১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রবিবার, ৬:০৩:৪০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
আসুন এবার রাষ্ট্রকে আমরা পুনর্গঠন করি - প্রধানমন্ত্রী ‘মাননীয়’ শব্দ ব্যবহার না করার সূচনা নিজেই শুরু করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান টেক্সাসে বিতর্কিত নতুন পাঠ্যক্রম অনুমোদনে মুসলিমদের ক্ষোভ ঘুষ নিয়ে নাগরিকত্ব, সাবেক ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা লুকম্যান ও ওলাবি গ্রেফতার জাতিসংঘ অধিবেশনের ফাঁকে তারেক-ট্রাম্পের বৈঠকের সম্ভাবনা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নিলেন ড. খলিলুর রহমান সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও স্ত্রীর সম্পদের বিষয়ে এফবিআইয়ের প্রতিবেদন দুদকে তারেকের কূটনৈতিক চালে ধরাশায়ী হাসিনা মুসলিম বিদ্বেষে কিশোর আলী হত্যায় মায়ার্সকে ২৫ বছরের কারাদণ্ড অক্টোবরে বাড়ছে স্ন্যাপ সুবিধা ও আয়সীমা


দুই হাজার লোকের মাঝে তবারক বিতরণ
জ্যামাইকাবাসীর উদ্যোগে শহিদ জিয়ার শাহাদতবার্ষিকী পালিত
দেশ ডেস্ক
  • আপডেট করা হয়েছে : ০৩-০৬-২০২৬
জ্যামাইকাবাসীর উদ্যোগে শহিদ জিয়ার শাহাদতবার্ষিকী পালিত বক্তব্য রাখছেন ফখরুল ইসলাম দেলোয়ার


বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক, শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের (বীরোত্তম) ৪৫তম শাহাদতবার্ষিকী স্মরণে প্রথমবারের মতো সংগঠন করে জ্যামাইকায় দোয়া মাহফিল ও তবারক হিসেবে খাবার বিতরণ করা হয়েছে। এ সংগঠনের নাম দেওয়া হয়েছে জ্যামাইকাবাসী। গঠন করা হয় একটি আহ্বায়ক কমিটি। মূলত নেতৃত্বে ছিলেন জ্যামাইকাবাসী প্রাণের নেতা ফখরুল ইসলাম দেলোয়ার, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী বিলাল চৌধুরী, নর্থ বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ও সাংবাদিক আবুল কাশেম, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আল আমিন সুমন, ফারুক হোসেন রনি, ইঞ্জিনিয়ার মাইন উদ্দিন। বিশেষ করে আবুল কাশেম এক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। যার হাত ধরে জ্যাকসন হাইটসে শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাহাদতবার্ষিকী পালন শুরু হয়েছিল। এবার শুরু হলো জ্যামাইকায়।

গত ২৯ মে বাদ জুমা স্থানীয় হিলসাইড অ্যাভিনিউ ও ১৬৮ স্ট্রিটের কর্নারে জ্যামাইকাবাসীর উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। এদিন ২ হাজার লোকের জন্য খাবার বিতরণ করা হয় বলে আয়োজকরা জানান। জবাই করা হয়েছিল গরু। উল্লেখ্য, ১৯৮১ সালের এই দিনে রাষ্ট্রপতি জিয়া চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে অবস্থানকালে কতিপয় বিপথগামী সেনা কর্মকর্তার ব্রশফায়ারে নিহত হন। 

ব্যতিক্রমী এ অনুষ্ঠানে বিশেষ দোয়া মুনাজাত পরিচালনা করেন জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টার (জেএমসি)-এর খতিব ও ইমাম মাওলানা মির্জা আবু জাফর বেগ। দেওয়া মুনাজাতে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করা হয়। সেই সঙ্গে মরহুমা খালেদা জিয়া এবং আরাফাত রহমান কোকোর আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়। এছাড়াও বড় পর্দার মাধ্যমে ভিডিও স্লাইডে শহিদ জিয়ার সংক্ষিপ্ত জীবনী সম্প্রচার করা হয়। অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন কমিউনিটি নেতা ফখরুল ইসলাম দেলোয়ার ও মোহাম্মদ কাশেম।

দোয়ার আগে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির অন্যতম সদস্য আব্দুল লতিফ সম্রাট ও গিয়াস আহমেদ, ডা. ওয়াদুদ ভূঁইয়া, সাপ্তাহিক বাংলাদেশ সম্পাদক ওয়াজেদ এ খান, বিশিষ্ট রাজনীতিক জসিম ভূঁইয়া, ফয়েজ চৌধুরী, আশা হোম কেয়ারের কর্ণধার আকাশ রহমান, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী তোফায়েল চৌধুরী লিটন, কমিউনিটি অ্যাক্টিভিস্ট আনিসুল কবীর জাসীর, ফারুক হোসেন মজুমদার, অনুষ্ঠান আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক বিলাল চৌধুরী, চেয়ারম্যান আল আমীন সুমন, সদস্য সচিব ফারুক হোসেন রনি, প্রধান সমন্বয়কারী মোহাম্মদ খলকুর রহমান। 

অনুষ্ঠানে বক্তারা শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে একজন সৎ, দেশপ্রেমিক ও বিশ্বের অন্যতম নন্দিত রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে উল্লেখ করেন। পাশাপাশি জ্যামাইকাবাসীদের সর্বজনীন উদ্যোগের প্রশংসা করেন। বক্তারা এই আয়োজন সফল করতে যারা সহযোগিতা করেছেন তাদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান। এছাড়াও আয়োজক কমিটির কর্মকর্তারা আগামী দিনে আরো বৃহৎ পরিসরে অনুষ্ঠান আয়োজনের কথা জানান।

সংক্ষিপ্ত বক্তব্য শেষে খাবার বিতরণের উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি আশা হোম কেয়ারের প্রেসিডেন্ট আকাশ রহমান।

অনুষ্ঠানে দেশি-বিদেশি সর্বস্তরের মানুষের মাঝে তবারক বিতরণ করা হয়। তারা লাইন দাঁড়িয়ে খাবার সংগ্রহ করেন এবং স্থানীয় একটি মিলনায়তনে বসে খাবার গ্রহণ করেন। বাদ জুমা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত এই কর্মসূচি চলে। 

অনুষ্ঠানে কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে জেএমসির সাবেক সেক্রেটারি আফতাব মান্নান, যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি নেতা আব্দুস সবুর, ভিপি জসিম, বদরুল হক আজাদ, মনিরুল ইসলাম মনির, দেওয়ার কাওছার, লায়ন সাইফুল ইসলাম, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আশরাফুজ্জামান, এজেড জাহাঙ্গীর হোসাইন, সোয়েব আহমেদ, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আই খান সুলতান, ভিপি জসীম, বাংলাদেশ সোসাইটির সহ-সভাপতি কামরুজ্জামান কামরুল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। 

জ্যামাইকাবাসী আয়োজিত শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদৎ বার্ষিকী স্মরণ অনুষ্ঠান সফল করতে আরো যারা বিশেষ ভূমিকা পালন করেন তাদের মধ্যে রয়েছেন আয়োজক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক যথাক্রমে- আশরাফুজ্জামান আশরাফ, মোহাম্মদ আই খান সুলতান, এসএম ফরমান হোসেন, আমিরুল ইসলাম আমির, মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, রিপন মিয়া ও আলম সরকার, কো চেয়ারম্যান আকিব হোসেন ও মনিরুল ইসলাম মনির, যুগ্ম সদস্য সচিব যথাক্রমে সাইদুল ইসলাম রিয়াদ, মুন্সী জুলফিকার উদ্দিন রুবায়েত, জাকির হোসেন সরদার ও ওয়াহিদ উজ্জল, সমন্বয়কারী যথাক্রমে ইঞ্জিনিয়ার মাইনুদ্দীন মিয়াজী, মিজানুল রহমান রুবেল, খাদেমুল ইসলাম রুবেল ও মোস্তাক আহমেদ।

আকাশ রহমান বলেন, শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ক্ষণজন্মা ব্যক্তি ছিলেন। আসুন আমরা তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করি।

ফখরুল ইসলাম দেলোয়ার বলেন, শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান একজন দেশপ্রেমিক মানুষ ছিলেন। আমাদের তার আদর্শ লালন করা উচিত। অল্প কয়েক বছরের শাসনামলে তিনি বাংলাদেশকে সারা বিশ্বের কাছে পরিচিত করে তুলেছিলেন। বাংলাদেশিদের গর্বের জাতিতে পরিণত করেছিলেন।

আহ্বায়ক বিলাল চৌধুরী অনুষ্ঠানকে সফল এবং সার্থক করার জন্য সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। বিশেষ করে যারা বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেছেন তাদের ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

আবুল কাশেম বলেন, জ্যাকসন হাইটসে শুরু করেছিলাম। আজ থেকে জ্যামাইকায় শুরু করলাম। আশা করি আমাদের এই কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

শেয়ার করুন