২৭ অগাস্ট ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ৬:৬:৪১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :


আফগান-আমেরিকান হিসেবে প্রথমবার মার্কিন কংগ্রেসে আইশা ওয়াহাব
দেশ রিপোর্ট
  • আপডেট করা হয়েছে : ২৬-০৮-২০২৬
আফগান-আমেরিকান হিসেবে প্রথমবার মার্কিন কংগ্রেসে আইশা ওয়াহাব স্পেশাল নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে প্রথম আফগান-আমেরিকান হিসেবে মার্কিন কংগ্রেসে আইশা ওয়াহাব


ক্যালিফোর্নিয়ার স্টেট সিনেটর আইশা ওয়াহাব ইতিহাস গড়ে প্রথম আফগান-আমেরিকান হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে আসন পেয়েছেন। গত ১৮ আগস্ট অনুষ্ঠিত বিশেষ নির্বাচনে তিনি বার্ট বোর্ডের প্রেসিডেন্ট মেলিসা হার্নান্দেজকে পরাজিত করে সাবেক কংগ্রেসম্যান এরিক সোয়ালওয়েলের অবশিষ্ট মেয়াদ পূরণের সুযোগ পেয়েছেন। ভোট গণনায় ওয়াহাব ৫৩.০৯ শতাংশ এবং হার্নান্দেজ ৪৬.৯১ শতাংশ ভোট পান।

ওয়াহাব ক্যালিফোর্নিয়ার ১৪তম কংগ্রেশনাল ডিস্ট্রিক্টের প্রতিনিধিত্ব করবেন। এ এলাকার মধ্যে হেওয়ার্ড, ফ্রেমন্ট, ডাবলিন, প্লিজ্যান্টন ও লিভারমোরসহ আলামেডা কাউন্টির কয়েকটি শহর রয়েছে। সোয়ালওয়েল চলতি বছরের এপ্রিলে পদত্যাগ করার পর আসনটি শূন্য হয়। তার বর্তমান মেয়াদ আগামী জানুয়ারিতে শেষ হবে। তবে এ জয়েই ওয়াহাবের কংগ্রেসের পথ পুরোপুরি নিশ্চিত হচ্ছে না। আগামী ৩ নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচনে তিনি আবারও হার্নান্দেজের মুখোমুখি হবেন। ওই নির্বাচনে নতুন নির্বাচনী এলাকার সীমানা অনুযায়ী পূর্ণ দুই বছরের মেয়াদের জন্য ভোট হবে।

বিশেষ নির্বাচনের আগে ওয়াহাবের বিরুদ্ধে ব্যাপক অর্থ ব্যয় করে প্রচারণা চালায় ইসরায়েলপন্থী লবিং সংগঠন আমেরিকান ইসরায়েল পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কমিটি বা এআইপ্যাক। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওয়াহাবের বিরুদ্ধে নেতিবাচক বিজ্ঞাপন ও প্রচারণায় সংগঠনটি কয়েক মিলিয়ন ডলার ব্যয় করে। গাজায় ইসরায়েলের সামরিক কর্মকাণ্ডকে তিনি গণহত্যা হিসেবে অভিহিত করেছেন-এ অবস্থানের কারণে তিনি এআইপ্যাকের সমালোচনার মুখে পড়েন।

তবে নির্বাচনী প্রচারণায় ইসরায়েল-ফিলিস্তিন ইস্যু প্রধান বিষয় ছিল না। দুই প্রার্থীই মূলত জীবনযাত্রার ব্যয়, অর্থনৈতিক চাপ ও স্থানীয় মানুষের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে প্রচারণা চালান। ফিলিস্তিনে ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডকে গণহত্যা হিসেবে বিবেচনা করেন কি না-এমন প্রশ্নের মুখোমুখি হলে ওয়াহাব ‘হ্যাঁ’ বলেন। হার্নান্দেজ ইসরায়েলের আত্মরক্ষার অধিকারের কথা বলার পাশাপাশি গাজায় ধ্বংসযজ্ঞ অনেক বেশি হয়ে গেছে এবং এতে বেসামরিক মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন।

বিশেষ নির্বাচনের আগে ওয়াহাব ছিলেন স্পষ্টভাবে এগিয়ে থাকা প্রার্থী। জুনের প্রাথমিক নির্বাচনে তিনি হার্নান্দেজকে ২১ পয়েন্টের ব্যবধানে পরাজিত করেন। এরপর ১৬ জুনের বিশেষ নির্বাচনের প্রাথমিক ভোটেও তিনি ২৬ পয়েন্টের ব্যবধানে এগিয়ে ছিলেন। কিন্তু কম ভোটার উপস্থিতির বিশেষ নির্বাচনে এআইপ্যাকের ব্যাপক ব্যয়ের পর হার্নান্দেজ ব্যবধান উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনেন।

৩৯ বছর বয়সী ওয়াহাব ২০২২ সালে ক্যালিফোর্নিয়ার প্রথম আফগান ও মুসলিম স্টেট সিনেটর হিসেবে নির্বাচিত হন। নিউইয়র্ক সিটিতে জন্ম নেওয়া ওয়াহাব শৈশবে বাবা-মাকে হারানোর পর ওই কংগ্রেশনাল এলাকায় একটি আফগান পরিবারে বেড়ে ওঠেন। তার জীবনের শুরুতে ফস্টার কেয়ারে থাকার অভিজ্ঞতাও রয়েছে।

জয়ের পর এক বিবৃতিতে ওয়াহাব বলেন, এই বিজয় সেই ভোটারদের, যারা স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে তাদের নির্বাচনী এলাকা কেনা যায় না। তিনি বলেন, কঠিন ও ব্যয়বহুল নির্বাচনের মধ্যেও তিনি নেতিবাচক প্রচারণায় না গিয়ে এলাকার মানুষের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন এবং যে এলাকা তাকে বড় করেছে, তার জন্য লড়াই করবেন।

এদিকে হার্নান্দেজও নভেম্বরের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তার দাবি, নভেম্বরের নির্বাচনে নতুন জেলা সীমানায় ডাবলিনের প্রায় ২৬ হাজার ভোটার যুক্ত হবেন, যারা আগস্টের বিশেষ নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাননি। ফলে নভেম্বরের নির্বাচন আরো বড় ভোটারসমাবেশের মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে।ওয়াহাবের জয় যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে আফগান-আমেরিকান প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। একই সঙ্গে আগামী নভেম্বরের নির্বাচনে তার পূর্ণ দুই বছরের মেয়াদ নিশ্চিত করার লড়াইও শুরু হলো।

শেয়ার করুন