২৭ অগাস্ট ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ০১:০৪:৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :


প্রবাসে সম্প্রীতি ও ভালোবাসার মিলনমেলা
নবাবগঞ্জ অ্যাসোসিয়েশনের ২০তম পিকনিক
দেশ রিপোর্ট
  • আপডেট করা হয়েছে : ২৬-০৮-২০২৬
নবাবগঞ্জ অ্যাসোসিয়েশনের ২০তম পিকনিক বেলুন উড়িয়ে বনভোজনের উদ্বোধন


প্রবাসের ব্যস্ত জীবনে শেকড়ের টান, পারস্পরিক সৌহার্দ্য এবং নতুন প্রজন্মের সঙ্গে বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের বন্ধন আরো দৃঢ় করার প্রত্যয়ে আনন্দঘন পরিবেশে গত ২৩ আগস্ট অনুষ্ঠিত হলো নবাবগঞ্জ উপজেলা অ্যাসোসিয়েশন অব ইউএসএ ইনকের ২০তম বার্ষিক পিকনিক ও ফ্যামিলি ডে ২০২৬।

নিউইয়র্কের লংআইল্যান্ডে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা সানকিন মোডো পার্কে আয়োজিত এ মিলনমেলা পরিণত হয় নবাবগঞ্জবাসীসহ প্রবাসী বাংলাদেশিদের এক প্রাণবন্ত পারিবারিক উৎসবে। সবুজ প্রকৃতি, খোলা আকাশ আর নির্মল পরিবেশের মাঝে শিশু-কিশোর, তরুণ-তরুণী ও প্রবীণ-সব বয়সের মানুষের উপস্থিতিতে পুরো পিকনিক এলাকা হয়ে ওঠে আনন্দমুখর। এবারের আয়োজনটি ছিল বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ সংগঠনটি তার ২০তম বার্ষিকী উদযাপন করছে। দীর্ঘ দুই দশকের পথচলায় প্রবাসে নবাবগঞ্জবাসীর মধ্যে যোগাযোগ, সহযোগিতা ও সম্প্রীতির যে সেতুবন্ধন গড়ে উঠেছে, এবারের পিকনিক যেন তারই এক সুন্দর ও জীবন্ত প্রতিচ্ছবি।

পিকনিক প্রাঙ্গণে প্রবেশ করতেই চোখে পড়ে পরিচিত মানুষের হাসিমুখ, আন্তরিক কুশল বিনিময় এবং দীর্ঘদিন পর একে অপরকে কাছে পাওয়ার উচ্ছ্বাস। কেউ পরিবার নিয়ে এসেছেন, কেউ বন্ধুদের সঙ্গে; আবার অনেকের জন্য এটি ছিল পুরোনো পরিচিতজনের সঙ্গে বহুদিন পর দেখা হওয়ার এক আনন্দঘন উপলক্ষ। চারদিকে সবুজ গাছপালা, ছায়াঘেরা পরিবেশ, পরিবারগুলোর আড্ডা এবং শিশু-কিশোরদের প্রাণচাঞ্চল্য-সব মিলিয়ে কয়েক ঘণ্টার জন্য প্রবাসের কর্মব্যস্ত জীবন যেন বদলে গিয়েছিল বাংলাদেশের কোনো পরিচিত সামাজিক উৎসবে। একই টেবিলে বসে গল্প, হাসি, স্মৃতিচারণ এবং একে অন্যের খোঁজখবর নেওয়ার মধ্য দিয়ে ফুটে ওঠে প্রবাসী জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শক্তি-পারস্পরিক সম্পর্ক ও একে অপরের পাশে থাকার মানসিকতা।

অনুষ্ঠানস্থলে বিভিন্ন ধরনের পোশাক ও পণ্যের স্টলও উৎসবের পরিবেশে ভিন্নমাত্রা যোগ করে। বিশেষ করে দেশীয় পোশাক ও সাজসজ্জার উপস্থিতি প্রবাসের মাটিতে বাংলাদেশের সংস্কৃতির আবহকে আরো দৃশ্যমান করে তোলে। এবারের পিকনিকের সফল আয়োজনের পেছনে নবাবগঞ্জ উপজেলা অ্যাসোসিয়েশন অব ইউএসএ ইনকের বর্তমান নেতৃত্বের আন্তরিক প্রচেষ্টা বিশেষভাবে প্রশংসার দাবি রাখে।

সংগঠনের প্রেসিডেন্ট গোলাম এন হায়দার মুকুট এবং সেক্রেটারি মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম পুরো আয়োজনকে সফল ও প্রাণবন্ত করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্ব ও সমন্বয়ের ভূমিকা পালন করেন। তাদের সাংগঠনিক দক্ষতা, আন্তরিকতা এবং সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করার মানসিকতার ইতিবাচক প্রতিফলন দেখা যায় অনুষ্ঠানের সার্বিক ব্যবস্থাপনায়।

বিশেষ কৃতিত্বের দাবিদার কনভেনার খালিদ আহমেদ বাবু। পিকনিকের বিভিন্ন কার্যক্রম সমন্বয় এবং পরিকল্পনা বাস্তবায়নে তার ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। একইভাবে মেম্বার সেক্রেটারি আসাদ জামান এবং চিফ কো-অর্ডিনেটর মো. ইউসুফ বিজু অতিথিদের জন্য একটি সুন্দর, আনন্দঘন ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ তৈরিতে আন্তরিকভাবে কাজ করেছেন।

আয়োজনকে আরো সমৃদ্ধ করতে চিফ বেনিফ্যাক্টর অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক অ্যাডভাইজর নুর আমিন, চিফ মেন্টর মো. গিয়াস উদ্দিন এবং গ্র্যান্ড প্যাট্রন অ্যান্ড ফ্যাসিলিটেটর আব্দুর রশিদ বাবু, আব্দুল করিমের সহযোগিতা, পরামর্শ ও সম্পৃক্ততাও ছিল প্রশংসনীয়।

বিশেষ করে প্রেসিডেন্ট গোলাম এন হায়দার মুকুট ও সেক্রেটারি মোহাম্মদ নজরুল ইসলামের নেতৃত্বে সংগঠনের কর্মকর্তা, সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবকেরা যেভাবে সম্মিলিতভাবে কাজ করেছেন, তা প্রবাসে একটি শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ কমিউনিটির সুন্দর উদাহরণ হয়ে উঠেছে।

একটি বড় অনুষ্ঠান সফল করতে শুধু পরিকল্পনা করলেই হয় না; মানুষকে একত্রিত করা, দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়া, অতিথিদের স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করা এবং সবার অংশগ্রহণের পরিবেশ তৈরি করাও জরুরি। এবারের আয়োজনে সেই সম্মিলিত নেতৃত্ব ও দলগত প্রচেষ্টার ইতিবাচক প্রতিফলন ছিল দৃশ্যমান। তবে এই সাফল্য শুধু কয়েকজনের নয়। সংগঠনের সকল কর্মকর্তা, সদস্য, স্বেচ্ছাসেবক, পৃষ্ঠপোষক, শুভাকাক্সক্ষী এবং অংশগ্রহণকারী পরিবারগুলোর সহযোগিতাই ২০তম বার্ষিক পিকনিককে একটি স্মরণীয় মিলনমেলায় পরিণত করেছে। তাদের প্রত্যেকের শ্রম, সময় ও আন্তরিকতা প্রশংসার দাবিদার।

এ ধরনের পারিবারিক আয়োজনের সবচেয়ে ইতিবাচক দিক হলো নতুন প্রজন্মকে নিজেদের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক শেকড়ের কাছাকাছি নিয়ে আসা। আমেরিকায় জন্ম নেওয়া বা বেড়ে ওঠা অনেক শিশু-কিশোর ও তরুণের কাছে বাংলাদেশের কোনো উপজেলার নাম হয়তো শুধুই তাদের বাবা-মা বা দাদা-দাদির স্মৃতির অংশ। কিন্তু এমন আয়োজন তাদের সামনে সে পরিচয়কে জীবন্ত করে তোলে। তারা দেখতে পায়, তাদের পরিবার একটি বৃহত্তর কমিউনিটির অংশ। তারা জানতে পারে তাদের পূর্বপুরুষের শেকড় কোথায়, কেন মানুষ একে অন্যকে এত আপন করে গ্রহণ করে এবং কেন হাজার হাজার মাইল দূরে থেকেও বাংলাদেশের একটি এলাকার নাম মানুষ হৃদয়ে ধারণ করে।

এ প্রজন্মগত সংযোগই ভবিষ্যতে একটি সংগঠনকে দীর্ঘস্থায়ী করে। তাই নবাবগঞ্জ উপজেলা অ্যাসোসিয়েশনের এ ধরনের উদ্যোগ শুধু একটি দিনের আনন্দ নয়; এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের হাতে নিজেদের পরিচয় ও ঐতিহ্য তুলে দেওয়ারও একটি কার্যকর মাধ্যম।

দুই দশকের গৌরবময় পথচলা

একটি সামাজিক সংগঠনের জন্য ২০ বছর অতিক্রম করা নিঃসন্দেহে একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। সময়ের সঙ্গে নেতৃত্ব বদলায়, প্রজন্ম বদলায়, মানুষের জীবন ও ব্যস্ততার ধরন বদলায়; কিন্তু একটি সংগঠন তখনই টিকে থাকে, যখন তার সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা, সম্মান এবং ঐক্যের ভিত্তি শক্ত থাকে। নবাবগঞ্জ উপজেলা অ্যাসোসিয়েশন অব ইউএসএ ইনকের ২০তম বার্ষিক পিকনিক সেই দীর্ঘ পথচলারই এক আনন্দঘন উদ্যাপন। এ দুই দশকে সংগঠনটির সঙ্গে যুক্ত অসংখ্য মানুষ তাদের সময়, শ্রম, অভিজ্ঞতা ও আন্তরিকতা দিয়ে সংগঠনকে এগিয়ে নিতে ভূমিকা রেখেছেন। বর্তমান নেতৃত্বের পাশাপাশি অতীতের সব কর্মকর্তা, সদস্য, শুভাকাক্সক্ষী ও স্বেচ্ছাসেবীর অবদানও এই দীর্ঘ যাত্রার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আজকের এ অবস্থান একদিনে তৈরি হয়নি। প্রজন্মের পর প্রজন্ম মানুষের ভালোবাসা, শ্রম ও সামাজিক দায়বদ্ধতার ওপর দাঁড়িয়েই একটি সংগঠন দুই দশকের মাইলফলক স্পর্শ করতে পারে।

বনভোজনে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপদেষ্টা গিয়াস আহমেদ, রাজনীতিবিদ জিল্লুর রহমান জিল্লু, জসীম ভূঁইয়া, আব্দুস সবুর, মোশাররফ হোসেন, এবাদ চৌধুরী, রিয়াজ মাহমুদ, সাংবাদিক কনক সরোয়ার, কবি দর্পণ কবীর, কবি মিশুক সেলিম, রাজনীতিবিদ মনিরুল ইসলাম, দেওয়ান কাউছার, ঢাকা জেলা অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি দুলাল বিহেদু, বাংলাদেশ সোসাইটির কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর সরওয়ার্দী, বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক কর্মকর্তা সাদী মিন্টু, সরওয়ার খান বাবু, রফিকুল ইসলাম ডালিম, শেখ শাহজাহান, প্রফেসর রফিকুল ইসলাম, বাংলাদেশ সোসাইটির কর্মকর্তা মোহাম্মদ আকতার বাবুল, বাংলাদেশ সোসাইটির কোষাক্ষধ্য মফিজুল ইসলাম ভূঁইয়া রুমি প্রমুখ।

সেলিম ইব্রাহিমের পরিচালনায় ছিল প্রবাসের জনপ্রিয় শিল্পীদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শেষে বিতরণ করা হয় খেলাধুলায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ ও র‌্যাফেল ড্রর পুরস্কার বিতরণ।

শেয়ার করুন