২৬ অগাস্ট ২০২৬, বুধবার, ০৭:৩৩:৩১ অপরাহ্ন
শিরোনাম :


হঠাৎ চাঁদাবাজ সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে গর্জনের নেপথ্যে
সৈয়দ মাহবুব মোর্শেদ
  • আপডেট করা হয়েছে : ২৬-০৮-২০২৬
হঠাৎ চাঁদাবাজ সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে গর্জনের নেপথ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ


সন্ত্রাস, সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজ ও মাদক কারবারিদের নির্মূলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের গর্জনে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানান ধরনের আলোচনা-সমালোচনা জন্ম দিয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মন্ত্রিসভা রদবদলের পরপরই এমন গর্জনের নেপথ্যে আছে, রয়েছে নানান ধরনের তথ্য। কেননা এর আগে সারাদেশ জুড়ে চাঁদাবাজ সন্ত্রাসের খবরে জনগণ উদ্বিগ্ন উৎকন্ঠায় থাকলেও তার মন্ত্রণালয় তেমন সাফল্য দেখাতে পারছিল না। আর একারণে ঠিক এমন প্রেক্ষাপটে হঠাৎ চাঁদাবাজ সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে গর্জন হাক-ডাক নিয়ে তা-ই নানা কৌতুহল দেখা দিয়েছে। 

সম্প্রতি ঢাকা, চট্টগ্রাম, রংপুর ও ময়মনসিংহসহ সারাদেশে চিকিৎসক ও পেশাজীবীদের টার্গেট করে চাঁদাবাজি, হামলা এবং সন্ত্রাসী কর্মকান্ড মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। এতে করে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির এমন অবনতিতে রাজনৈতিক মহল থেকে প্রশাসনের কঠোর ভূমিকার দাবি জানানো হয়েছে। অন্যদিকে এসব রুখে দিখে ন্যূনতম পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কি-না সে প্রশ্ন বারবার চলে আসছে। অথচ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর অত্যন্ত আস্থাভাজন ব্যক্তি সালাহউদ্দিন আহমদ। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ক্রমাগত অবনতিতে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছিল। এমন পরিস্থিতিতে সমালোচনায় আরও ঘি ঢেলে দেওয়া হয় হয় যে, আইন প্রয়োগগকারী সংস্থার প্রস্তুত করা তালিকা নিয়ে। এই তালিকা অনুযায়ী সারা দেশে মোট ৩ হাজার ৮৪৯ জন চাঁদাবাজকে শনাক্ত করা হয়েছে। বলা হচ্ছে এই চিহ্নিত চাঁদাবাজদের প্রায় ৯০ শতাংশ বা ৯ ভাগই কোনো না কোনোভাবে রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী বা রাজনৈতিক কার্যক্রমের সাথে যুক্ত। স্বভাবতই প্রশ্ন জাগছে এই রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা সরকারি দল ছাড়া-তো অন্য কেউই হওয়ার প্রশ্নই উঠে না। এর পশাপাশি ক্ষোভ দেখা দেয় চিহ্নিত চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের একশনে না যাওয়ার বিষয়টি। সবার মনে ক্ষোভ দেখা দিচ্ছিল যে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা এই তালিকা করা কি তাহলে বৃথাই যাবে? নিজ দলমতকে পাত্তা না দিয়ে সত্যিই কি বিএনপি সন্ত্রাস চাঁদাবাজ প্রশ্নে কঠোর হবে? কেননা চারিদিকে সংঘবদ্ধ অপরাধী গ্রুপের মধ্যে অন্ত:কলহ, রাজনৈতিক কোন্দল, কিশোর গ্যাং, জমি-জমা বিবাদ, এলাকাভিত্তিক চিহ্নিত দলীয় সন্ত্রাসীদের দাপট ক্রমেই বেড়ে চলেছে। এছাড়া মাদক-অপরাধকেন্দ্রিক ভয়াবহ লড়াই, নারী-শিশু নিপীড়নের পর হত্যা, পারিবারিক-সামাজিক কলহের পাশাপাশি টার্গেট কিলিং পুরো দেশের পরিস্থিতি জনগণকে উৎকন্ঠায় ফেলে দিয়েছে। ইতোমধ্যে এক পরিসংখ্যানে দেখা গেলো যে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত সাত মাসে খুনের ঘটনায় মামলা হয়েছে ২ হাজার ৭৬টি। অন্যদিকে জুলাইয়ে সারাদেশে মাসে খুনের মামলা হয়েছে ২৯৮টি। জুনে এ সংখ্যা ছিল ৩২৬; মে মাসে ৩১০। এ হিসাব অনুযায়ী, গেল তিন মাসে খুনের নথিভুক্ত মামলা ৯৩৪টি। গড়ে প্রতি মাসে খুনের মামলার সংখ্যা ৩১১। 

একারণেই কি গর্জন..

কারো কারো মতে, এমন পরিস্থিতি বাতাসে গুঞ্জন ছিলো যে, মন্ত্রিসভায় বড়ো ধরনের একটা রদবদল হচ্ছে। কিন্তু ঘটে গেলো অন্যরকম ঘটনা। সবাই ধরে নিয়েছিল ঘটনাটি ঘটতে একটু সময় নেবে। কিন্তু রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের শপথের খবরের পাশাপাশি ২১ আগস্ট শুক্রবার যুক্ত হয়েছিল মন্ত্রিসভার রদবদলের গুঞ্জণ সত্যতায় পরিণত হয়। সে-ই জল্পনা-কল্পনার একধরনের আবসান হয়েছে সে-ই শুক্রবার-ই। সরকারের ছয় মাসের মাথায় মন্ত্রিসভার রদবদল হয়ে গেলো। সব গুঞ্জণের সমাপ্তি টেনে দেখা গেলো সেদিন তিনজন নতুন পূর্ণ মন্ত্রী ও দুজন প্রতিমন্ত্রী শপথ নেন। আবার দেখা গেলা একজন প্রতিমন্ত্রীকে পূর্ণ মন্ত্রী ও মন্ত্রীর দপ্তর বদলের ঘটনা। এছাড়া বিস্ময়করভাবে দেখা গেলো একজনকে মন্ত্রিসভা থেকে সরিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা করা হয়েছে। যদিও বলা হচ্ছে তা-কে মন্ত্রীর পদমর্যাদা। 

বড়ো রদবদল আটকে গেছে যে কারণে

জানা গেছে, এর চেয়ে আরও ধরনের রদবদলের ঘটনা ঘটে যে-তো সে-দিন। দপ্তর বদলের কথা ছিল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের। তাকে ওই মন্ত্রণালয়ের বদলে স্থানীয় সরকারে দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তার বদলে নতুন মন্ত্রী আবদুল মঈন খানকে স্থানীয় সরকারে দেওয়া হলো। জানা গেছে, বিএনপির একজন তরুণ নেতা বর্তমানে যিনি মন্ত্রী-ও আছেন, তাকেই স¦রাষ্ট্রমন্ত্রীর পদটি দেওয়ার কথা ছিল। যেনো পুরো মন্ত্রণালয়টি প্রধানমন্ত্রী নিজে ওই তরুণ নেতাকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়ার পরে সার্বক্ষনিক পরামর্শ করে ব্যবস্থা নিতে পারেন। যে-টা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সাথে এইজ গ্যাপের পাশাপাশি শ্রদ্ধাবোধে কারণে সম্ভব হয়ে উঠছে না। জানা গেছে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ তার বর্তমান মন্ত্রণালয় কোনোভাাবেই ব্যর্থতার দায় নিয়ে সরতে চাননি, কারো কারো মতে, সরানোই যাচ্ছিল না। তিনি বরং একে আরও চ্যালেঞ্জ হিসাবে নিবেন বলে আশ্বস্ত করা হয় সরকারের শীর্ষ মহলে। কারও মতে একারণে হঠাৎ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজ ও মাদক কারবারিদের নির্মূল করা হবে। এসব অপরাধ দমনে দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে এখন গর্জন দিচ্ছেন।

শেয়ার করুন