রোগীর সুস্থতায় পরিবারের সদস্যদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য জ্ঞান ও দক্ষতা দিয়ে তাঁদের সক্ষম করে তোলা গেলে রোগীর সুস্থতার হার বাড়ানো, হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরার পর নিরাপদ পরিচর্যা নিশ্চিত করা এবং হাসপাতালের সেবা নিয়ে রোগী ও পরিবারের সন্তুষ্টি বাড়ানো সম্ভব। রবিবার এক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে এমনটাই জানালেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
হাসপাতালে পরিবার পরিচর্যাকারীদের (ফ্যামিলি কেয়ারগিভার) জন্য স্বাস্থ্য শিক্ষা সেবা অন্তর্ভুক্ত করতে মাউন্ট অ্যাডোরা হাসপাতাল ও নূরা হেলথ বাংলাদেশের মধ্যে ৩০ আগস্ট নূরা হেলথের কার্যালয়ে এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।
এর আওতায় মাউন্ট অ্যাডোরা হাসপাতালের নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে, যাতে তাঁরা হাসপাতালে উপস্থিত রোগী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের কাঠামোবদ্ধ স্বাস্থ্য শিক্ষা দিতে পারেন। এই কর্মসূচির মাধ্যমে পরিবারের সদস্যদেরকে রোগীর বিপদচিহ্ন শনাক্ত করা, নিয়মিত ওষুধ গ্রহণ, ক্ষতের পরিচর্যা এবং হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পাওয়ার পর বাড়িতে রোগীর যত্ন নেওয়ার বিষয়ে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরামর্শ দেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পাওয়ার পর একজন রোগীর যত্নের মূল দায়িত্বটি পালন করেন পরিবারের সদস্যরাই। তাই পরিবার পরিচর্যা বিষয়ক স্বাস্থ্য শিক্ষাকে (ফ্যামিলি কেয়ারগিভিং এডুকেশন) নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবার অংশ করার মাধ্যমে হাসপাতালের বাইরে রোগীর নিরাপদ ও ধারাবাহিক পরিচর্যা নিশ্চিত করা সম্ভব। হাসপাতালের নিয়মিত সেবার সঙ্গে স্বাস্থ্য শিক্ষা যুক্ত করার মাধ্যমে পরিবারের সদস্যরা তাদের প্রিয়জনের যত্ন নেওয়ার ক্ষেত্রে আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠেন এবং স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানটির প্রতিও তাদের আস্থা বাড়ে।
মাউন্ট অ্যাডোরা হাসপাতাল, সিলেট-এর চিফ অপারেটিং অফিসার ডা. তানভীর উজ জামান বলেন, “আমাদের হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পাওয়া প্রতিটি রোগীর দায়িত্ব নেন তাঁর পরিবারের কোনো না কোনো সদস্য, যিনি পরবর্তী সময়ে তাঁর প্রধান পরিচর্যাকারী হয়ে ওঠেন। এই অংশীদারিত্বের মাধ্যমে আমরা পরিবারগুলোকে আরও ভালোভাবে সহায়তা করতে পারব, যাতে হাসপাতালে আমরা যে সেবা দিই, তা বাড়িতেও নিরাপদ ও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে অব্যাহত থাকে।”
পাবলিক হেলথ বিশেষজ্ঞ ও নূরা হেলথ বাংলাদেশের মেডিকেল ডিরেক্টর ডা. মাহবুবুর রশীদ বলেন, “পারিবারিক পরিচর্যা বিষয়ক স্বাস্থ্য শিক্ষা রোগীর সুস্থ্যতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সঠিক জ্ঞান ও দক্ষতা থাকলে পরিবারের সদস্যরা রোগীর জন্য আরও ভালো সিদ্ধান্ত নিতে পারে, স্বাস্থ্যকর অভ্যাস চর্চা করতে পারেন এবং সুস্থতার জন্য প্রয়োজনীয় ধারাবাহিক পরিচর্যা নিশ্চিত করতে পারেন।”
নূরা হেলথ বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর হোসনে আরা খন্দকার বলেন, “পরিবারের সদস্যরা স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার একটি অপরিহার্য অংশ, তবে তাঁদের এই অবদান প্রায়ই যথাযথ স্বীকৃতি পায় না। মাউন্ট অ্যাডোরা হাসপাতালে কেয়ার কম্প্যানিয়ন প্রোগ্রাম চালু করতে পেরে এবং হাসপাতালটির সঙ্গে একযোগে কাজ করে পরিবার পরিচর্যা বিষয়ক স্বাস্থ্য শিক্ষাকে সেবা প্রদানের একটি নিয়মিত অংশে পরিণত করতে পেরে আমরা গর্বিত।”
এই কর্মসূচি মাউন্ট অ্যাডোরা হাসপাতালের ইনপেশেন্ট ওয়ার্ড এবং আউটপেশেন্ট বিভাগ জুড়ে বাস্তবায়িত হবে, যার আওতায় থাকবে নার্সদের মাধ্যমে পরিচালিত শিক্ষা সেশন, বাংলা ভাষায় মুদ্রিত ও ডিজিটাল স্বাস্থ্য শিক্ষা উপকরণ, এবং হাসপাতাল থেকে ছাড়প্রাপ্ত রোগী ও তাঁদের পরিবারের জন্য ফোনভিত্তিক ফলোআপ সহায়তা।