প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান সিসকো তার মুসলিম, মধ্যপ্রাচ্যের ও ফিলিস্তিনপন্থী কর্মীদের বিরুদ্ধে বৈষম্য করেছে,এমন অভিযোগের পক্ষে যৌক্তিক কারণ রয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের দ্য ইকুয়াল এমপ্লয়মেন্ট অপরচুনিটি কমিশন। কমিশনের জুনে দেওয়া এক সিদ্ধান্তপত্রে বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির অভ্যন্তরীণ যোগাযোগমাধ্যমে মুসলিম ও মধ্যপ্রাচ্যীয় কর্মীদের বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক ও ইসলামবিদ্বেষী মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে সিসকো তাদের জন্য একটি বৈরি কর্মপরিবেশ তৈরি করেছিল বলে বিশ্বাস করার যৌক্তিক কারণ রয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত ২০২৪ সালে। ওই বছর সিসকোর প্রায় ১,৭০০ কর্মী একটি খোলা চিঠিতে প্রতিষ্ঠানটির ইসরায়েল সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার আহ্বান জানান। অভিযোগ অনুযায়ী, চিঠিটি প্রকাশের পর সিসকোর অভ্যন্তরীণ মেসেজিং প্ল্যাটফর্মগুলোতে ইসলামবিদ্বেষী, আরববিদ্বেষী ও ফিলিস্তিনবিরোধী মন্তব্য বেড়ে যায়। চিঠিতে স্বাক্ষরকারী অনেক কর্মীকেও এসব মন্তব্য ও হয়রানির লক্ষ্যবস্তু করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে।
দ্য ইকুয়াল এমপ্লয়মেন্ট অপরচুনিটি কমিশনের ৭৬ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনে সিসকোর অভ্যন্তরীণ যোগাযোগমাধ্যমে কর্মীদের করা বিভিন্ন মন্তব্যের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, কিছু কর্মী সহিংসতাকে মহিমান্বিত করেছেন, মানুষকে হত্যার বিষয়ে রসিকতা করেছেন এবং ফিলিস্তিনি, আরব ও মুসলিমদের সহিংস বা হত্যাকারী হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। এসব আচরণ কর্মক্ষেত্রে বৈরী পরিবেশ তৈরিতে ভূমিকা রেখেছে বলে কমিশন মনে করেছে।
কমিশনের সিদ্ধান্তটি চলতি বছরের জুনে দেওয়া হলেও তা এতদিন প্রকাশ্যে আসেনি। পরে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনের মাধ্যমে বিষয়টি সামনে আসে। দ্য ইকুয়াল এমপ্লয়মেন্ট অপরচুনিটি কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সিসকো কর্মীদের অভিযোগের পর তাদের সুরক্ষায় সময়মতো ও যথাযথ ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়ে ১৯৬৪ সালের সিভিল রাইটস অ্যাক্টের টাইটেল সেভেন লঙ্ঘন করে থাকতে পারে। এ আইনে ধর্ম ও জাতীয় উৎসের ভিত্তিতে কর্মক্ষেত্রে বৈষম্য ও হয়রানি নিষিদ্ধ।
মুসলিম অধিকার সংগঠন কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস কমিশনের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। সংগঠনটি বলেছে, ধর্ম, জাতীয় উৎস বা সুরক্ষিত কোনো সম্প্রদায়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার কারণে কর্মীদের হয়রানি বা বৈষম্যের শিকার হওয়া থেকে রক্ষা করা নিয়োগকর্তাদের আইনি দায়িত্ব।তবে সিসকো দ্য ইকুয়াল এমপ্লয়মেন্ট অপরচুনিটি কমিশনের অনুসন্ধানের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, তারা উত্থাপিত অভিযোগগুলো বিস্তারিতভাবে তদন্ত করেছে এবং যথাযথ ব্যবস্থা নিয়েছে। একই সঙ্গেকমিশনের সিদ্ধান্তের সঙ্গে তারা একমত নয় বলে জানিয়েছে।
এদিকে ক্যালিফোর্নিয়ার শ্রম কমিশনারের কার্যালয় এবং ন্যাশনাল লেবার রিলেশনস বোর্ডে দায়ের করা পৃথক অভিযোগগুলো এখনো নিষ্পত্তি হয়নি। দ্য ইকুয়াল এমপ্লয়মেন্ট অপরচুনিটি কমিশনের এ সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে সিসকোর কর্মক্ষেত্রে ধর্ম, জাতীয় উৎস এবং ফিলিস্তিনপন্থী মত প্রকাশের সঙ্গে সম্পর্কিত বৈষম্য ও হয়রানির অভিযোগ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।