৬ অগাস্ট ২০২৬, বুধবার, ১১:০৬:৩৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন ১৮ অক্টোবর মাইর শুরু হয়েছে কেবল, আসল মারই তো শুরুই হয়নি সাবওয়ে স্টেশন ঠান্ডা রাখতে নতুন পরিকল্পনা শিশুদের টিকা নীতিতে বড় পরিবর্তন আনতে ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ শতবর্ষী চেম্বারস স্ট্রিট সাবওয়ে স্টেশন সংস্কারে বড় প্রকল্প মুসলিম হওয়ায় মৃত্যুর হুমকি, অভিযোগ ফ্লোরিডার রিপাবলিকান কংগ্রেস প্রার্থীর হিজাব পরা নারীকে হামলার অভিযোগ : জোনাথন স্ট্রিপের বিরুদ্ধে হেট ক্রাইমের মামলা ইসলাম ও মুসলিম খ্রিস্টান সম্পর্কের অগ্রণী গবেষক এস্পোসিতোর মৃত্যু মসজিদে অগ্নিসংযোগের চেষ্টা, ৪০ বছর কারাদণ্ডের মুখে ভিনসেন্ট তারেক রহমানের ভারত সফরে প্রাণান্ত চেষ্টা মোদী সরকারের


মুসলিম আমেরিকানদের ভোটে উৎসাহিত করতে ‘মুসলিমস ডট ভোট’ চালু
দেশ রিপোর্ট
  • আপডেট করা হয়েছে : ১২-০৮-২০২৬
মুসলিম আমেরিকানদের ভোটে উৎসাহিত করতে ‘মুসলিমস ডট ভোট’ চালু মুসলিমস ডট ভোট


আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে মুসলিম আমেরিকানদের ভোটার নিবন্ধন ও ভোটদানে উৎসাহিত করতে নতুন একটি জাতীয় উদ্যোগ চালু করেছে কাউন্সিল অন আমেরিকান ইসলামিক রিলেশনস বা কেয়ার। ‘মুসলিমস ডট ভোট’ নামে এ অদলীয় নাগরিক সম্পৃক্ততা কর্মসূচির লক্ষ্য হলো মুসলিম ভোটারদের ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য, সরঞ্জাম ও সহায়তা এক জায়গায় তুলে ধরা। 

যুক্তরাষ্ট্রে আনুমানিক ৮০ লাখের বেশি মুসলিম বসবাস করেন। তাদের মধ্যে ২৫ লাখের বেশি ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত বলে কায়ার জানিয়েছে। সংগঠনটির দাবি, মুসলিম ভোটারদের একটি বড় অংশ ইতোমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী এলাকায় প্রভাব রাখার সক্ষমতা অর্জন করেছে। তবে আরো লাখ লাখ যোগ্য মুসলিম নাগরিককে ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে। 

‘মুসলিমস ডট ভোট’ কোনো প্রার্থী বা রাজনৈতিক দলকে সমর্থন করবে না। প্ল্যাটফর্মটিতে ভোটার নিবন্ধনের তথ্য, ব্যক্তিভিত্তিক নির্বাচনী তথ্য, ভোটকেন্দ্র খুঁজে বের করার ব্যবস্থা, ভোটাধিকার সম্পর্কিত তথ্য, ভোট দেওয়ার পরিকল্পনা তৈরির সরঞ্জাম, নাগরিক সম্পৃক্ততার বিভিন্ন রিসোর্স এবং অ্যাডভোকেসি টুলকিট রাখা হয়েছে। 

কেয়ার জানিয়েছে, অনলাইন উদ্যোগের পাশাপাশি বিভিন্ন মসজিদে ভোটার নিবন্ধন কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসসহ বিভিন্ন পর্যায়েও ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর কর্মসূচি নেওয়া হচ্ছে। 

কেয়ারের সরকারি বিষয়ক পরিচালক রবার্ট এস ম্যাককাও বলেন, ভোট দেওয়া শুধু সাংবিধানিক অধিকার নয়; এটি একটি বিশ্বাস ও দায়িত্ব। তার ভাষায়, ভোটারদের অংশগ্রহণের বাধা কমিয়ে নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় সব তথ্য এক জায়গায় দেওয়াই এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য। 

কেয়ার ১২টি স্টেটকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়েছে। এগুলো হলো অ্যারিজোনা, ফ্লোরিডা, জর্জিয়া, মিশিগান, মিনেসোটা, নেভাদা, নর্থ ক্যারোলাইনা, পেনসিলভানিয়া, ওহাইও, টেক্সাস, ভার্জিনিয়া ও উইসকনসিন। সংগঠনটির মতে, এসব স্টেটে মুসলিম জনগোষ্ঠীর উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি রয়েছে এবং মুসলিম ভোটারদের অংশগ্রহণ নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে। 

কেয়ারের বক্তব্য, এসব রাজ্যের নির্বাচনের ফলাফল যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তাই মুসলিম ভোটারদের সংগঠিত করা কেবল প্রতীকী উদ্যোগ নয়, বরং নাগরিক অংশগ্রহণ বাড়ানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রচেষ্টা। 

মুসলিম ভোটারদের জন্য এ উদ্যোগের পাশাপাশি বিভিন্ন খ্রিস্টান, ইহুদি ও অদলীয় সংগঠনও দীর্ঘদিন ধরে ভোটার নিবন্ধন ও ভোটার উপস্থিতি বাড়ানোর কর্মসূচি পরিচালনা করে আসছে। এর মধ্যে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ভোটার নিবন্ধন ও ভোটারদের নির্বাচনে অংশ নিতে উৎসাহিত করার উদ্যোগ রয়েছে। 

তবে যুক্তরাষ্ট্রের করমুক্ত ধর্মীয় ও দাতব্য প্রতিষ্ঠানের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিয়ে আইনগত সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ১৯৫৪ সালের জনসন সংশোধনী অনুযায়ী, আইআরএসের ৫০১(সি)(৩) আওতাভুক্ত করমুক্ত প্রতিষ্ঠান কোনো নির্দিষ্ট প্রার্থীকে সমর্থন বা তার বিরোধিতা করে রাজনৈতিক প্রচারণায় অংশ নিতে পারে না। 

ফলে ভোটার নিবন্ধন ও নাগরিক অংশগ্রহণে উৎসাহ দেওয়া এবং নির্দিষ্ট প্রার্থীর পক্ষে রাজনৈতিক প্রচারণা চালানোর মধ্যে আইনি পার্থক্য রয়েছে। মুসলিমস ডট ভোট নিজেকে অদলীয় উদ্যোগ হিসেবে তুলে ধরেছে এবং কোনো প্রার্থীকে সমর্থন না করার কথা জানিয়েছে। 

কায়ারের পাশাপাশি বিভিন্ন ধর্মীয় ও নাগরিক সংগঠন নিজেদের সম্প্রদায়ের ভোটারদের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ বাড়ানোর উদ্যোগ নিচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ধর্মীয় ও নাগরিক সংগঠনগুলোর ভোটার নিবন্ধন এবং ভোটার উপস্থিতি বাড়ানোর প্রচেষ্টা আরো জোরদার হচ্ছে। 

নতুন এ উদ্যোগের মাধ্যমে কায়ার বিশেষ করে যারা এখনো ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হননি, তাদের নিবন্ধন সম্পন্ন করা এবং নির্বাচনের দিন ভোট দেওয়ার জন্য প্রস্তুত করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। সংগঠনটির বার্তা-মুসলিম আমেরিকানদের নাগরিক কণ্ঠস্বরকে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় আরো কার্যকরভাবে যুক্ত করাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। 

শেয়ার করুন