নির্বাচন উপলক্ষে বিটিভিতে ভাষণ দিচ্ছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান
ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীর উত্থানে বিস্ময় সর্বত্র। ধর্মভিত্তিক এ দলের এতটা উত্থান হবে এটা ছিল কল্পনাতীত। বিশেষ করে শেখ হাসিনা সরকারের দীর্ঘ ১৬ বছরে দমনপীড়নের কবলে ছিল জামায়াত। সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড তারা পারেনি প্রকাশ্যে করতে। জামায়াতকে করে দেয় নিষিদ্ধ। এতে দলের নেতাকর্মীরা গোপনে বা গুপ্ত থেকে সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে যায়। এতে তারা কখনো ছদ্মাবরণে থেকে দলীয় শক্তিটা যেভাবে তারা বৃদ্ধি করতে সক্ষম হয়, তারই প্রতিফলন।
এর উৎকর্ষ নজির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু দেশের শীর্ষ স্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে জামায়াতের ছাত্র সংগঠন শিবিরের বিশাল জয়। ছাত্রলীগের ছত্রছায়ায় ছাত্রলীগ হয়ে টিকে থেকে লড়াই করে ওইসব ছাত্র নেতৃবৃন্দ সংগঠন যেভাবে জিইয়ে রেখেছে, রাজনীতির ময়দানেও তেমনটাও ছিল অনেকস্থানে। ফলে হাসিনা সরকার পতনের পর খোলস ছেড়ে বেড়িয়ে আসে শিবির জামায়াত। সাংগঠনিক শক্তির প্রদর্শন করেন তারা। নির্বাচনের আগ পর্যন্ত গত ১৮ মাসে জামায়াতে ইসলামীর সমর্থনও দ্রুত বেড়ে যায়।
নিজেদেরও তারা অনেক পরিবর্তন নিয়ে আসে। লোগোতে পরিবর্তন করে ‘আকিমুদ্দিন দ্বীন’ ও ‘আল্লাহু আকবর’ সরিয়ে দেওয়া, হিন্দুদের অনুষ্ঠানাদিতে গিয়ে তাদের সমার্থন লাভের চেষ্টা, হিন্দু প্রার্থীকে মনোনয়ন, মহিলা জামায়াতের সদস্যদের মাঠে নামানো ও মিছিল করানো ছাড়াও নির্বাচনী ইশতিহারে আধুনিক চিন্তাধারার প্রতিফলনসহ নানা প্রতিশ্রুতি। একই সঙ্গে ইসলামকে ব্যবহার করে সাধারন মানুষের কাছে ভোট প্রার্থনা।
নির্বাচনের আগে এক জরিপ অনুসারে, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে পারে এমন আভাস পাওয়া গেলেও ইসলামপন্থী দল জামায়াতের উত্থান এতটাই নাটকীয় যে, কিছু বিশ্লেষকের মত, জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটও শেষ পর্যন্ত বিজয়ী হতে পারে। শেষ পর্যন্ত জামায়াত দলগতভাবে ৬৮টি ও জোটগতভাবে ৭৭ টি সিট পেয়ে তাক লাগিয়ে দেয়। এতে করে ৫৫ বছরের ইতিহাসে জামায়াত প্রথম বিরোধী দলের আসনে বসতে যাচ্ছে সংসদে।
ঐতিহাসিকভাবে জামায়াত কখনোই বড় গণনির্বাচনী শক্তি ছিল না। জেনারেল এরশাদের পতনের পর অনুষ্ঠিত একাধিক নির্বাচনে তাদের ভোটের হার কখনোই ১২ শতাংশ ছাড়ায়নি। সর্বোচ্চ অবস্থান ছিল একানব্বইয়ের নির্বাচনে। সেবার তারা এককভাবে সর্বোচ্চ ১৮ টি সিট লাভ করে। এবারই প্রথম তারা অতীত সব রেকর্ড ছাড়িয়ে নিজেদের অবস্থান যে অনেক পোক্ত সেটারই জানান দেয়।
এদিকে জামায়াতের এমন উত্থান প্রসঙ্গে নিয়মিত বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে গবেষণা করা একজন সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যান নামক একজন সাংবাদিক জামায়াত নিয়ে তার মূল্যায়ন নির্বাচনের আগেই তুলে ধরেন। তার মূল্যায়ন যথার্থ বলেই মনে হচ্ছে।
নিম্নে দেশ-এর পাঠকের জন্য তুলে দেওয়া গেল তার সে বিশ্লেষণ-
মূলত ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে সমর্থনকারী গোষ্ঠীর সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা এবং গুরুতর আন্তর্জাতিক অপরাধের অভিযোগে বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই জামায়াত কলঙ্কিত ছিল। এই প্রেক্ষাপটে জামায়াতের বর্তমান গতি সত্যিই বিস্ময়কর। তাই দলটিকে সমর্থন করা উচিত এমন ইঙ্গিত না দিয়ে, কিংবা তাদের যৌক্তিক সমালোচনা এড়িয়ে না গিয়েও প্রশ্ন ওঠে তাদের দ্রুত উত্থানকে কীভাবে ব্যাখ্যা করা যায়?
সম্ভাব্য আটটি কারণ নিচে তুলে ধরা হলো (কোনো নির্দিষ্ট ক্রমে নয়) :
মুক্তিযুদ্ধে অবস্থান ও দুর্বলতা
জামায়াত পুরোপুরি তাদের অতীত থেকে মুক্ত হতে পারেনি। এখনো মাঝে মঝে একাত্তরের ভূমিকা নিয়ে তাদের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে হয় এবং প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোও এ ইস্যু তোলে। তবু এতে খুব একটা সন্দেহ নেই যে, মুক্তিযুদ্ধকালে জামায়াতের ভূমিকা আর রাজনৈতিকভাবে অযোগ্য করে দেওয়ার মতো বিষয় হিসেবে ভোটারদের একটি বড় অংশের কাছে বিবেচিত হচ্ছে না।
এ পরিবর্তনের পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। প্রথমত, একাত্তরের অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে অভিযুক্ত জামায়াতের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের অনেকেই আওয়ামী লীগের শাসনামলে দণ্ডিত ও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হয়েছেন। ফলে বর্তমান নেতৃত্বের সঙ্গে ওই ঘটনাগুলোর সরাসরি কোনো যোগসূত্র নেই।
দ্বিতীয়ত, আওয়ামী লীগের পতনের ফলে তাদের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বয়ানগুলো অনেকটাই স্তিমিত হয়ে গেছে, যার একটি ছিল বারবার জামায়াতের কথিত যুদ্ধাপরাধের ইতিহাস তুলে ধরা।
তৃতীয়ত, ক্রমবর্ধমান ও প্রভাবশালী হয়ে ওঠা তরুণ প্রজন্ম ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ থেকে এখন অনেকটাই দূরে, তাদের কাছে এটি বিমূর্ত ও কম প্রাসঙ্গিক। একই সঙ্গে এটি এ মুহূর্তে তাদের তাৎক্ষণিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উদ্বেগের সঙ্গে কম সম্পর্কিত বলে মনে হচ্ছে।
বিএনপি-জামায়াতের সততার ভাবমূর্তিতে তুলনা
জামায়াতের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির সবচেয়ে বেশি আলোচিত ব্যাখ্যাগুলোর একটি হলো দুর্নীতি থেকে তাদের কথিত দূরত্ব। হাসিনা সরকার পতনের পর অনেক বাংলাদেশি আশা করেছিলেন তৃণমূল পর্যায়ে ক্ষমতাসীন দলের কর্মীদের নিয়মতান্ত্রিক চাঁদাবাজি ও টাকার বিনিময়ে ব্যবসা করতে দেওয়ার প্রক্রিয়া শেষ হবে। কিন্তু ২০২৪ সালের আগস্টের পর দেখা গেল, আওয়ামী লীগ ক্যাডারদের নিয়ন্ত্রিত অনেক চাঁদাবাজির নেটওয়ার্ক দ্রুতই বিএনপি-সমর্থিত গোষ্ঠীর দখলে চলে গেছে। প্রকৃত পরিবর্তন প্রত্যাশী ভোটারদের কাছে এটি সেই ধারণাকে আরো শক্ত করেছে—বাস্তবে বিএনপি তার পূর্বসূরির চেয়ে খুব একটা আলাদা না।
তাদের চোখে জামায়াত এখনো আলাদা। তৃণমূল পর্যায়ে জামায়াত-নিয়ন্ত্রিত চাঁদাবাজি চক্র বা সংগঠিত দুর্নীতির ব্যাপক কোনো অভিযোগ শোনা যায় না। পরিবর্তন প্রত্যাশী ভোটারদের মতে, এ পার্থক্যটি একটি গভীর কাঠামোগত ভিন্নতাকে তুলে ধরে। ক্ষমতায় গেলে আর্থিক সুবিধা পাওয়ার আশায় স্থানীয় অনেকে বিএনপিকে সমর্থন করেন। বিপরীতে জামায়াত কর্মীরা দল থেকে অর্থ নেওয়ার বদলে উল্টো দলকেই অর্থ দেন। তাদের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা ব্যক্তিগত সম্পদ অর্জনের পথ হিসেবে দেখা হয় না। আর এ পার্থক্যটি হতাশ ভোটারদের একটি অংশের কাছে প্রবল সাড়া ফেলেছে।
কল্যাণমূলক রাজনীতি
আওয়ামী লীগ পতনের পর শত শত পরিবার স্বজন হারানোর শোকে আচ্ছন্ন ছিল। হাজারো পরিবার গুরুতর আহতদের সেবাযত্নে ব্যস্ত ছিল। জামায়াত পরিকল্পিতভাবে এসব পরিবারকে চিহ্নিত করে এবং সম্ভব হলে সরাসরি সহায়তা দিতে উদ্যোগী হয়। খবর অনুযায়ী, প্রতিটি শহীদ পরিবারকে অন্তত এক লাখ টাকা করে এবং বহু আহত ব্যক্তিকে হাসপাতালে গিয়ে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে বিএনপি নেতারাও ব্যক্তিগত সহায়তা দিয়েছেন, তবে তা এত ব্যাপক কিংবা সংগঠিত ছিল না। জামায়াতের এই উদ্যোগ তাদের একটি শৃঙ্খলাবদ্ধ সংগঠন হিসেবে ভাবমূর্তিকে আরো জোরাল করেছে, যারা নিজেদের সম্পদকে বাস্তব সহায়তায় কাজে লাগাতে সক্ষম।
দীর্ঘদিন ধরেই জামায়াতের কৌশলের অন্যতম ভিত্তি-দাতব্য, দৃশ্যমান ও সংগঠিত কল্যাণমূলক রাজনীতি। আর এখনো উল্লেখযোগ্য হারে রাজনৈতিক সুনাম কুড়িয়ে চলেছে।
সাংগঠনিক শৃঙ্খলা
জামায়াত তাদের সাংগঠনিক শক্তির সুফল পেয়েছে। আওয়ামী লীগ পতনের প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই তারা নির্বাচনের জন্য জোর প্রস্তুতি শুরু করে। তাদের শৃঙ্খলাবদ্ধ অভ্যন্তরীণ কাঠামো, বিশেষ করে স্থানীয় পর্যায়ে আরো কার্যকর প্রচারণায় রূপ নিয়েছে। গ্রামীণ এলাকায় ঘরে ঘরে গিয়ে ভোটারের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ ছাড়াও মুখোমুখি প্রচারে জামায়াত বড় ধরনের শক্তি বিনিয়োগ করেছে। এটা বড় সমাবেশ বা গণমাধ্যমনির্ভর প্রচারণার চেয়ে অনেক ক্ষেত্রে বেশি প্রভাব ফেলতে পারে।
মধ্যপন্থী ও নমনীয় অবস্থান উপস্থাপন
ইসলামপন্থী দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য বাংলাদেশে শরিয়া আইন প্রবর্তন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দলটি ইচ্ছাকৃতভাবে নিজেদের আরো মধ্যপন্থী হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে। ধর্মীয় এজেন্ডাকে সামনে না এনে তারা জোর দিচ্ছে বাস্তবভিত্তিক সংস্কারের ওপর। বিশেষ করে দুর্নীতিবিরোধী ব্যবস্থা, প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা ও সুশাসনের উন্নয়ন।
এ অবস্থানের উল্লেখযোগ্য উদাহরণ পাওয়া যায় ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে দলের পলিসি সামিটে জামায়াত আমির শফিকুর রহমানের দেওয়া ‘অ্যাসপায়ারিং বাংলাদেশ’ শীর্ষক ভাষণে। লক্ষ্যণীয়ভাবে, ওই ভাষণে ধর্মের কোনো উল্লেখই ছিল না, বরং শফিকুর রহমান জামায়াতকে ‘মেইনস্ট্রিম মুসলিম ডেমোক্র্যাটস’ হিসেবে বর্ণনা করেন। সেখানে ধর্মতাত্ত্বিক উচ্চাকাক্সক্ষার বদলে গণতান্ত্রিক বৈধতার ওপর জোর দেওয়া হয়।
যদিও এই বক্তব্যটি আংশিকভাবে আন্তর্জাতিক শ্রোতা ও বিদেশি কূটনীতিকদের কথা মাথায় রেখেই তৈরি করা হয়ে থাকতে পারে, তবুও এটি দেশের ভেতরে জামায়াত নিজেদের যেভাবে উপস্থাপন করছে তার একটি বৃহত্তর কৌশলগত পরিবর্তনের প্রতিফলন।
এ নতুন রূপ পুরোপুরি বিশ্বাসযোগ্য মনে হোক বা না হোক, এতে সন্দেহ নেই যে, দলটির গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে এটি সাহায্য করেছে। বিশেষ করে শহুরে ও তরুণ ভোটারদের মধ্যে, যারা সাধারণত ধর্মভিত্তিক দলকে সমর্থন করতে দ্বিধাগ্রস্ত থাকেন।
আওয়ামী লীগ ছাড়া নির্বাচন
অন্তর্বর্তী সরকার ও নির্বাচন কমিশনের আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে অংশ নিতে না দেওয়ার সিদ্ধান্ত জামায়াতের পক্ষে কাজ করে থাকতে পারে। ঐতিহাসিকভাবে দেখা যায়, আওয়ামী লীগ নির্বাচনে থাকলে জামায়াত হয় এককভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে, নয়তো বিএনপির সঙ্গে জোট গঠন করে। এককভাবে লড়লে আওয়ামী বিরোধী অধিকাংশ ভোট বিএনপির দিকে চলে যায়। আর জোট হলে জামায়াত সাধারণত অল্পসংখ্যক আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে।
কিন্তু আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে গতি-প্রকৃতি উল্লেখযোগ্যভাবে বদলে গেছে। যেসব ভোটার আগে আওয়ামী লীগকে রুখতে বিএনপিকে সমর্থন করতেন, তারা এখন হয়তো আরো স্বাধীনভাবে জামায়াতকে ভোট দিতে পারবেন। তাদের এ উদ্বেগও থাকছে না যে, তাদের ভোট অসাবধানতাবশত আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনতে পারে।
ভারতবিরোধী মনোভাব
আওয়ামী লীগ শাসনামলে বাংলাদেশে ভারতবিরোধী মনোভাব ধীরে ধীরে বেড়েছে। এর পেছনে ছিল সীমান্ত হত্যাকাণ্ড, বাংলাদেশিদের নিয়ে ভারতীয় রাজনীতিকদের উসকানিমূলক বক্তব্য এবং ভারত সরকার আওয়ামী লীগকে দৃঢ়ভাবে সমর্থন করে এমন ধারণা।
২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ও শেখ হাসিনার ভারতে আশ্রয়-পরবর্তী সময়ে কথিত ভারতীয় ‘প্রভাবশালী ভূমিকার’ বিরুদ্ধে জনরোষ আরো তীব্র হয়। অনেকেই এসব মতামত প্রকাশে আগের চেয়ে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন।
এ প্রেক্ষাপটে কিছু ভোটার জামায়াতকে বিএনপির তুলনায় ভারতীয় প্রভাব প্রতিরোধে আরো বিশ্বাসযোগ্য শক্তি হিসেবে দেখতে পারেন। কারণ ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে বিএনপিকে সাধারণত বেশি বাস্তববাদী এবং কম সংঘাতমুখী বলে মনে করা হয়। ফলে যাদের কাছে ভারত বিরোধিতা একটি কেন্দ্রীয় রাজনৈতিক বিষয়, তাদের কাছ থেকে জামায়াত অতিরিক্ত সমর্থন পেতে পারে।
‘পরিবর্তনের’ দল হিসেবে জামায়াত
আওয়ামী লীগের পতনের পর স্বৈরতন্ত্র, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি এবং অনেকের ভাষায় দেশের ‘পুরোনো ক্লান্ত রাজনীতি’ থেকে বেরিয়ে আসার ব্যাপক আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়। বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে রাজনৈতিক প্রতিযোগিতায় কিছু ভোটারের কাছে এ নতুন চেতনার প্রতীক হিসেবে জামায়াতই বেশি বিশ্বাসযোগ্য হয়ে উঠতে পারে। জামায়াতকে প্রায়ই একটি বহিরাগত দল হিসেবে দেখা হয়, যারা রাজনৈতিক ব্যবস্থায় প্রভাব বিস্তারকারী পৃষ্ঠপোষকতা ও দুর্নীতির নেটওয়ার্কের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত নয়।
দলটির নেতৃত্ব কোনো রাজনৈতিক বংশ থেকে আসেনি, যা প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক অভিজাতদের থেকে তাদের স্বতন্ত্র ভাবমূর্তিকে আরো শক্তিশালী করে। আর বিএনপির মতো সরকার পরিচালনার কোনো অতীত অভিজ্ঞতা জামায়াতের নেই-যদিও বিএনপির শাসনকাল নিয়ে অনেক ভোটারের স্মৃতি নেতিবাচক। এসব বিষয় অতীত থেকে বিরতি নিতে চাওয়া ভোটারদের মধ্যে জামায়াতের পক্ষে কাজ করতে পারে।
তাছাড়া জুলাই জাতীয় সনদের সংস্কার প্রস্তাবগুলোর প্রতি জামায়াত বিএনপির তুলনায় বেশি উৎসাহী অবস্থান নিয়েছে। বিএনপি এ ব্যাপারে আরো সতর্ক ও রক্ষণশীল। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সঙ্গে জামায়াতের সাম্প্রতিক জোটও সংস্কার ও রাজনৈতিক পরিবর্তনের সঙ্গে তাদের সম্পর্ককে আরো জোরদার করেছে বলে মনে হয়। আর এই পরিবর্তনকে অগ্রাধিকার দেওয়া ভোটারদের মধ্যে তাদের আকর্ষণ আরো বাড়িয়েছে।