১১ অগাস্ট ২০২৬, মঙ্গলবার, ০৮:১৯:৩০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
সাকিব প্রসঙ্গে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী- ‘আর কোনো সুযোগ নেই’ ঘনবসতিপূর্ণ ও অপরিকল্পিত নগর এলাকায় শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বেশি এআইপ্যাক সমর্থিত প্রার্থীকে হারিয়ে মিশিগানে চমক দেখালেন ড. আবদুল এল-সায়েদ ‘দেশের গ্রেট প্লেয়ার সিমপ্যাথি ছিল,আসলে সে খুনীর প্রমাণিত দোসর, ফ্যাসিস্ট’ মসজিদ নির্মাণে অনুমতি না দেওয়ায় ব্রোকেন অ্যারো সিটির বিরুদ্ধে মামলা ২৫ হাজার ডলার লুটের অভিযোগ, দুই বাংলাদেশি গ্রেফতার বাংলাদেশসহ ৫০ দেশের জন্য ভিসা বন্ড স্থায়ী করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মারামারিতে হাসপাতালে ১, গ্রেফতার ১ প্রথমবার জাতিসংঘে ভাষণ দেবেন তারেক রহমান নিউইয়র্কে আইসের মুখোশ নিষেধাজ্ঞায় স্থগিতাদেশ


বিদ্যুতের চুক্তিসমূহ পুনর্বিবেচনায় আহ্বান সুজনের
বিশেষ প্রতিনিধি
  • আপডেট করা হয়েছে : ০১-০৩-২০২৩
বিদ্যুতের চুক্তিসমূহ পুনর্বিবেচনায় আহ্বান সুজনের


বিদ্যুৎ খাতের চুক্তিসমূহ পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিক’র সভাপতি এম. হাফিজউদ্দিন খান এবং সাধারণ সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার এ বিবৃতিটি দেয়া হয়। বিবৃতিটি হুবুহ তুলে ধরা হলো। ”আমরা নাগরিক সংগঠন ‘সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিক’ গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ করছি যে, দেশের বিদ্যুৎ খাত নিয়ে একের পর এক অবিবেচনাপ্রসূত ও জনস্বার্থপরিপন্থি সিদ্ধান্ত গৃহীত হচ্ছে, যা এই খাতটিকে ক্রমশ গভীর সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। সম্প্রতি দেশীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ভারতের বিতর্কিত আদানি গ্রুপের সঙ্গে বিদ্যুৎ ক্রয়ের অসম, অস্বচ্ছ ও বৈষম্যমূলক চুক্তির বিষয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। ওই চুক্তিতে  বর্তমান বাজার দর থেকে কয়েকগুণ বেশি দামে আদানি গ্রুপের কাছ থেকে বিদ্যুৎ ক্রয়ের কথা বলা হয়েছে, যা দেশের মানুষের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করবে বলে আমরা মনে করি। গত ২৯ জানুয়ারি বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম সরাসরি বাড়ানো বা কমানোর ক্ষমতা সরকারের হাতে দিয়ে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (সংশোধন), বিল জাতীয় সংসদে পাস হয়। এই আইনে গণশুনানির মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বাদ দিয়ে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রক্রিয়ায় নাগরিকদের অংশগ্রহণের অধিকারকে খর্ব করা হয়েছে বলে আমরা মনে করি।    

বিদ্যুৎ খাতের এসব ঘটনার মধ্যেই বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ডলারের চলতি বিনিময় হার ধরে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর সঙ্গে নতুন চুক্তি করছে বলে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। গত এক বছরে ডলারের দাম অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে পিডিবিকে ১২ হাজার কোটি টাকা বাড়তি ব্যয় করতে হয়েছে। এমতাবস্থায় বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর সঙ্গে নতুন করে ডলারে চুক্তি আমাদের বিদ্যুৎ খাতকে আরও সংকটে ফেলে দিবে বলে আমরা মনে করি। ধারণা করা যায় যে, গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি করেই এ বাড়তি ব্যয় মেটানো হবে, যা জনগণের জীবনযাত্রাকে আরও দুর্বিষহ করে তুলবে। আমরা সরকারকে ডলারে চুক্তির এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে যে ক্ষেত্রে একান্তই ডলার ব্যতীত বিনিময় সম্ভব নয়-সেগুলো বাদে অন্যান্য বিনিময় দেশীয় মুদ্রায় করার জন্য আমরা সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।         

আমরা আরও মনে করি, আদানি গ্রুপের বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ কেনার চুক্তি স্পষ্টতই জনস্বার্থবিরোধী একটি চুক্তি। কারণ আদানি গ্রুপ থেকে বিদ্যুৎ কিনতে দেশে উৎপাদিত বিদ্যুতের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি দাম দিতে হবে। একইসঙ্গে গুণতে হবে কয়লা সরবরাহকারী, পরিবহনকারী ও বন্দর অপারেটরদের সব জরিমানা ও ক্ষতিপূরণ। এর সঙ্গে আরেকটি প্রধান বিষয় হলো ক্যাপাসিটি চার্জ, যা আদানি গ্রুপের সঙ্গে চুক্তিতে স্বেচ্ছাচারী একটি সংখ্যা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। আমরা এই চুক্তিটিও পুনর্বিবেচনা করার জন্য জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।  দেশের বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানির এই গভীর সংকট কাটাতে দেশের জনগণ, নাগরিক সমাজ, বিভিন্ন অংশীজন ও রাজনৈতিক দলগুলোকে সঙ্গে নিয়ে জনবান্ধব নীতি প্রণয়ন এবং এর আলোকে যথাযথ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা অতীব জরুরি। সুজন-এর পক্ষে থেকে আমরা সকলকে এ ব্যাপারে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।

শেয়ার করুন