২২ জুলাই ২০১২, সোমবার, ০৭:২৯:২৯ অপরাহ্ন


ডিপ্রেশন কী, জানতে হবে আগে
মণিজিঞ্জির সান্যাল
  • আপডেট করা হয়েছে : ৩১-১০-২০২২
ডিপ্রেশন কী, জানতে হবে আগে


 আঘাত কি মানুষকে শক্ত করে? মনে হয় করে কিন্তু অনেক সময় সেই আঘাত এতোটাই বিধ্বস্ত করে যে অনেক ক্ষেত্রে তখন মৃত্যুর কাছেই নিজেকে সে সমর্পন করে। ডিপ্রেশন বা বিষণ্ণতা এমন-ই একটা আঘাত।


    মন খারাপ আর বিষণ্ণতা কিন্তু এক জিনিস নয়। মন খারাপ হলে কিছুদিন পর  তা ঠিক হয়ে যায় । যেমন রেজাল্ট ভাল না করা , কারো মৃত্যু ইত্যাদি ক্ষেত্রে. আমরা অনেক ক্ষেত্রেই বলি " আমি খুব বিষণ্ণ " বা " আমি খুব ডিপ্রেসড " কিন্তু বাস্তবে তাকে  বলে মন খারাপ,  এই প্রবল মন খারাপকেই ইংরেজিতে বলি sadness... এটি কিন্তু সময়ের সাথে সাথে ফিকে হয়ে যায়, আমরা তখন স্বাভাবিক জীবনে আবার ফিরে আসি।

 কিন্তু ডিপ্রেসন বা বিষণ্ণতা কিন্তু অন্য  জিনিস। ধীরে ধীরে সেটি আরো যেন আঁকড়ে ধরে। এমনকি শেষে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয় । 


ডিপ্রেশনের উল্টোটা মানেই এই নয় যে তিনি সারাদিন হৈ হৈ করে বেড়ান । ডিপ্রেশনের উল্টোটা হচ্ছে এই যে তিনি স্বাভাবিক জীবন- যাপন করেন। সময় মতো স্নান- খাওয়া- অফিস- ছেলে মেয়েদের সাথে খেলা গল্প ইত্যাদি ।


কিন্তু যারা ডিপ্রেশনে আছেন তাঁরা বিছানা ছেড়ে উঠতেই চাইবেন না, কোথাও যেতে চাইবেন না। শরীরে কোনো অসুখ না থাকলেও শরীরকে টেনে নিয়ে যাওয়াই তার কাছে বিড়ম্বনা ।  সমস্যাটা কি জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন ভীষণ একটা শূন্যতা , কি যেন নেই নেই ।এক ভয়ঙ্কর শূন্যতা থেকেই জীবনকে তাঁর তুচ্ছ মনে হয়। এরপর জগৎ সংসারের সব কিছু তার শূন্য মনে হতে থাকে এবং সেই ভাবনা থেকেই আত্মহত্যার ভাবনা তাঁর মাথায় ঘুরতে থাকে।


অনেকেই আমরা বলে থাকি  " কি কাপুরুষ জীবন থেকে পালালো "   বা বলি  " কি বোকা নিজের জীবনকে এইভাবে কেউ শেষ করে " ইত্যাদি ইত্যাদি । 


    কিন্তু আমরা একবারও ভেবে দেখেছি কি যে কতোটা শূন্যতা থেকে একটা মানুষ নিজের জীবনকে শেষ করে দিতে পারে ! আমরা অনেক সময়ই বলি ডিপ্রেশান এক ধরনের শৌখিনতা। আসলে আমরা যা কিছুই বিচার করি তা আমাদের অভিজ্ঞতার আলোকে , আর যা আমাদের অভিজ্ঞতার বাইরে তা নিয়ে রূঢ় জাজমেন্ট করতে আমাদের  খুব একটা সময় লাগে না।


 আমি দু-তিনজন এমন মানুষকে দেখেছি। বাইরে থেকে দেখলে মনে হয়েছে তাঁর দুঃখ থাকার মতো কিচ্ছু নেই। কিন্তু কি ভয়ানক শূন্যতা নিয়ে তাঁরা বেঁচে আছেন।

 তাঁরা কারো কাছে নিজের কথা বলে একটু হালকা হতে চান , এর বেশি কিছু কিন্তু তাঁর চাহিদা নেই। 


 একজন ডিপ্রেসড মানুষকে দুম করে জাজ করাটা কিন্তু ঠিক নয় । তাঁকে বোঝাতে যাওয়াও ঠিক নয় যে দেখো তোমার চেয়ে অন্যদের জীবন কতো ভাল ;  আমরা কি একজন ক্যান্সার রোগিকে এই কথাগুলো বলি ?

বরং তাঁর কথাগুলো মন দিয়ে শুনলে তিনি অন্তত বুঝবেন যে এই পৃথিবীতে তিনি একা নন , কেউ একজন অন্তত আছে তাঁর কথা শোনার। হয়ত এই বিশ্বাস থেকে তিনি আবার তাঁর স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতেই পারেন।

       দার্শনিক ফ্রেডরিক নীৎসের বিখ্যাত উদ্ধৃতিটি " ........ which does not kill us makes us stronger "


শেয়ার করুন