ইতালির ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নিতে গিয়ে চরম অপ্রীতিকর ঘটনার মুখোমুখি হয়েছেন জনপ্রিয় অভিনয়শিল্পী আজমেরী হক বাঁধন। ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ সিনেমার প্রদর্শনী শেষে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঘুরতে বের হলে তাঁকে লাঞ্ছিত ও হেনস্তা করা হয়। ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানে সক্রিয় ভূমিকার জের ধরে একদল লোক তাঁর ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ উঠে। তবে এই ঘটনায় দমে না গিয়ে আইনি লড়াই ও অন্যায়ের শেষ দেখে ছাড়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি। ভেনিসে অবস্থানকালে নিজের বর্তমান অবস্থা, আইনি পদক্ষেপ এবং সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত ও পাঠকপ্রিয় ‘দেশ’-এর সাথে কথা বলেছেন আজমেরী হক বাঁধন। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন আলমগীর কবির
প্রশ্ন: ভেনিসে এই অপ্রীতিকর ঘটনার পর বর্তমানে আপনার শারীরিক ও মানসিক অবস্থা কেমন? ভক্তরা আপনাকে নিয়ে বেশ দুশ্চিন্তায় আছেন।
আজমেরী হক বাঁধন: প্রচুর মানুষ আমাকে ফোন করছেন, আমার খবর নেওয়ার চেষ্টা করছেন আমি কেমন আছি, কোথায় আছি, কীভাবে আছি? আমি শুধু আপনাদের সবাইকে বলতে চাই, আলহামদুলিল্লাহ, আমি ঠিক আছি। আমি আমার মাথা কখনো নত করিনি, আর সেটা করতে ভুলেও গেছি। তাই আমাকে ভেঙে ফেলা এত সহজ নয়। বাঁধন সাহস হারানোর জন্য জন্মায়নি। আমাকে ভয় দেখানো বা ভেঙে ফেলা এত সহজ নয়।
প্রশ্ন: ঘটনার পর স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন ও বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে কোনো সহযোগিতা পেয়েছেন কি?
আজমেরী হক বাঁধন: ইতালির স্থানীয় পুলিশ আমাকে ভীষণ সহযোগিতা করেছে। হামলার পর তারা আমাকে নিরাপদ একটি জায়গায় পৌঁছে দিয়েছে। আজ বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে সম্মানিত অ্যাম্বাসেডর সাহেব আমাকে ফোন করেছিলেন, তাঁর অফিস থেকে প্রতিনিধি এসেছেন। তাঁদের সঙ্গে নিয়ে আমি থানায় যাচ্ছি কেস ফাইল করতে। এছাড়া বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকেও আমার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে।
প্রশ্ন: হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে কতটা অগ্রগতি হলো?
আজমেরী হক বাঁধন: আমাদের কাছে সমস্ত প্রমাণ আছে এবং আমরা এরই মধ্যে কয়েকজনকে চিহ্নিত করেছি। আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, আইনি ব্যবস্থা না নিয়ে এবং এটার শেষ না দেখে আমি ভেনিস ছেড়ে বাংলাদেশে আসছি না। এটার শেষ আমি দেখেই ছাড়ব।
প্রশ্ন: আপনার ওপর ঠিক কী কারণে এই হামলা বা হেনস্তা করা হয়েছে বলে মনে করছেন?
আজমেরী হক বাঁধন: ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আমার সক্রিয় ভূমিকার কারণেই ইতালিতে আমাকে লক্ষ্য করে এই হামলা ও হেনস্তা করা হয়েছে। আমি জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে বাংলাদেশের জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছিলাম, যেটা আমি মনে করি আমার জীবনে নেওয়া অন্যতম সঠিক সিদ্ধান্ত। আমি একজন গর্বিত জুলাই যোদ্ধা।
প্রশ্ন: আপনার সাথে আপনার পরিবারের সদস্যরাও ছিলেন। তাদের নিরাপত্তা ও মানসিকভাবে কেমন আছেন তারা?
আজমেরী হক বাঁধন: সত্যি বলতে, আমার নিজের ওপর হামলার চেয়ে আমার ভাই ও তার পরিবারের সদস্যদের হেনস্তার ঘটনায় আমি বেশি ক্ষুব্ধ। বিশেষ করে আমার ছোট ভাই, তার স্ত্রী এবং তিন বছরের শিশুসন্তান যেভাবে অ্যাসল্টেড ও হ্যারাজড হয়েছে, তা অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক। ওদের এই ধরনের নিগ্রহের মুখোমুখি হতে দেখে আমি মারাত্মকভাবে আপসেট।
প্রশ্ন: এই কঠিন সময়ে দেশবাসী ও বিনোদন অঙ্গনের মানুষের সমর্থন কেমন পাচ্ছেন?
আজমেরী হক বাঁধন: গতকাল ঘটনাটি ঘটে যাওয়ার পর থেকে প্রতিটি মানুষ আমাকে যেভাবে সাপোর্ট করেছেন ফোন, মেসেঞ্জার ও হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা দিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছেন, তার জন্য আমি ভীষণভাবে তাদের কাছে কৃতজ্ঞ। আমি মনে করি, আমি একজন গর্বিত বাংলাদেশি। কারণ, আমার বিপদে আমার দেশের মানুষ আমার পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। সেটার জন্য অনেক অনেক ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা।