১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রবিবার, ০৪:৫৮:৪২ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
আসুন এবার রাষ্ট্রকে আমরা পুনর্গঠন করি - প্রধানমন্ত্রী ‘মাননীয়’ শব্দ ব্যবহার না করার সূচনা নিজেই শুরু করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান টেক্সাসে বিতর্কিত নতুন পাঠ্যক্রম অনুমোদনে মুসলিমদের ক্ষোভ ঘুষ নিয়ে নাগরিকত্ব, সাবেক ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা লুকম্যান ও ওলাবি গ্রেফতার জাতিসংঘ অধিবেশনের ফাঁকে তারেক-ট্রাম্পের বৈঠকের সম্ভাবনা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নিলেন ড. খলিলুর রহমান সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও স্ত্রীর সম্পদের বিষয়ে এফবিআইয়ের প্রতিবেদন দুদকে তারেকের কূটনৈতিক চালে ধরাশায়ী হাসিনা মুসলিম বিদ্বেষে কিশোর আলী হত্যায় মায়ার্সকে ২৫ বছরের কারাদণ্ড অক্টোবরে বাড়ছে স্ন্যাপ সুবিধা ও আয়সীমা


আদালতের নির্দেশে পুনরায় আশ্রয় ও অভিবাসন আবেদন প্রক্রিয়া শুরু করতে সম্মত ট্রাম্প প্রশাসন
দেশ রিপোর্ট
  • আপডেট করা হয়েছে : ১৭-০৬-২০২৬
আদালতের নির্দেশে পুনরায় আশ্রয় ও অভিবাসন আবেদন প্রক্রিয়া শুরু করতে সম্মত ট্রাম্প প্রশাসন ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (ইউএসসিআইএস)


ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন ফেডারেল আদালতের নির্দেশ মেনে অ্যাসাইলাম (আশ্রয়) এবং অন্যান্য অভিবাসন আবেদন পুনরায় প্রক্রিয়াকরণ শুরু করতে সম্মত হয়েছে। দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে স্থগিত থাকা এসব আবেদন পুনরায় চালুর সিদ্ধান্তে লাখো অভিবাসীর অনিশ্চয়তার অবসান ঘটার আশা দেখা দিয়েছে। গত ৫ জুন ফেডারেল আদালত আশ্রয় আবেদন সম্পূর্ণভাবে স্থগিত করা, আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের ৩৯টি দেশের নাগরিকদের অভিবাসন আবেদন, যেমন গ্রিনকার্ড, ওয়ার্ক পারমিট এবং অন্যান্য অভিবাসন সুবিধার আবেদন স্থগিত রাখা, বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত অনেক স্থায়ী বাসিন্দার নাগরিকত্ব আবেদন কার্যত থমকে দেওয়া এবং রি রিভিউ পলিসি নামে একটি নীতির মাধ্যমে ২০২১ সালের পর অনুমোদনপ্রাপ্ত কিছু অভিবাসীর কেস পুনরায় যাচাই করার উদ্যোগকে অবৈধ ঘোষণা করে গুরুত্বপূর্ণ রায় দেয়।

রোড আইল্যান্ডের ফেডারেল বিচারক জন জে. ম্যাককনেল জুনিয়র ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (ইউএসসিআইএস)-এর বেশ কয়েকটি নীতিকে বেআইনি ঘোষণা করেন। আদালতের ওই রায়ে ট্রাম্প প্রশাসনের বৈধ অভিবাসন সীমিত করার প্রচেষ্টায় বড় ধরনের ধাক্কা লাগে। বিতর্কিত নীতিগুলোর মধ্যে ছিল ইউএসসিআইএসের মাধ্যমে দাখিল হওয়া আশ্রয় আবেদনগুলোর ওপর বৈশ্বিক স্থগিতাদেশ এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের ৩৯টি দেশের নাগরিকদের অভিবাসন আবেদন স্থগিত রাখা।

এ নীতির ফলে এক মিলিয়নেরও বেশি অভিবাসন আবেদন দীর্ঘদিন ধরে অচল অবস্থায় পড়ে ছিল। ফলে বহু আবেদনকারী গ্রিনকার্ড, নাগরিকত্ব, কর্মসংস্থানের অনুমতি এবং অন্যান্য অভিবাসন সুবিধা পাওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন। অনেকের আইনগতভাবে কাজ করার সক্ষমতাও বাধাগ্রস্ত হয় এবং তারা অনির্দিষ্টকাল ধরে সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় ছিলেন।

গত ১২ জুন আদালতে জমা দেওয়া এক নথিতে ইউএসসিআইএসের উপপরিচালক অ্যাঞ্জেলিকা আলফোনসো রয়্যালস জানান, সংস্থার কর্মীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে সংশ্লিষ্ট নীতিগুলোকে আর কার্যকর নয় বলে বিবেচনা করা হয়। একই সঙ্গে ইউএসসিআইএস তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক স্মারকে জানায়, তারা আদালতের সিদ্ধান্তের সঙ্গে দৃঢ়ভাবে দ্বিমত পোষণ করলেও পরবর্তী বিচারিক পর্যালোচনা না হওয়া পর্যন্ত আদালতের নির্দেশনা অনুসরণ করবে। তবে শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত আবেদনগুলোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রদান কার্যক্রম পুরোপুরি পুনরায় শুরু হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট হয়নি। একই দিনে ট্রাম্প প্রশাসন আদালতের রায় স্থগিতের আবেদন জানিয়ে ফার্স্ট সার্কিট কোর্ট অব আপিলসে আপিলও করেছে।

এর আগে বিচারক ম্যাককনেল প্রশাসনের সমালোচনা করে বলেন, আদালতের নির্দেশ কার্যকর করতে সরকারের গড়িমসি গ্রহণযোগ্য নয়। গত ৯ জুন সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল যে বিচারকের প্রাথমিক আদেশ এখনো কার্যকর হয়নি, তাই আবেদন নিষ্পত্তি পুনরায় শুরু করার বাধ্যবাধকতা তৈরি হয়নি। এর জবাবে বিচারক গত বৃহস্পতিবার দ্রুত চূড়ান্ত আদেশ জারি করে প্রশাসনকে আর বিলম্ব না করার নির্দেশ দেন। তিনি তার আদেশে লিখেন, এবার আর কোনো অজুহাত গ্রহণযোগ্য নয়। সরকারের অবিলম্বে এ আদেশ বাস্তবায়নের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। বিচারক শুক্রবার সন্ধ্যার মধ্যে সরকারকে আদালতে জানাতে বলেন যে তারা নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য কী কী পদক্ষেপ নিয়েছে।

মামলাটিতে অভিবাসী অধিকার সংগঠন ও বিভিন্ন ইউনিয়নের পক্ষে আইনি লড়াই পরিচালনা করছে ডেমোক্রেসি ফরওয়ার্ড। সংগঠনটির সভাপতি স্কাই পেরিম্যান এক বিবৃতিতে বলেন, ট্রাম্প ভ্যান্স প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতিগুলো বিশৃঙ্খলা, বিভ্রান্তি ও অদক্ষতা সৃষ্টি করেছে। আমরা এসব বেআইনি নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করেছি এবং আদালতের মাধ্যমে এগুলো স্থগিত করতে সক্ষম হয়েছি। ফেডারেল সরকার বৈধ অভিবাসনের পথ বন্ধ করতে পারে না কিংবা মানুষকে তাদের জন্মস্থান বা জাতীয়তার ভিত্তিতে বৈষম্যের শিকার করতে পারে না।

মামলার সূত্রপাত হয়েছিল গত নভেম্বর মাসে ঘোষিত কয়েকটি নীতিকে কেন্দ্র করে। ওই সময় কর্তৃপক্ষ দাবি করেছিল যে আফগান নাগরিক রহমানউল্লাহ লাকানওয়াল ওয়াশিংটনে দুজন ন্যাশনাল গার্ড সদস্যকে গুলি করেছিলেন। তবে তিনি আদালতে নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে নির্দোষ দাবি করেছেন। গত সপ্তাহে প্রকাশিত ১৩৫ পৃষ্ঠার রায়ে বিচারক ম্যাককনেল উল্লেখ করেন যে প্রশাসনের এসব নীতি বহু মানুষের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে অবস্থান করা প্রায় অসম্ভব করে তুলেছে। তিনি আরো বলেন, নীতিগুলো মূলত অভিবাসনবিরোধী মনোভাব দ্বারা প্রভাবিত হয়েছে এবং এগুলোর যথাযথ আইনগত ভিত্তির অভাব রয়েছে।

অধিকারকর্মীদের মতে, আদালতের এ রায় এবং আবেদন প্রক্রিয়া পুনরায় চালুর সিদ্ধান্ত লাখো অভিবাসীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ স্বস্তি বয়ে আনতে পারে। তবে আপিল আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে এসব নীতির ভবিষ্যৎ এবং যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থার পরবর্তী দিকনির্দেশনা।

শেয়ার করুন