বিএনপি আওয়ামী স্টাইলেই দল চালাচ্ছে


সৈয়দ মাহবুব মোর্শেদ , আপডেট করা হয়েছে : 30-09-2026

বিএনপি আওয়ামী স্টাইলেই দল চালাচ্ছে

মাঠে নেমেছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্য। আট দফা দাবিতে দেশব্যাপী বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচি ও লংমার্চ চলছে তাদের মাঠ পর্যায়ের কর্মসূচিতে। জোটের দাবিগুলি হচ্ছে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, জ্বালানি তেল, গ্যাস ও সারের সংকট নিরসন; নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ করা ও এর পাশাপাশি দুর্নীতি, দখলবাজি ও চাঁদাবাজি বন্ধ। দিনের পর দিন দফা বাড়িয়েই সহযোগিদের নিয়ে মাঠ তাজা রাখছে জামায়াত। 

৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম লংমার্চের মধ্য দিয়ে ১১-দলীয় ঐক্যের এই কর্মসূচি শুরু হয়েছে। এরপর ১৯ সেপ্টেম্বর রংপুর অভিমুখে লংমার্চ করে। আগামী ৩১ অক্টোবর খুলনা বিভাগ এবং ২১ নভেম্বর সিলেট অভিমুখে লংমার্চ করবে তারা। এর পরে খুলনা বিভাগের লংমার্চেও সমাপনী কুষ্টিয়ায় হবে এবং সিলেটের লংমার্চ ট্রেনযোগে হবে বলে জানা গেছে। সব শেষে ডিসেম্বরে কথা আছে লংমার্চের প্রচার প্রচারণা এর ফালাফল নিয়ে মহাসমাবেশ।

বিএনপি কি করছে?

জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের এসব জনজাগরণমূলক কর্মসূচির বিপরীতে বিএনপির কোনো কর্মসূচি দেখা যাচ্ছে না। তবে রাজধানীতে মাঝে মাঝে নয়া পল্টন মোড়ে রাস্তাঘাট বন্ধ করে বিভিন্ন ধরনের সভা সমাবেশ শেষ করে খোশ গল্প করে দিন পার করে ওই এলাকায় চায়ের কাপে ঝড় তোলায় ব্যস্ত। কারো কারো মতে বিএনপি আওয়ামী স্টাইলে পরিচালিত করছে। দলটির যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদল, মহিলা দলসহ প্রতিটি সংগঠন এখন পর্যন্ত মাঠে কেমন কর্মসূচি দিচ্ছে না বা আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। কিংবা কোনো ধরনের জনদূর্ভোগেও তারা এখন জনগণের পাশে থাকছেন না। 

দলের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলোর বিশ্লেষণ হচ্ছে দীর্ঘ ১৭ বছর পর ২০২৬ সালের শুরুতে সরকার গঠনের পর রাষ্ট্র পরিচালনার পাশাপাশি সাংগঠনিক কার্যক্রমকে গতিশীল রাখার দ্বিমুখী চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে বিএনপি। দলটির মূল এবং অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলোর কর্মকান্ডে এক ধরনের স্থবিরতা দেখা গেছে, যাকে দলের ভেতরে ও বাইরে ’সাংগঠনিক স্থবিরতা’ বা ’মুখ থুবড়ে পড়া’ অবস্থা হিসেবে দেখছেন অনেকে। দখল-চাঁদাবাজী-সন্ত্রাস, কিশোর গ্যাং এর উৎপাতসহ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে অন্যকে দোষারোপে ব্যস্ত। কোথাও কোথাও মব সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে বিএনপির বিরুদ্ধে। 

অনিশ্চিত কাউন্সিল

কারো কারো মতে দলের কাউন্সিল দ্রুত করা দরকার। তবে জাতীয় কাউন্সিল আগে দলের সাংগঠনিক ভিত্তি চাঙা করার বিষয়েকে অনেকে প্রাধান্য দিচ্ছেন। এর অংশ হিসেবে স্বল্প সময়ে সহযোগী সংগঠনগুলোর মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটিগুলো পুনর্গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা শোনা গেলেও তা কাগজে কলমেই রয়ে গেছে। কারো কারো মতে, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর দলের স্থায়ী কমিটি ও নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ের শীর্ষ নেতাদের বড় অংশই এখন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়, সংসদ সদস্য কিংবা রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। 

ফলে দলীয় কার্যালয় ও মাঠপর্যায়ের সাংগঠনিক কর্মকান্ডে তাঁদের সময় ও মনোযোগ আগের চেয়ে কমে গেছে। কারো কারো মতে, মাঠপর্যায়ে বর্তমান সংসদ সদস্যদের বলয় এবং স্থানীয় পদবঞ্চিত ত্যাগী নেতাদের মধ্যে বিভেদ তৈরি হয়েছে। আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে দলীয় মনোনয়ন এবং আধিপত্য বিস্তার নিয়ে তৃণমূলে অভ্যন্তরীণ কোন্দল বৃদ্ধি পেয়েছে। 

এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে বিএনপির একশ্রেণীর নেতাকর্মীদের মধ্যে বেপরোয়া ভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যার ফলে বিভিন্ন স্থানে সহিংসতা, সন্ত্রাস, দখলবাজি এবং চাঁদাবাজি বৃদ্ধির খবর গণমাধ্যমে ও জনমনে তীব্র উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। আর এমন পরিস্থিতিতে ফাঁকা মাঠে জামায়াতের ব্যাটিং চালিয়ে যাচ্ছে। কারো কারো মতে, বিএনপি আওয়ামী স্টাইলেই দল চালাচ্ছে..।


প্রকাশক: মঞ্জুর হোসেন

সম্পাদক: মিজানুর রহমান

House : 29, Road : 01 Sector : 02, Block :F Aftabnagar, Dhaka:1212 (Opposite China Building) E-mail : deshusdhaka@gmail.com (Advertising & News For Bangladesh)