২৩ জুলাই ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ০৫:২৬:১৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
স্ত্রী-সন্তানকে বাঁচাতে গিয়ে দগ্ধ নোয়াখালীর সোহাগের মৃত্যু ব্রঙ্কসে ‘ডিটেকটিভ ফার্স্ট গ্রেড দিদারুল ইসলাম ওয়ে’ ফিলাডেলফিয়ার মসজিদে অগ্নিবোমা হামলা : গ্রেফতার ভিনসেন্ট ল্যাং নেতানিয়াহুকে গ্রেফতারের আইনি সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছেন মেয়র ইতিহাসের দ্বারপ্রান্তে আবদুল এল-সায়েদ নিউইয়র্কে ২.১ বিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক কার্যক্রম সৃষ্টি, পর্যটন ও ব্যবসায় বড় সাফল্য টেক্সাসে মুসলিম শিক্ষাবিদের মামলা গ্রিনকার্ড আবেদনকারীদের জন্য ১ লাখ ডলারের বন্ড বিবেচনায় ট্রাম্প প্রশাসন অভিবাসন অভিযানে ব্যাপক নাগরিক অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ এসিএলইউর প্রতিবেদনে গ্রিনকার্ড মূল্যায়নে মেডিকেইড, ফুড স্ট্যাম্প ও আবাসন সহায়তা বিবেচনায় নেবে ট্রাম্প প্রশাসন


মেডিকেইডের নতুন ৮০ ঘণ্টার কর্মশর্ত থেকে অব্যাহতি পাওয়ার ১০টি উপায়
দেশ রিপোর্ট
  • আপডেট করা হয়েছে : ২২-০৭-২০২৬
মেডিকেইডের নতুন ৮০ ঘণ্টার কর্মশর্ত থেকে অব্যাহতি পাওয়ার ১০টি উপায় মেডিকেইড


আগামী ৩১ জুলাই থেকে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু স্টেটে মেডিকেইড সুবিধাভোগীদের জন্য নতুন ৮০ ঘণ্টার কর্ম নিয়ম কার্যকর হতে যাচ্ছে। এই নিয়ম অনুযায়ী, ১৯ থেকে ৬৪ বছর বয়সী এবং এসিএ সম্প্রসারিত মেডিকেইড-এর আওতাভুক্ত কিছু ব্যক্তিকে প্রতি মাসে কমপক্ষে ৮০ ঘণ্টা কাজ, কমিউনিটি সার্ভিস, ওয়ার্ক প্রোগ্রাম, অথবা হাফ-টাইমের বেশি শিক্ষা কার্যক্রমে অংশ নিতে হবে। বিকল্প হিসেবে প্রতি মাসে অন্তত ৫৮০ ডলার আয় থাকলেও এই শর্ত পূরণ হবে।তবে নতুন নিয়মে ১০টি বিশেষ শ্রেণির মানুষকে সম্পূর্ণ অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ এসব ব্যক্তির ক্ষেত্রে কমিউনিটি অংশগ্রহণের শর্ত প্রযোজ্য হবে না।

১. সাবেক ফস্টার কেয়ার যুবক-যুবতী: সাবেক ফস্টার কেয়ার যুবক-যুবতী যারা শিশু বা কিশোর বয়সে সরকারি ফস্টার কেয়ার ব্যবস্থার অধীনে ছিলেন, তারা নতুন মেডিকেইড কর্মশর্ত থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত থাকবেন। এই অব্যাহতির জন্য ব্যক্তিকে প্রমাণ করতে হবে যে তিনি ফস্টার কেয়ার ব্যবস্থার সুবিধাভোগী ছিলেন। নিয়ম অনুযায়ী, ব্যক্তি ১৮ বছর বয়সের পর ফস্টার কেয়ার থেকে বের হয়ে থাকলেও এই সুবিধা বজায় থাকবে। তাদের ক্ষেত্রে মাসে ৮০ ঘণ্টা কাজ বা আয়ের শর্ত প্রযোজ্য হবে না।

২. আমেরিকান ইন্ডিয়ান ও আলাস্কা নেটিভ:ফেডারেল আইনে স্বীকৃত আমেরিকান ইন্ডিয়ান এবং আলাস্কা নেটিভ জনগোষ্ঠীর সদস্যরা মেডিকেইডের নতুন কর্মশর্ত থেকে অব্যাহতি পাবেন। সরকারের মতে, এই জনগোষ্ঠীর জন্য আলাদা স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক বাস্তবতা বিবেচনা করে এই ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে। তাদের মেডিকেইড সুবিধা চালু রাখতে ৮০ ঘণ্টার কাজ বা কমিউনিটি অংশগ্রহণের প্রমাণ দিতে হবে না।

৩. অভিভাবক, গার্ডিয়ান ও কেয়ারগিভার : যারা পরিবারের সদস্যের দেখাশোনা করেন, তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অব্যাহতি রয়েছে। ১৮ বছরের কম বয়সী সন্তানের পিতা-মাতা বা আইনগত অভিভাবকরা এই নিয়মের বাইরে থাকবেন। এছাড়া কোনো প্রতিবন্ধী ব্যক্তির নিয়মিত পরিচর্যা করেন এমন কেয়ারগিভারও অব্যাহতি পেতে পারেন। একই বাড়িতে বসবাসকারী পরিচর্যাকারী, আত্মীয় ব্যক্তি অথবা নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে আত্মীয় না হলেও নিয়মিত সেবা প্রদানকারী ব্যক্তি এই সুবিধার জন্য যোগ্য হতে পারেন। পরিবারের একজনের বেশি সদস্যও একই কারণে অব্যাহতি পেতে পারেন।

৪. শতভাগ প্রতিবন্ধী ভেটেরান : যেসব সাবেক সামরিক সদস্য ভেটেরান্স অ্যাফেয়ার্স (ভিএ) কর্তৃক ১০০ শতাংশ প্রতিবন্ধী হিসেবে স্বীকৃত, তারা মেডিকেইডের নতুন কর্মশর্ত থেকে সম্পূর্ণ অব্যাহতি পাবেন। তবে শুধু ৭০ শতাংশ বা অন্য কোনো আংশিক প্রতিবন্ধিতা এই বিশেষ অব্যাহতির জন্য যথেষ্ট নয়। এই সুবিধার জন্য ভিএ-এর স্বীকৃতি গুরুত্বপূর্ণ।

৫. গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তি : যাদের শারীরিক বা মানসিক অবস্থা কর্মশর্ত পালন করা কঠিন করে তোলে, তারা এই নিয়ম থেকে মুক্ত থাকতে পারেন। এর মধ্যে রয়েছেন অন্ধ ব্যক্তি, সোশ্যাল সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এসএসএ) অনুযায়ী প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, গুরুতর মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তি, শারীরিক বা বুদ্ধিবিকাশজনিত প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং গুরুতর বা জটিল দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি। রাজ্য সরকারকে এসব রোগ বা অবস্থার তালিকা প্রকাশ করতে হবে এবং তালিকায় না থাকলেও ব্যক্তিকে নিজের পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করার সুযোগ দিতে হবে।

৬. টেম্পোরারি অ্যাসিস্ট্যান্স ফর নিডি ফ্যামিলিজ কর্মশর্ত পূরণকারী ব্যক্তি : যেসব ব্যক্তি টেম্পোরারি অ্যাসিস্ট্যান্স ফর নিডি ফ্যামিলিজ কর্মসূচির অধীনে ইতোমধ্যে কাজ বা কর্মসংস্থান সম্পর্কিত শর্ত পূরণ করছেন, তাদের আবার মেডিকেইডের জন্য আলাদা ৮০ ঘণ্টার শর্ত পূরণ করতে হবে না। কারণ সরকার মনে করছে, তারা ইতোমধ্যে একটি অনুমোদিত কর্মসম্পৃক্ত কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন।

৭. এসএনএপি : সাপ্লিমেন্টাল নিউট্রিশন অ্যাসিস্ট্যান্স প্রোগ্রামকর্মশর্তের আওতাভুক্ত পরিবার যেসব পরিবার এসএনএপি বা খাদ্য সহায়তা কর্মসূচির কর্মশর্তের আওতায় রয়েছে এবং সেই শর্ত পূরণ করছে, তাদের জন্য মেডিকেইডের নতুন কর্মশর্ত আলাদাভাবে প্রযোজ্য হবে না। অর্থাৎ একই ধরনের কর্মসংক্রান্ত নিয়ম দুইবার পালন করতে হবে না।

৮. মাদক বা অ্যালকোহল চিকিৎসা ও পুনর্বাসনে থাকা ব্যক্তি : যারা ড্রাগ বা অ্যালকোহল আসক্তির চিকিৎসা, পুনর্বাসন বা রিহ্যাবিলিটেশন কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন, তারা এই কর্মশর্ত থেকে অব্যাহতি পাবেন। সরকারের উদ্দেশ্য হলো, চিকিৎসাধীন ব্যক্তিদের সুস্থ হওয়ার প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি না করা এবং তাদের স্বাস্থ্যসেবা চালু রাখা।

৯. কারাগার বা নির্দিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানে বন্দি ব্যক্তি : যারা সরকারি কারাগার বা নির্দিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানে বন্দি অবস্থায় আছেন, তাদের ওপর ৮০ ঘণ্টার কর্মশর্ত প্রযোজ্য হবে না। কারণ তারা স্বাধীনভাবে কাজ বা কমিউনিটি সার্ভিস করার সুযোগে নেই। তবে প্রতিষ্ঠান থেকে মুক্তি পাওয়ার পর তাদের পরিস্থিতি অনুযায়ী নিয়ম প্রযোজ্য হতে পারে।

১০. গর্ভবতী নারী ও প্রসবোত্তর মা : গর্ভবতী নারী এবং সন্তান জন্মের পর নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত মায়েরা মেডিকেইডের নতুন কর্মশর্ত থেকে সম্পূর্ণ অব্যাহতি পাবেন। সরকারের মতে, গর্ভাবস্থা ও প্রসব-পরবর্তী সময়ে মায়ের স্বাস্থ্য এবং শিশুর যত্ন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাই এই সময়ে কাজের শর্ত চাপানো হবে না।

নতুন নিয়মে শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা কোনো স্টুডেন্ট এক্সেম্পশন (শিক্ষার্থী অব্যাহতি) নেই। তবে যারা হাফ-টাইম বা তার বেশি সময় পড়াশোনা করেন, তাদের শিক্ষা কার্যক্রম ৮০ ঘণ্টার শর্ত পূরণের অংশ হিসেবে গণ্য হতে পারে। এছাড়া স্টেট সরকার বিশেষ পরিস্থিতিতে হার্ডশিপ এক্সেপশন (বিশেষ সমস্যার কারণে অব্যাহতি) দিতে পারে। যেমন গুরুতর অসুস্থতা, হাসপাতালে ভর্তি, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, চিকিৎসার জন্য দূরে যাতায়াত বা উচ্চ বেকারত্বপূর্ণ এলাকা।

নতুন নিয়মের কারণে অনেক মানুষ কাজ না করার জন্য নয়, বরং রিপোর্ট জমা দেওয়া, কাগজপত্র ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে মেডিকেইড হারানোর ঝুঁকিতে পড়তে পারেন। তাই যাদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য হতে পারে, তাদের নিজের রাজ্যের মেডিকেইড অফিসের নোটিশ ও নির্দেশনা মনোযোগ দিয়ে অনুসরণ করা জরুরি।

শেয়ার করুন