২৩ জুলাই ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ০৫:৩৪:৪০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
স্ত্রী-সন্তানকে বাঁচাতে গিয়ে দগ্ধ নোয়াখালীর সোহাগের মৃত্যু ব্রঙ্কসে ‘ডিটেকটিভ ফার্স্ট গ্রেড দিদারুল ইসলাম ওয়ে’ ফিলাডেলফিয়ার মসজিদে অগ্নিবোমা হামলা : গ্রেফতার ভিনসেন্ট ল্যাং নেতানিয়াহুকে গ্রেফতারের আইনি সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছেন মেয়র ইতিহাসের দ্বারপ্রান্তে আবদুল এল-সায়েদ নিউইয়র্কে ২.১ বিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক কার্যক্রম সৃষ্টি, পর্যটন ও ব্যবসায় বড় সাফল্য টেক্সাসে মুসলিম শিক্ষাবিদের মামলা গ্রিনকার্ড আবেদনকারীদের জন্য ১ লাখ ডলারের বন্ড বিবেচনায় ট্রাম্প প্রশাসন অভিবাসন অভিযানে ব্যাপক নাগরিক অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ এসিএলইউর প্রতিবেদনে গ্রিনকার্ড মূল্যায়নে মেডিকেইড, ফুড স্ট্যাম্প ও আবাসন সহায়তা বিবেচনায় নেবে ট্রাম্প প্রশাসন


নেতানিয়াহুকে গ্রেফতারের আইনি সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছেন মেয়র
দেশ রিপোর্ট
  • আপডেট করা হয়েছে : ২২-০৭-২০২৬
নেতানিয়াহুকে গ্রেফতারের আইনি সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছেন মেয়র নিউইয়র্কের মেয়র মামদানি ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু


আগামী সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে অংশ নিতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু নিউইয়র্ক সফরে এলে তাকে গ্রেফতার করার আইনি সুযোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানির প্রশাসন। গত ১৮ জুলাই দ্য নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মেয়র মামদানি জানান, এ বিষয়ে তিনি সিটির আইন বিভাগের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে আলোচনা করছেন। তার ভাষায়, আমি বিশ্বাস করি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর স্থান দ্য হেগে। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) তার বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছে এবং তার কর্মকাণ্ডের কারণে অনেকেই একই মত পোষণ করেন।তবে মামদানি বলেন, কোনো আইনি ফাঁকফোকর খোঁজার চেষ্টা করবেন না। নিউইয়র্ক সিটিতে আইন আমাকে যতটুকু ক্ষমতা দেয়, আমি ঠিক ততটুকুই করব।

এদিকে সম্প্রতি প্রকাশিত অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস-এনওআরসি সেন্টার ফর পাবলিক অ্যাফেয়ার্স রিসার্চের এক জরিপে দেখা গেছে, মার্কিন ইহুদিদের মধ্যে ৪৪ শতাংশ মামদানিকে ইতিবাচকভাবে দেখেন, যেখানে ৩৯ শতাংশ তার প্রতি নেতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছেন। একই জরিপে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে ৩২ শতাংশ অনুকূলভাবে এবং ৫৯ শতাংশ প্রতিকূলভাবে মূল্যায়ন করেছেন। অন্যদিকে, সামগ্রিক মার্কিন জনমতের ক্ষেত্রে মামদানির প্রতি ২৭ শতাংশের ইতিবাচক, ২৮ শতাংশের নেতিবাচক মতামত রয়েছে এবং ৪৪ শতাংশ এ বিষয়ে কোনো মত দেননি। নেতানিয়াহুর ক্ষেত্রে ২০ শতাংশ ইতিবাচক, ৩৮ শতাংশ নেতিবাচক মতামত দিয়েছেন আর ৪১ শতাংশ কোনো মতামত প্রকাশ করেননি।

মেয়র হওয়ার আগেও মামদানি বলেছিলেন, নির্বাচিত হলে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের যুদ্ধাপরাধ সংক্রান্ত অভিযোগের ভিত্তিতে নেতানিয়াহুকে গ্রেফতারের নির্দেশ দেওয়ার চেষ্টা করবেন। গত বছর জাতিসংঘে নেতানিয়াহুর ভাষণের আগে তিনি গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের কঠোর সমালোচনা করেছিলেন। এদিকে জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ মামদানির অবস্থানকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক নাটক বলে অভিহিত করেছেন। তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের রোম সংবিধির সদস্য নয়। পাশাপাশি জাতিসংঘ সদর দফতর-সংক্রান্ত চুক্তি অনুযায়ী সফররত রাষ্ট্র বা সরকারপ্রধানরা কূটনৈতিক সুরক্ষা ভোগ করেন এবং এ ধরনের বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের ওপর ফেডারেল সরকারের কর্তৃত্ব প্রাধান্য পায়।

অন্যদিকে জাতিসংঘে ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যানন বলেন, যদি কাউকে গ্রেফতার করা উচিত হয়, তবে তিনি হলেন নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি। তিনি অভিযোগ করেন, শহর পরিচালনার পরিবর্তে মামদানি ইসরায়েলবিরোধী অবস্থান নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক সৃষ্টি করছেন। ড্যাননের দাবি, নির্ধারিত সময়ে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু নিউইয়র্কে এসে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে ভাষণ দেবেন।

এ বিষয়ে নিউইয়র্কভিত্তিক জিউইশ কমিউনিটি রিলেশনস কাউন্সিলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মার্ক ট্রেগারও সমালোচনা করে বলেন, নিউইয়র্কবাসী একজন মেয়রকে নগর পরিচালনার জন্য নির্বাচিত করেছেন, পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনার জন্য নয়। তার মতে, শহরের কর্মীদের বেতন ও অন্যান্য নাগরিক ইস্যুতে মনোযোগ দেওয়াই মেয়রের অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।আগামী সেপ্টেম্বরের শুরুতে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। নেতানিয়াহুর সম্ভাব্য সফরকে ঘিরে মামদানির এ অবস্থান ইতোমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক রাজনৈতিক ও আইনি আলোচনা সৃষ্টি করেছে।

ট্রাম্পের ঘোষণা : যুক্তরাষ্ট্রে এলে নেতানিয়াহুকে গ্রেফতার করা হবে না

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে এলে তাকে কোনো অবস্থাতেই গ্রেফতার করা হবে না। গত সোমবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে যুক্তরাষ্ট্রে কোনোভাবেই গ্রেফতার করা হবে না। একই সঙ্গে তিনি ইরানের নেতাদের বিরুদ্ধে কঠোর সমালোচনা করেন এবং তাদেরই জবাবদিহির আওতায় আনা উচিত বলে মন্তব্য করেন।

এ মন্তব্য আসে নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানির পূর্বের বক্তব্যকে ঘিরে। এর আগে মামদানি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের জারি করা গ্রেফতারি পরোয়ানার আলোকে নেতানিয়াহু নিউইয়র্কে এলে তাকে গ্রেফতারের বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে। গাজায় চলমান যুদ্ধকে তিনি একাধিকবার গণহত্যা হিসেবে উল্লেখ করেছেন।তবে সোমবার এক অনুষ্ঠানে মামদানি তার অবস্থান কিছুটা স্পষ্ট করে বলেন, আন্তর্জাতিক গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হলে তা গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত, তা বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, ভ্লাদিমির পুতিন বা অন্য যে-ই হোন না কেন। একই সঙ্গে আমার প্রশাসন সব প্রযোজ্য স্থানীয় আইন অনুসরণ করবে।

আইন বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের সদস্য নয় এবং আদালতের এখতিয়ার স্বীকৃতি দেয় না। ফলে নিউইয়র্ক সিটির মেয়রের পক্ষে আইসিসির পরোয়ানার ভিত্তিতে নেতানিয়াহুকে গ্রেফতারের আইনি ক্ষমতা রয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

অন্যদিকে নেতানিয়াহু এর আগেই জানিয়েছেন, সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে নিউইয়র্ক সফরের সময় নিউইয়র্ক পুলিশ তাকে গ্রেফতার করবে, এমন কোনো আশঙ্কা তিনি করছেন না। তিনি মামদানিকে হামাসপন্থী বলে অভিযোগও করেছেন। এদিকে নেতানিয়াহুর কার্যালয় আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের জারি করা গ্রেফতারি পরোয়ানাকে ভিত্তিহীন আখ্যা দিয়ে বলেছে, আইসিসি একটি পক্ষপাতদুষ্ট আদালত, যার মার্কিন বা ইসরায়েলি নাগরিকদের ওপর কোনো এখতিয়ার নেই। জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশন আগামী সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয়ার্ধে নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

শেয়ার করুন