৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ০৫:১১:৪৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
শাহানা হানিফ ও চি ওসে ডেমোক্রে‍টিক সোশালিস্টসের সিটি কাউন্সিল ব্লকে যোগের জন্য আবেদন নিউইয়র্কে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে ফেডারেল ক্ষমতার সীমা নির্ধারণে হোচুলের নতুন আইন প্রস্তাব নিউইয়র্কে বন্দুক সহিংসতা রেকর্ড সর্বনিম্নে, গুলি ছোড়ার ঘটনা কমেছে ৬১ শতাংশ নিউইয়র্কে অসুস্থ ব্যক্তিদের স্বেচ্ছামৃত্যুর আইন চূড়ান্ত তিন নীতি পরিবর্তনে বয়স্কদের হেলথ কেয়ারে গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে মহানবীর হিজরতের গল্প শোনালেন মামদানি চাঁদ দেখাসাপেক্ষ ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে পবিত্র রমজান তুষার পরিষ্কার না করায় বাড়ির মালিকদের জরিমানা সীমান্ত নজরদারি ছাড়িয়ে নাগরিক পর্যবেক্ষণে ডিএইচএসের এআই প্রযুক্তি অভিবাসীদের সুরক্ষায় নির্বাহী আদেশে সই মামদানির


আ.লীগের ভোট পেতে বিএনপি ছুটছে মরীচিকার পেছনে
মঈনুদ্দীন নাসের
  • আপডেট করা হয়েছে : ১১-০২-২০২৬
আ.লীগের ভোট পেতে বিএনপি ছুটছে মরীচিকার পেছনে


বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচন ১২ ফেব্রুয়ারি। নির্বাচন বস্তুত দুই ক্যাম্পের মধ্যে। একদিকে তারেক জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি, অন্যদিকে ১১ দলীয় জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট। নির্বাচনের সপ্তাহ পূর্ব থেকেই জমাট বেঁধেছে বাঘা বাঘা টকশো অতিথিদের মূল্যায়ন। যদিও তারেক জিয়ার বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন এবং তার নিরাপত্তার জন্য অন্তর্বর্তী ড. মুহাম্মদ ইউনূস সরকারের যথাসাধ্য ব্যবস্থা যেমন নিরাপত্তারক্ষী, তার কেনা বুলেটপ্রুফ গাড়ি, গাড়ির ভেতর থেকে জনগণকে নিরাপদ অবস্থানে সম্ভাষণ ইত্যাদির ঘাটতি নেই, সম্ভবত তার জন্য তারেক রহমানের প্রধান নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি হচ্ছে জননিরাপত্তা বিধান করে সবার আগে বাংলাদেশকে এগিয়ে নেওয়া। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর প্রধান নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি হচ্ছে সন্ত্রাসকে লাল কার্ড, দুর্নীতিকে কালো কার্ড দেখিয়ে দেশের ও দেশের উন্নয়নের জন্য সাংবিধানিক পন্থায় সরকার পরিচালনা। এ নির্বাচনের প্রেক্ষাপট সবারই জানা, ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের মধ্য দিয়ে অনির্বাচিত ও দখলদারিত্ব সরকারের পতন ঘটিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার গঠন। তার মাধ্যমে জুলাই সনদ তৈরি ও তার সংবিধানভুক্তিকরণের জন্য গণভোট। সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ এ গণভোটের জন্য মানসিকভাবে তৈরি হলেও প্রথম এ গণভোটের বিষয়টিকে কোনো কোনো মহল বিতর্কিত করে তোলে। জনগণের বিরাট এক অংশ যারা মূলত বিএনপির সমর্থক, তারা তাতে হতাশ হয়ে পড়ে। তাড়াহুড়ো করে আর তারেক জিয়া গণভোটে ‘হ্যাঁ’কে জয়যুক্ত করার কথা বলেন। 

বস্তুত কথা ছিল আওয়ামী লীগের কর্মতৎপরতা, তথা তাদের নির্বাচনে অংশগ্রহণকে বাতিল করার সিদ্ধান্তকে বর্তমান নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী সব দল সাধুবাদ জানিয়েছিলেন। বিএনপি গোড়ার দিকেই সাধুবাদ জানায়। কিন্তু তারপর বিএনপির মধ্যে যে চেতনার উন্মেষ ঘটে, তা হলো আওয়ামী লীগের ভোট কোন পকেটে যাবে। বিএনপি মনে করলো আওয়ামী লীগের ভোট নিতে পারলে তাদের নির্বাচন ঠেকায় কে? অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী জোট করলো জুলাই বিপ্লবের সপক্ষে যারা ছিলেন-বিশেষ করে এনসিপির সঙ্গে ও অন্যান্য আওয়ামী লীগ বিরোধীদের সঙ্গে। কিন্তু আওয়ামী লীগকে ছাড় দেওয়ার রাজনীতি বিএনপি শুরু করলো ধুমধামের সঙ্গে। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জোর গলায় বলতে লাগলেন ‘হাসিনা আপার আওয়ামী লীগকে আমরা বুক দিয়ে আগলে রাখবো।’

এতে প্রমাদ গুনলেন আওয়ামী লীগের হাতে নিগৃহীত বিএনপির লোকজন। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকতে বিএনপি ভোটে জেতাতো দূরের কথা ভোটকেন্দ্রেই যেতে পারেনি। ভোটের দাবিকে দাবিয়ে রাখার জন্য আওয়ামী লীগের ফ্যাসিবাদ বিএনপির বিরুদ্ধে চরম ব্যবস্থা নিয়েছে। ক্রসফায়ার, এনকাউন্টার তো আছেই। মহিলাদের নির্যাতন তো আছেই। বিশ্ববিদ্যালয়ে ধর্ষণের সেঞ্চুরি তো আছেই, আছে হাজার হাজার মামলা। গুম, খুন, আয়নাঘরসহ কাড়ি কাড়ি সন্ত্রাস ও গণহত্যা। যাদের ইতিহাস রচিত আবু সাইয়িদের বুকের ওপর গুলি, হাদির মাথায় গলি ও অন্যান্য ফ্যাসিবাদী সন্ত্রাসের লেলিহান শিখা। বিএনপির নেতৃত্বের বর্তমান বয়ান কি বিএনপির কর্মীদের ত্যাগকে খতিয়ে দেখে করা হয়। বাংলাদেশে এরা এক সময় বিএনপির নামে ছিল অন্ধ, পকেটের অর্থ দিয়ে মাঠের কাজ করাতো, মানুষের পাশে মানুষ দাঁড়িয়ে বিএনপির জন্য ভোট চাইতো তাদের অনেকেই আজ বিএনপি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। তারা মনে করে বিএনপি আজ তাদের ওপর আওয়ামী নির্যাতনকে শিকার করে না। বিএনপি নেতৃত্ব তাদের চাইতে আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনে অধিক আগ্রহী। শেখ হাসিনার বর্বরতা বিএনপির নেতৃত্বকে তার বিরুদ্ধে মুখ ফেরাতে পারেনি। এ মানুষের আত্মত্যাগের চাইতে তারেক রহমানের কাছে আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু কেন? সম্প্রতি নয়াদিল্লির রয়টারের ব্যুরো চিফের কাছে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তারেক জিয়া বলেন, জনগণ চাইলে জয় কিংবা পুতুলের বাংলাদেশে আসতে কোনো বাধা নেই। কিন্তু সেই সাক্ষাৎকারে তারেক জিয়া হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর দাবিটা পর্যন্ত জানায়নি। সারা দেশে ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে গণজাগরণের সঙ্গে সঙ্গে সম্ভবত বিএনপি বিরোধী এক নতুন জাগরণ সৃষ্টি হয়েছে। বাঘা বাঘা আলোচকরা বলছেন বিএনপি অন্তত ৫০টি আসন নিজেদের কারণে হারাতে বসেছে। কারণ তারা সেসব আসনে ত্যাগী লোকদের মনোনয়ন দেয়নি। ২০০৮ সালের সিভিল মিলিটারি ব্যুরোক্রেসির ষড়যন্ত্রে যে আওয়ামী লীগ ক্ষমতার এসে দুর্দান্ত প্রকোপে বিএনপিকে নিশ্চিহ্ন করার মতলব পেড়েছে, যেভাবে তারেক জিয়াকে বিদেশ থেকে না আসা কিংবা রাজনীতিতে অংশ না নেওয়ার জন্য মুচলেকা নিয়েছে, যেভাবে দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে ভুয়া মামলা দিয়ে তিলে তিলে মৃত্যুও মুখে ঠেলে দিয়েছে সে আওয়ামী লীগের ভোট চাওয়া ও তাদের সঙ্গে আঁতাতের রাজনীতি করে মূলত তারেক জিয়া বিএনপির সমর্থকদের বিরাগভাজন হয়েছেন। আওয়ামী লীগ তার রাজনীতি সঠিকভাবে চালাচ্ছেন। শেখ হাসিনা বলে দিয়েছে নির্বাচনে অংশ না নিতে। আওয়ামী লীগাদের অনেকে বিএনপির মনোনয়ন কিনেছেন। যেমন পলকের চাচা শ্বশুর আনোয়ারুল ইসলাম আনুকে বিএনপি নাটোর-৩ থেকে মনোনয়ন দিয়েছে। এতে মনে হয় সে আসন বিএনপি হারাবে কারণ আনুকে আওয়ামী লীগারই পছন্দ করেন না। পলক আওয়ামী লীগের মধ্যেই এক অপছন্দের ব্যক্তি। তারেক জিয়া যদি নিজের ভোট ব্যাংকের ওপর নির্ভর করে আওয়ামী স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতো, তাহলে নির্বাচনে জেতা যত সহজ ছিল এখন সে নির্বাচন তাদের কাছে ততই কঠিন হয়ে গেছে। ভোটযুদ্ধে তৃষ্ণার্থ বিএনপি আজ ভোটের মরুদ্যান ছেড়ে আওয়ামী লীগ নামের এক মরীচিকার পেছনে ছুটছে। যেখানে কখনই জলধি পাওয়ার কথা নয়। দীর্ঘ সাংবাদিকতার অভিজ্ঞতায় এ প্রতিবেদক নিশ্চিত হয়েছে যে, ভবিষ্যতে আওয়ামী লীগ বিএনপিকে প্রধানবিরোধী হিসেবে দেখতে চায় না। বিএনপির নেতাদের স্বমেরুতে বিকর্ষণ বস্তুত আওয়ামী লীগের পাল্লাই ভবিষ্যতে ভারী করতে পারে। আওয়ামী লীগ ভবিষ্যতে যদি জামায়াতকে বিরোধী হিসেবে পেয়ে থাকে, তাহলে তাদের জন্য রাজনীতি সহজ হবে বিএনপি হেরে গেলে। আর তা সম্ভব। কারণ তারেক জিয়ার রাজনীতি। একসময় আওয়ামী লীগ এরশাদের জাতীয় পার্টির সঙ্গে মিশে বিএনপিকে ভাঙতে চেয়েছে। তখন জামায়াত ছিল আওয়ামী লীগের সঙ্গে। 

পরিশেষে বলতে চাই, বাংলাদেশের সংবাদপত্রগুলো আজ সং সেজে নাচছে। এক বিএনপির স্তাবক সাংবাদিকের বিশ্লেষণ দিয়ে সমাপ্তি টানছি। এই স্তাবক সাংবাদিক বলেছেন, বিএনপি সারা দেশের নির্বাচনে যে ফেল করবে তাই দেখা যাচ্ছে। ঢাকা-১৭ আসনের হিসেব দিয়ে তিনি বলছেন এই আসনে ভোটাররা বিএনপি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। অন্যদিকে নির্বাচনে গুলশান এলাকায় ভোটারদের যে রুচিশৈলী রয়েছে সেখানে বিএনপির প্রতিদ্বন্দ্বীর প্রবেশ অনেকটা নেতিবাচক। যদিও তার স্ত্রী জোবাইদা রহমান সেখানে অনেক বেশি গ্রহণীয় হতেন। 

বিএনপির স্তাবক সেই আলোচক আরো বলেছেন, প্রবাসের ১৫ লাখ ভোট নির্বাচন কমিশনের হাতে এসেছে। এসব ভোটে বিএনপি পিছিয়ে আছে। হঠাৎ করে প্রবাসের ভোট গ্রহণ বিষয়টাকে বিএনপির জন্য বিষফোড়া হয়ে গেছে। তিনি এসব ভোট বাদ দেওয়ার জন্য এখন সিদ্ধান্তের কথা বলেছেন। কথা হচ্ছে বিদেশি ভোটাররা যদি অধিকাংশ জামায়াতকে ভোট দেয়, তাহলে দেশের ভোটাররা কীভাবে বিএনপির পক্ষ নেবে? বিএনপি স্তাবকেরই ধারণা বিএনপি নির্বাচনে হারছে। এ আলোচনা গত ৮ তারিখের। 

অন্যদিকে জামায়াত একবার উঠে একবার পড়ে। জামায়াতের ভোটের হিসাব পরিষ্কার। জুলাই বিপ্লবের পতাকাবাহীদের কোনভাবে গৌণ করে দেখা যাবে না। তবে জামায়াত কোনো কোনো ক্ষেত্রে তাদের বিতর্কিত মতবাদ ঘোড়ার আগে গাড়ি জুড়ে দেওয়ার মতো। হেফাজতিরা মহিলাদের লেখাপড়া বা কাজ করাকে বরদাশত করে না। জামায়াত কিন্তু তা নয়। মহিলাদের কাজের ব্যাপারে তাদের সম্মতি আছে। কিন্তু মহিলাদের কম ঘণ্টা কাজ করার ব্যাপারে তাদের কথা রয়েছে। তবে এ বিষয়টি নির্বাচনের পর আলোচনার ভিত্তিতে বা চেম্বার ও অন্যান্য স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে কথার ভিত্তিতে তা করা যেত। জামায়াতের বিরুদ্ধে আরেক অভিযোগ অন্য এলাকা থেকে ভোটার এনে ঢাকায় রেজিস্ট্রেশন। যা জামায়াতকে জেতাবে। তবে বিএনপি কেন তা করলো না? কিন্তু একতরফাভাবে চাপিয়ে দিয়ে বিষয়টাকে নাজুক করে ফেলেছে জামায়াত নিজেই। আবার কবিরউদ্দীন নামে জামায়াতের এক সংগঠক বলেছেন জামায়াত ক্ষমতায় আসলে মহিলারা শুধু মহিলাদের মাঝে নাচবেন। এসব অপাংক্তেয় কথার অর্থ কি? আসলে জামায়াতের কতিপয় নেতা এখন থেকেই মানুষের জীবন নয় বেহেশতকেই পেতে উদগ্রীব। বিষয়টা জামায়াতের ওপর অহেতুক নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। 

পরিশেষে বলা যায়, হাদি হত্যার বিচারের আন্দোলন এক মাস চুপ থেকে হঠাৎ করে জেগে উঠলো। পিঠাইয়া দোরস্থ করে দিলেন পুলিশ। বিষয়টা কেমন হলো। এক পুলিশ বলল, আয় হাদির লাশ নিয়ে যা। বস্তুত অবস্থা দৃষ্টে মনে হয় হাদির বিচার নিয়ে এ আন্দোলনে উস্কানি রয়েছে নির্বাচন বানচালের। 

নির্বাচনের পরেও নির্বাচন বানচালের কসরত হতে পারে। এ কসরতকে কমাতে হবে। নির্বাচনের পর যত শিগগিরই সম্ভব ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে। 

শেয়ার করুন