২১ এপ্রিল ২০২৬, মঙ্গলবার, ০৬:৩২:৪১ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
জুলাই সনদ বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতি দিলেও ‘কিছু রাজনৈতিক দল’ জনগণকে বিভ্রান্ত করছে - তারেক রহমান মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কার পেলেন সেই শিক্ষিকা মাহেরীন চৌধুরী আজ ১৭ এপ্রিল, ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস টাইম ম্যাগাজিনে বিশ্বের ১০০ প্রভাবশালী ব্যক্তির তালিকায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান খালেদা জিয়া সহ দেশের ১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও পাঁচ প্রতিষ্ঠানকে ‘স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২৬’ পদক প্রদান যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েল নিয়ে জনমত বদলাচ্ছে টেক্সাসে পাঠ্যক্রমে ইসলাম ও সংখ্যালঘু ইতিহাস পরিবর্তন ঘিরে তীব্র বিতর্ক ট্রাম্প অ্যাকাউন্টস : চার মিলিয়নের বেশি শিশু নিবন্ধিত নিউ ইয়র্কে ২-কে চাইল্ড কেয়ার হবে পূর্ণ দিবস ও বছরব্যাপী ফিলিস্তিনপন্থী শিক্ষার্থীদের ডিপোর্টেশন ঠেকানোর রায় দেওয়ায় দুই অভিবাসন বিচারককে বরখাস্তের অভিযোগ


ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার ফয়সালের
কলকাতা প্রতিনিধি
  • আপডেট করা হয়েছে : ২৫-০৩-২০২৬
ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার ফয়সালের কোর্টে নেওয়া হচ্ছে দুই আসামিকে


শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ এবং তার সহযোগী আলমগীর হোসেনকে ভারতে পুলিশ হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদের পর কারাগারে পাঠিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের একটি আদালত। সেখানে ফয়সাল করিম দাবি করেছেন, তিনি ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডে জড়িত নন।

৮ মার্চ ফয়সাল ও আলমগীরকে পশ্চিমবঙ্গ-বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া বনগাঁ এলাকা থেকে আটক করে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের বিশেষ টাস্কফোর্স বা এসটিএফ। অনুপ্রবেশের অভিযোগে গ্রেফতারের পর পুলিশ দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১৪ দিনের জন্য রিমান্ডে নিয়েছিল।

জিজ্ঞাসাবাদ শেষে গত ২২ মার্চ ফয়সাল ও আলমগীরকে পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার বিধাননগর মহকুমা বিচার বিভাগীয় আদালতে হাজির করা হয়। আদালত দুজনকে ১২ দিনের জন্য কারা হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন। আগামী ২ এপ্রিল আবার আদালতে হাজির করা হবে তাদের। আদালতে নেওয়ার আগে দুজনের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করায় বিধাননগর পুলিশ।

আদালতে নেওয়ার পর উপস্থিত সাংবাদিকেরা ফয়সালকে বাংলাদেশে ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে প্রশ্ন করেন। জবাবে ফয়সাল বলেন, ‘আমি এই কাজ করিনি। এসব কাজের সঙ্গে আমি যুক্ত ছিলাম না।’

সাংবাদিকেরা তার কাছে জানতে চান, তবে কি তাকে ফাঁসানো হয়েছে? তবে এ প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে যান ফয়সাল। তবে এসটিএফ সূত্র জানিয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদে ফয়সাল ও আলমগীর ঢাকায় ওসমান হাদিকে হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেছেন।

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদিকে গত বছরের ১২ ডিসেম্বর ঢাকায় গুলিবর্ষণের পর পুলিশি তদন্তে নাম আসে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সাবেক নেতা ফয়সাল করিমের। যে মোটরসাইকেলে এসে ওসমান হাদিকে গুলি করা হয়েছিল, তাতে ফয়সাল ও আলমগীর ছিলেন বলে গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান।

তবে ফয়সাল ও আলমগীর এ হত্যাকাণ্ডের পরপরই ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালিয়ে গিয়েছিলেন বলে বাংলাদেশের কর্মকর্তারা তখন জানিয়েছিলেন। প্রায় তিন মাস পর ৮ মার্চ ফয়সাল ও আলমগীরকে পশ্চিমবঙ্গ-বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া বনগাঁ এলাকা থেকে গ্রেফতারের খবর জানায় পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ।

এসটিএফের ভাষ্য অনুসারে, ফয়সাল ও আলমগীর পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁয় পালিয়ে এসে বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার সুযোগ খুঁজছিল। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। ভারতে গ্রেফতার এ দুজনকে দেশে ফেরত আনার কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে বলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান। এদিকে গুলিবিদ্ধ ওসমান হাদিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়েছিল। সেখানে গত ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান। এ হত্যাকাণ্ডের পর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের একটি মামলা করেন। সেই মামলার তদন্ত করে গত ৬ জানুয়ারি গোয়েন্দা পুলিশ ১৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে। তাদের মধ্যে ১২ জন বাংলাদেশে গ্রেফতার হন। ভারতে ফয়সাল ও আলমগীর ছাড়াও তাদের পালাতে সহায়তাকারী একজনও ধরা পড়েছেন।

শেয়ার করুন