০১ অক্টোবর ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ০৩:২৫:৪৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
নর’ইস্টারের তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড নিউইয়র্কসহ উত্তর-পূর্বাঞ্চল নিউইয়র্কবাসীর ৬০ শতাংশ মামদানির পক্ষে অবৈধ জুয়ার অভিযোগে পলিমার্কেটের বিরুদ্ধে নিউইয়র্কের মামলা সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ডেমোক্র্যাট-রিপাবলিকানদের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই মার্কিন সিনেটে প্রথম মুসলিম সদস্য হওয়ার লড়াইয়ে আবদুল এল-সাইয়েদ নিউইয়র্কে স্থায়ী ‘জবস এনওয়াইসি’ কেন্দ্র চালু দ্বিতীয় বাড়ির কর নিয়ে মামদানির উদ্যোগে আদালতের বাধা লোয়ার ম্যানহাটনে প্রায় ১ হাজার নতুন সাশ্রয়ী ইউনিট নির্মাণের পরিকল্পনা তৃতীয় দেশে নির্বাসনের পথ ফের খুলে দিল সুপ্রিম কোর্ট বৈদেশিক সম্পর্ক উন্নয়নে প্রাণান্ত চেষ্টায় তারেক রহমান


হিউস্টনের মসজিদগুলোতে সপ্তাহে প্রায় ১,০০০ ভোটার নিবন্ধন
দেশ রিপোর্ট
  • আপডেট করা হয়েছে : ৩০-০৯-২০২৬
হিউস্টনের মসজিদগুলোতে সপ্তাহে প্রায় ১,০০০ ভোটার নিবন্ধন হিউস্টনে রিভার ওকস ইসলামিক সেন্টারে বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দিচ্ছেন ইসলামিক সোসাইটি অব গ্রেটার হিউস্টনের সভাপতি এমরান গাজী


টেক্সাসের হাইস্কুলের নতুন সামাজিক শিক্ষা পাঠ্যক্রমে ইসলাম ও মুসলমানদের ইতিহাসকে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপনের অভিযোগ তুলে প্রতিবাদ জানিয়েছেন হিউস্টনের মুসলিম নেতারা। একই সঙ্গে মুসলিম সম্প্রদায়ের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়াতে হিউস্টনের বিভিন্ন মসজিদে ভোটার নিবন্ধন কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। ইসলামিক সোসাইটি অব গ্রেটার হিউস্টনের সভাপতি এমরান গাজী গত ২৩ সেপ্টেম্বর রিভার ওকস ইসলামিক সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, তাদের সংগঠনের উদ্যোগে হিউস্টনের মসজিদগুলোতে প্রতি সপ্তাহে প্রায় ১,০০০ নতুন ভোটার নিবন্ধন করছেন। আগে যারা ভোট দেওয়াকে তেমন গুরুত্বপূর্ণ মনে করতেন না, তাদের মধ্যেও এই কার্যক্রম আগ্রহ তৈরি করছে বলে তিনি জানান। গাজী মুসলিম সম্প্রদায়ের সদস্যদের ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, হিউস্টন ও হ্যারিস কাউন্টিতে মুসলিম ভোট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তার বক্তব্যে রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় মুসলিম সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় ইমাম, মুসলিম নেতা ও কমিউনিটি অ্যাক্টিভিস্টরা টেক্সাসের নতুন সামাজিক শিক্ষা পাঠ্যক্রমের সমালোচনা করেন। টেক্সাস স্টেট বোর্ড অব এডুকেশন গত ৪ সেপ্টেম্বর ৮-৪ ভোটে নতুন পাঠ্যক্রম অনুমোদন করে। মুসলিমসহ বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের নেতারা এর আগে এর বিরোধিতা করেছিলেন। নতুন পাঠ্যক্রমে শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক ইসলামের ইতিহাস ব্যাখ্যা করতে বলা হয়েছে। এর মধ্যে ইসলামের নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর ইহুদি ও খ্রিস্টান গোত্রগুলোর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান, দাসপ্রথা এবং নারী বন্দিদের হারেমে দাস হিসেবে নেওয়ার বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

মুসলিম নেতাদের অভিযোগ, এভাবে বিষয়গুলো উপস্থাপন করলে ইসলামের ইতিহাস সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের মধ্যে একপাক্ষিক ও নেতিবাচক ধারণা তৈরি হতে পারে। তবে স্টেট বোর্ডের চেয়ারম্যান অ্যারন কিনসি নতুন মানদণ্ডের প্রশংসা করে বলেছেন, এতে পশ্চিমা সভ্যতার ভিত্তি এবং যুক্তরাষ্ট্র ও টেক্সাসের প্রতিষ্ঠার পেছনে কাজ করা মূল্যবোধের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

হিউস্টনের অবসরপ্রাপ্ত স্কুল কাউন্সেলর দাইয়াহ ফারুক বলেন, নতুন পাঠ্যক্রমের ফলে কিছু শিক্ষার্থী নিজেদের অন্যদের তুলনায় নিকৃষ্ট মনে করতে পারে, আবার কেউ নিজেদের শ্রেষ্ঠ মনে করতে পারে। তিনি বলেন, মুসলিম নেতারা ইতিহাসের কোনো অস্বস্তিকর অধ্যায় গোপন করার দাবি করছেন না; বরং সব পক্ষের ইতিহাসকে একই ধরনের বুদ্ধিবৃত্তিক মানদণ্ডে উপস্থাপনের দাবি জানাচ্ছেন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত প্রায় ৫০ জনের উদ্দেশে টেক্সাস হাউস ডেমোক্র‍্যাটদের নেতা স্টেট রিপ্রেজেন্টেটিভ জিন উ ভোটারদের স্টেট বোর্ড অব এডুকেশনের সদস্যদের নির্বাচনের মাধ্যমে জবাবদিহির আওতায় আনার আহ্বান জানান। তিনি এশীয়-আমেরিকান ও মুসলিম সম্প্রদায়ের রাজনৈতিকভাবে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার কথাও বলেন।

এদিকে টেক্সাসের রিপাবলিকান রাজনীতিকদের নির্বাচনী প্রচারে মুসলিম দাতাদের অর্থায়ন নিয়েও অনুষ্ঠানে আলোচনা হয়। জিন উ মুসলিম দাতাদের রিপাবলিকান প্রার্থীদের অর্থায়নের সমালোচনা করেন এবং এসব দাতার পরিচয় প্রকাশের আহ্বান জানান।

সম্মেলনের পর কয়েকজন অংশগ্রহণকারী তেল ব্যবসায়ী এস. জাভাইদ আনোয়ারের রাজনৈতিক অনুদানের বিষয়টি তুলে ধরেন। নির্বাচনী অর্থায়নের তথ্য অনুযায়ী, আনোয়ার গভর্নর গ্রেগ অ্যাবটের রাজনৈতিক কমিটিতে বিপুল পরিমাণ অর্থ দিয়েছেন। চলতি বছরেও তিনি ওই কমিটিতে ১৫ লাখ ডলার দিয়েছেন বলে তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। দীর্ঘ সময়ের হিসাবেও অ্যাবটের রাজনৈতিক কমিটিতে তার অনুদানের পরিমাণ ১ কোটি ৫০ লাখ ডলারের বেশি। আনোয়ার হিউস্টনের অন্যতম বড় রমজান ইফতার আয়োজনের প্রধান পৃষ্ঠপোষকদের একজন ছিলেন এবং মুসলিম আমেরিকান হেরিটেজ উদযাপন অনুষ্ঠানেও সম্মানসূচক পরিষদের সদস্য হিসেবে যুক্ত ছিলেন। নতুন পাঠ্যক্রম নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই হিউস্টনের মুসলিম নেতারা ভোটার নিবন্ধন ও রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়ানোর উদ্যোগকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। তাদের বক্তব্য, শিক্ষা ও নীতিনির্ধারণের মতো বিষয়গুলোতে মুসলিম সম্প্রদায়ের উদ্বেগ তুলে ধরতে রাজনৈতিক অংশগ্রহণ একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।

শেয়ার করুন