২৬ অগাস্ট ২০২৬, বুধবার, ০৭:৩৩:৩১ অপরাহ্ন
শিরোনাম :


ঢাকায় ই-মেইলে কূটনৈতিক পাড়ায় হুমকি
বিশেষ প্রতিনিধি
  • আপডেট করা হয়েছে : ২৬-০৮-২০২৬
ঢাকায় ই-মেইলে কূটনৈতিক পাড়ায় হুমকি কথা বলছেন পুলিশ কর্মকর্তারা


ঢাকায় অবস্থিত বিভিন্ন দূতাবাস ও সরকারি দফতরে ই-মেইল পাঠিয়ে চাঁদা দাবির ঘটনায় কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ ও ডিবি। রাজধানীর কয়েকটি বিদেশি দূতাবাসে ই-মেইলের মাধ্যমে হুমকির ঘটনায় পুরো কূটনৈতিক এলাকার নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

বারিধারা ও গুলশানে অবস্থিত দূতাবাসগুলোকে বিশেষ নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে। পোশাকধারী ও সাদা পোশাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এ দিকে ঢাকায় চীনা দূতাবাসে ই-মেইলের মাধ্যমে হামলার হুমকির ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তৎপর হয়েছে। ঘটনার পর নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের সঙ্গে ডিএমপির সিটিটিসি ও পুলিশ সদর দফতরের কর্মকর্তারা বৈঠক করেছেন। এর আগে, গত বুধবার (১৯ আগস্ট) রাতে একটি উগ্রবাদী সংগঠনের নামে ই-মেইল করে ওই হামলার হুমকি দেয়া হয় বলে জানা গেছে। বিষয়টি জানার পর দূতাবাসের নিরাপত্তা জোরদার করা নিয়ে পুলিশের সঙ্গে চীনা দূতাবাসের কর্মকর্তাদের অসন্তোষ দেখা দেয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে হট্টগোলের ঘটনাও ঘটেছে বলে একাধিক গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে।

তবে ২৩ আগস্ট রোববার রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ডিবি প্রধান অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, একটি ‘ভুয়া গ্রুপের কাজ’। দেশের ভাবমর্যাদা ক্ষুণ্ন করা এবং সরকারকে বিব্রত করার উদ্দেশ্যেই এই কাজ করা হয়েছে। ঘটনাটি পুলিশ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে এবং জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে কাজ চলছে। বিভিন্ন দূতাবাসে ই-মেইলের মাধ্যমে চাঁদা চেয়ে হুমকির বিষয়ে জানতে চাইলে শফিকুল ইসলাম বলেন, ইন্টারনেটের মাধ্যমে এই গ্রুপ কাজ করছে। এটি একটি ভুয়া গ্রুপ। ই-মেইলে যেসব বিকাশ নম্বর দেয়া হয়েছে, তার সূত্র ধরে তিন-চারজনকে আমরা জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে এসেছিলাম। কিন্তু তারা কিছুই জানে না। তারা সম্পূর্ণ নির্দোষ। এ ব্যাপারে তাদের কোনো ধারণাই নেই।

ঠিক কতটি দূতাবাসে হুমকি দেয়া হয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে ডিবি প্রধান বলেন, তিন-চারটি দূতাবাসের পাশাপাশি সরকারি কয়েকটি দফতরেও এমন ই-মেইল পাঠানো হয়েছে। এটি নিছক হয়রানির উদ্দেশ্যে করা হয়েছে কি-না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের ধারণা, এটি পূর্বশত্রুতা বা দেশের ভাবমর্যাদা (ইমেজ) নষ্ট করার জন্য করা হয়েছে। সরকারকে বিব্রত করার জন্যও এটি করা হতে পারে। এই ঘটনায় কাউকে গ্রেফতার করা হয়েছে কি-না, এমন প্রশ্নে ডিবি প্রধান বলেন, আমরা বিষয়টি নিয়ে কাজ করছি। যেকোনো ঘটনা ঘটলেই সেটি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখি। আমরা আশাবাদী যে দ্রুতই এর রহস্য উদ্ঘাটন করব। যারা এর সঙ্গে জড়িত, তাদের আমরা আইনের আওতায় নিয়ে আসব।

ডিএমপির কূটনৈতিক নিরাপত্তা বিভাগের এডিসি আবু খায়ের বলেন, আমাদের কাছে এ ধরনের কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি। চীনা দূতাবাস কর্তৃপক্ষ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পুলিশ সদর দফতরকে বিষয়টি জানিয়েছে। পুলিশ সদর দফতরের মাধ্যমে কাউন্টার টেরোরিজম বিষয়টি তদন্ত করছে। তিনি বলেন, আমরা বিষয়টি জানার পর আগের চেয়ে নিরাপত্তা বাড়িয়েছি। বিশেষ করে চেকপোস্ট, টহল এবং দূতাবাসের সামনে নজরদারি; এগুলো বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি আমাদের যে কুইক রেসপন্স টিম রয়েছে, সেগুলোও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, তবে আমরা মনে করি এতে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। পুরো কূটনৈতিক এলাকায় যে পরিমাণ নিরাপত্তা দেয়া হচ্ছে। আর কারা হুমকি দিলো, কেন দিলো, কোন কোন দূতাবাস এই হুমকি পেয়েছে- তা কিছুই আমরা জানি না বা আমাদের লিখিতভাবে কোনো কিছু জানানো হয়নি। ঘটনাটি শোনার পর আমরা আরো অ্যালার্ট হয়েছি। প্রসঙ্গত, কয়েকটি বিদেশি দূতাবাসে ই-মেইল পাঠিয়ে হুমকি দেয় একটি গোষ্ঠী। বিষয়টি নিয়ে ডিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) কর্মকর্তাদের সঙ্গে দূতাবাসগুলোর প্রতিনিধিদের বৈঠকও হয়। এ ঘটনায় সিটিটিসি তদন্ত শুরু করেছে। সূত্র জানায়, গত সপ্তাহের শেষ দিকে ই-মেইল পাঠিয়ে বাংলাদেশে অবস্থিত একাধিক দূতাবাসে হুমকি দেয়া হয়। কোনো গোষ্ঠী আতঙ্ক ছড়ানোর উদ্দেশ্যে এসব ই-মেইল পাঠিয়েছে বলে ধারণা পুলিশের। ই-মেইলে হুমকির ঘটনায় গুলশান থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) বা লিখিত অভিযোগ কেউ করেনি বলেও জানিয়েছে পুলিশ। এ বিষয়ে সিটিটিসির যুগ্ম পুলিশ কমিশনার মুন্সি শাহাবুদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, আমরা খবর পেয়ে সেখানে গিয়ে তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছি। কারা এবং কোন উগ্রবাদী সংগঠন থেকে ই-মেইল পাঠানো হয়েছে সেটি বের করার চেষ্টা করেছি। হুমকিদাতাদের চিহ্নিত করার কাজ চলমান রয়েছে। তবে এটি স্ক্যাম মেইলও হতে পারে। সূত্র ইনকিলাব।

শেয়ার করুন