২২ জুলাই ২০১২, সোমবার, ০৭:০৭:৫০ অপরাহ্ন


বিএনপির মধ্যবর্তী নির্বাচনের দাবি গেলো কই?
সৈয়দ মাহবুব মোর্শেদ
  • আপডেট করা হয়েছে : ১০-০৭-২০২৪
বিএনপির মধ্যবর্তী নির্বাচনের দাবি গেলো কই?


দেশে একটি অংশগ্রহণমূলক ও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে আন্দোলনের ব্যাপারে রহস্যজনক নিরবতা পালন করছে বিএনপি। এমনকি এই ইস্যুতে সমমনাদের সাথে এখন কোনো ধরনের আলাপও করছে না। বিএনপি কি ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনকে গোপনে মেনে নিয়েছে না-কি একটি মধ্যবর্তী নির্বাচন চাইবে সে-ব্যাপারেও কোনো উত্তর মিলছে না দলটির পক্ষ থেকে। পুরো বিষয়টিকে রাজনৈতিক ময়দানে রহস্যজনকভাবে ধোয়াশায় রেখেছে বিএনপি তার দলের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি যুগপৎ আন্দোলনে সমমনাদেরও। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের। 

রাজনৈতিক বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, বিএনপি এখন দেশে একটি অংশগ্রহণমূলক ও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে কোনো কর্মসূচি দিচ্ছে না বা দিতেও চাচ্ছে না। ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার এটি সুষ্ঠু নিরপেক্ষভাবে হয়নি বলে রাজপথে কয়েকদিন আওয়াজ তুললেও এখন এব্যাপারে একেবারে নিরব। এমনকি এই ইস্যুতে লিফলেট কর্মসূচিতেও নেই বিএনপি। বরং দলটি একা কারো সাথে বিশেষ করে সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে ওই সময়ে সম্পৃক্ত হওয়া মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের উদার বাম প্রগতিশীলসহ বেশ কয়কটি রাজনৈতিক দলের সাথে পরামর্শ না করে একাই চলছে, দিচ্ছে বিভিন্ন কর্মসূচি

নতুন বিপত্তি দল পুনর্গঠনের আওয়াজ

এদিকে ৭ জানুয়ারির জাতীয় নির্বাচন বাতিল নতুন নির্বাচনের দাবিতে বিএনপি কোনো ধরনের কর্মসূচি না দিয়ে শুরু করেছে দল পুনর্গঠন প্রক্রিয়া। প্রতি সপ্তাহেই এখন খবর বের হয় অমুক অঙ্গ সংগঠনের পুনর্গঠন প্রক্রিয়া নেয়া হযেছে। বলা হচ্ছে, গঠন করা হয়েছে নতুন কমিটি। কোনো অঙ্গ সংগঠনের কমিটিতে রাঘব-বোয়ালদের বাদ দেয়ার খবর বেরুচ্ছে আবার সেখানে নতুন অপরিচিত মুখ আনার খবর প্রকাশ পাচ্ছে। এসব খবরেই বিএনপি এখন প্রতিদিনে সংবাদপত্রের পাতায় স্থান পাচ্ছে। আবার দেখা যাচ্ছে, এসব নিয়ে দলের মধ্যে চরম অসন্তোষও বিরাজ করছে। 

ইতোমধ্যে অভিযোগ উঠেছে আচমকা সংস্কারের কারণে অনেক ত্যাগী, অভিজ্ঞ ও নির্যাতিত নেতাকে ‘গুরুত্বহীন’ পদ দিয়ে অবমূল্যায়ন করা হয়েছে। অনেক নেতাকে কোনো ধরনের কারণ ছাড়াই পদ দিয়ে পুরস্কৃত করা হয়েছে। সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে সরকারের বিরুদ্ধে যারা এক দফার আন্দোলনে ‘ভূমিকা’ রেখেছিল তাদের মূল্যায়ন না করারও অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ উঠেছে, যারা মামলা-হামলার শিকার হননি, যারা নির্যাতিত হননি- এমন নেতাদেরও দেওয়া হয়েছে পদোন্নতি। ছাত্রদলের এমন ধরনের কমিটি করা হয়েছে যেখানে অন্য সম্প্রদায়ের হাতেগোনা কয়েকজনকে কমিটিতে রাখা হয়েছে, এমনকি এতে কম সংখ্যক নারীদের কমিটিতে স্থান দেয়া হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, ছাত্রদলের কমিটিতে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে বিরোধীতাকারী মৌলবাদি সাম্প্রদায়িক সংগঠন জামায়াতে ইসলামী’র অঙ্গ সংগঠন শিবির সমর্থিতদেরও বেশি প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। ফলে এখন কার্যত বিএনপি’র হাই কমান্ড এসব নিয়েই ব্যস্ততা দেখাচ্ছে। 

মধ্যবর্তী নির্বাচনের দাবি গেলো কই?

দেশে-বিদেশে বিশেষ করে পশ্চিমাদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত ৭ জানুয়ারির নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক হয়নি বলে জানিয়ে দিয়েছে। একই সুরে বিএনপি’র নেতারাও দেশে-বিদেশে মাঠ কাঁপিয়েছে। কিন্তু এখন দলটি নিরব। কিন্তু কেনো? কারো কারো মতে, বিএনপি হয়তাবা আবারও কোনো পশ্চিমাদের পাশাপাশি অন্য কোনো রাষ্ট্রের বুদ্ধি-পরামর্শে চুপ করে আছে। অথবা দলের হাইকমান্ড বুঝতে পেরেছে নিজেদের নির্বুদ্ধিতা। বুঝেছে দলটির রাজনৈতিক কৌশল ভূ-রাজনৈতিক ইস্যুতে মার খেয়েছে। আর না হয় নতুন কোনো মেরুকরণের আশায় আছে। সেটা হতে পারে দেশে বা বাহিরে। কারো কারো মতে, দলটি নতুন শক্ত-সামর্থবান মুরুব্বী দেশ ধরেছে। কারণ ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনেই ৭ জানুয়ারির জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়ে যাবার পর দলের একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল প্রথমে একটি প্রভাবশালী প্রতিবেশী দেশ ও পরে পশ্চিমা শক্তিধর দেশ সফর করে আসে। এর পর থেকেই বিএনপি’ হাই কমান্ড এক দফার আন্দোলন থেকে পুরোপুরি সরে আসে, দেয় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে কর্মসূচি। আর হাতে নেয় দল পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার নামে এক অভিনব কর্মযজ্ঞ, যা এখনো চলমান এর পাশাপাশি কতদিন চলবে তা-ও স্পষ্ট না। আর এতে করে ঢাকা পড়ে গেছে বা ঢেকে ফেলা হয়েছে দীর্ঘদিন ধরে বিএনপি’র ঘোষিত কর্মসূচি সুষ্ঠু নির্বাচন ও সরকারের পদত্যাগের এক দফা দাবিতে সমমনা দল ও জোটকে সাথে নিয়ে যুগপৎ আন্দোলন- এমনটাই মনে করে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকমহল।

শেয়ার করুন