জাহিদ হাসান
টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রের প্রভাবশালী অভিনয়শিল্পী জাহিদ হাসান। পর্দায় তার উপস্থিতি মানেই দর্শকের আলাদা আগ্রহ। তবে সাম্প্রতিক সময়ে কাজ ও প্রথাগত প্রচারধর্মী আয়োজন দুটি থেকেই নিজেকে বেশ কিছুটা দূরে রেখেছেন এ জ্যেষ্ঠ অভিনেতা। কাজের নিয়মিত অনিয়মিতকরণ, শিল্পচর্চার বর্তমান সংকট এবং ব্যক্তিগত ভাবনা নিয়ে তিনি কথা বলেছেন নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত পাঠকপ্রিয় দেশ পত্রিকার সঙ্গে। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন আলমগীর কবির
প্রশ্ন: নাটকে ইদানীং আপনাকে কম দেখা যাচ্ছে, কাজের সংখ্যা কমিয়ে দেওয়ার পেছনের কারণ কী?
জাহিদ হাসান: আমি তো বিরতি নিতে চাইনি, কাজ নিয়মিতই করতে চাই। আসল সমস্যা হচ্ছে ভালো গল্প ও মনমতো চরিত্রের তীব্র অভাব। তথাকথিত ও গতানুগতিক কাজ বারবার করে তো কোনো লাভ নেই।
প্রশ্ন: ‘উৎসব’ চলচ্চিত্রের সফলতার পর আপনাকে বড় পর্দায় আর পাওয়া গেল না কেন?
জাহিদ হাসান: পর্যাপ্ত ভালো চিত্রনাট্য হাতের কাছে আসছে না। সত্যি বলতে, ভালো সিনেমার চিত্রনাট্য আশানুরূপ পাই না। মাঝখানে একটি ছবি নিয়ে প্রাথমিক কথা হয়েছিল, আমি আগ্রহও দেখিয়েছিলাম। তবে বর্তমানে সেটি কী অবস্থায় আছে, তা আমার জানা নেই।
প্রশ্ন: চিত্রনাট্য কম আসা নিয়ে আপনার আক্ষেপ বা মন খারাপ হয়?
জাহিদ হাসান: মন তো কিছুটা খারাপ হয়ই। আমাদের সেই সোনালি সময়গুলো এখন আর নেই। চেনা সহশিল্পীদের অনেকেই এখন কাজ থেকে দূরে। সামগ্রিকভাবে নাটকের পরিবেশটাই আগের মতো নেই। তার ওপর দীর্ঘদিন নিয়মিত কাজ না করায় হয়তো অনেকেই ধরে নিয়েছেন আমি নাটক করছি না, ফলে স্ক্রিপ্ট আসাও কমে গেছে। তবে সময় তো আর সব সময় এক থাকে না।
প্রশ্ন: এ প্রজন্মের তরুণ অভিনয়শিল্পীদের কাজ পর্যবেক্ষণ করেন কি? কাউকে সম্ভাবনাময় মনে হয়?
জাহিদ হাসান: নতুনদের কাজ নিয়মিত দেখার সুযোগ কম হয়। তবে নির্মাতা মোস্তফা কামাল রাজের ‘পথহারা মন’ নাটকে খায়রুল বাসারের অভিনয় দেখেছি। ছেলেটির মধ্যে চেষ্টা আছে, লেগে থাকলে সে অনেক দূর যাবে। ওর আরও বেশি কাজের প্রতি নিষ্ঠা বা ডেডিকেশন প্রয়োজন।
প্রশ্ন: তরুণদের জন্য আপনার কোনো পরামর্শ রয়েছে?
জাহিদ হাসান: তরুণদের বলব-একসঙ্গে ‘সবকিছু খাইতে গেলে’ চলবে না। ভালো কাজের জন্য নির্বাচন করার ক্ষমতা থাকতে হবে। কোনটা করব আর কোনটা করব না, এই সিদ্ধান্ত নেওয়াটা জরুরি। যদিও অনেক সময় ‘ভিউ’-এর চাপে তরুণদের বাধ্য হয়ে কিছু কাজ করতে হয়। কিন্তু সবার চেয়ে নিজেকে আলাদা প্রমাণ করতে হলে বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে কাজ বেছে নিতে হবে।
প্রশ্ন: এক অনুষ্ঠানে আপনাকে মোশাররফ করিমের অভিনয়ের প্রশংসায় মুখর হতে দেখা গেছে...
জাহিদ হাসান: মোশাররফ তো আমাদেরই থিয়েটারের ছেলে। তবে মূল বিষয় হলো, ভালোকে ভালো বলতে কার্পণ্য করা উচিত নয়। তার সঙ্গে আমার কোনো প্রতিযোগিতা নেই। ভালো কাজ দেখলে গোপনে না রেখে প্রকাশ্যে প্রশংসা করা উচিত, নইলে তা সত্য গোপনের মতো অপরাধ হবে। ইতিবাচক মূল্যায়ন বা ফিডব্যাক একজন শিল্পীকে সামনে এগিয়ে যেতে মানসিকভাবে বড় অনুপ্রেরণা দেয়।
প্রশ্ন: আপনার নামে নাকি নানা অসত্য গুঞ্জনও ছড়ায়?
জাহিদ হাসান: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসব প্রায়ই শুনি। কেউ হয়তো ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো ভিত্তিহীন কথা ফেসবুকে লিখল, আর সেটা অনেকে যাচাই-বাছাই না করেই ছড়িয়ে দিল। অসত্য তথ্য ছড়ানো তো অন্যায়। এখন এসব ভুয়া কথা ছড়িয়ে যদি কেউ আনন্দ পায়, তবে আমার তো কিছু বলার থাকে না।
প্রশ্ন: ইদানীং সামাজিক অনুষ্ঠানেও আপনাকে দেখা যায় না...
জাহিদ হাসান: ইচ্ছা করেই অনেক জায়গায় যাওয়া এড়িয়ে চলি। এখন নিজের ব্যবসা দেখাশোনা করি, পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটাই। নিজের মতো করে বাসায় সময় কাটাতেই এখন বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি।