেও অন্যকে অপরাধে সহায়তা বা উৎসাহ দিলে সেই অপরাধের জন্য তাকে দায়ী করা যেতে পারে।

এফবিআইয়ের সান দিয়েগো কার্যালয় জানিয়েছে, তদন্তে ১০০টির বেশি সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে, ৩০টির বেশি তল্লাশি পরোয়ানা কার্যকর করা হয়েছে এবং ৪০ লাখের বেশি বার্তা পর্যালোচনা করা হয়েছে। সান দিয়েগো পুলিশ হামলাটিকে হেট ক্রাইম হিসেবে তদন্ত করছে এবং আরো কেউ এই হামলায় জড়িত ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে। সোমবারের গ্রেফতার এই মামলায় প্রথম বড় ধরনের গ্রেফতার। সান দিয়েগো পুলিশ প্রধান স্কট ওয়াহল বলেন, সান্তিয়াগোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া নিহত তিন ব্যক্তির জন্য ন্যায়বিচারের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।


প্রকাশক: মঞ্জুর হোসেন

সম্পাদক: মিজানুর রহমান

House : 29, Road : 01 Sector : 02, Block :F Aftabnagar, Dhaka:1212 (Opposite China Building) E-mail : deshusdhaka@gmail.com (Advertising & News For Bangladesh)