১৩ অগাস্ট ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ০১:০০:০৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন ১৮ অক্টোবর মাইর শুরু হয়েছে কেবল, আসল মারই তো শুরুই হয়নি সাবওয়ে স্টেশন ঠান্ডা রাখতে নতুন পরিকল্পনা শিশুদের টিকা নীতিতে বড় পরিবর্তন আনতে ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ শতবর্ষী চেম্বারস স্ট্রিট সাবওয়ে স্টেশন সংস্কারে বড় প্রকল্প মুসলিম হওয়ায় মৃত্যুর হুমকি, অভিযোগ ফ্লোরিডার রিপাবলিকান কংগ্রেস প্রার্থীর হিজাব পরা নারীকে হামলার অভিযোগ : জোনাথন স্ট্রিপের বিরুদ্ধে হেট ক্রাইমের মামলা ইসলাম ও মুসলিম খ্রিস্টান সম্পর্কের অগ্রণী গবেষক এস্পোসিতোর মৃত্যু মসজিদে অগ্নিসংযোগের চেষ্টা, ৪০ বছর কারাদণ্ডের মুখে ভিনসেন্ট তারেক রহমানের ভারত সফরে প্রাণান্ত চেষ্টা মোদী সরকারের


স্ত্রী-সন্তানকে বাঁচাতে গিয়ে দগ্ধ নোয়াখালীর সোহাগের মৃত্যু
দেশ রিপোর্ট
  • আপডেট করা হয়েছে : ২২-০৭-২০২৬
স্ত্রী-সন্তানকে বাঁচাতে গিয়ে দগ্ধ নোয়াখালীর সোহাগের মৃত্যু স্ত্রী ও দুই সন্তানের সঙ্গে নোয়াখালীর প্রবাসী রফিকুল ইসলাম সোহাগ


যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিজের জীবন বাজি রেখে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে উদ্ধার করতে গিয়ে গুরুতর দগ্ধ হওয়া বাংলাদেশি প্রবাসী রফিকুল ইসলাম সোহাগ আর নেই। দীর্ঘ ২১ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করার পর গত ১৭ জুলাই রাতে নিউইয়র্কের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে। তার বয়স হয়েছিল ৪৭ বছর। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, রফিকুল ইসলাম সোহাগের বাড়ি নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার ২ নম্বর নদনা ইউনিয়নের দক্ষিণ শাকতলা গ্রামে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে নিউইয়র্কে বসবাস করছিলেন।

নোয়াখালীর এ প্রবাসীর মৃত্যুতে নিউইয়র্কের বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজন ও পরিচিতরা বলছেন, পরিবারের সদস্যদের জীবন বাঁচাতে গিয়ে রফিকুল ইসলাম সোহাগ নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন।

জানা গেছে, গত ২৬ জুন ভোরে নিউইয়র্ক সিটির কুইন্সের জ্যামাইকা এলাকায় ১৭২-১২ ৯১ অ্যাভিনিউয়ের একটি আবাসিক ভবনের বেজমেন্টে আগুন লাগে। ওই সময় সোহাগ, তার স্ত্রী স্ত্রী ঝর্ণা আক্তার এবং দুই সন্তান জিহাদ ও জুবায়ের ওই বাসার ভেতরে ছিলেন। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে তিনি প্রচণ্ড তাপ, ঘন কালো ধোঁয়া এবং আগুনের ঝুঁকি উপেক্ষা করে তিনি পরিবারের সদস্যদের একে একে বাইরে নিয়ে আসেন। তবে শেষবারের মতো ঘর থেকে বের হওয়ার সময় তিনি নিজেই আগুন ও ধোঁয়ার মধ্যে আঁকা পড়েন। এতে তার শরীরের বিভিন্ন অংশ গুরুতরভাবে পুড়ে যায় এবং ধোঁয়া শ্বাসের কারণে তার শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে। পরে উদ্ধারকারীরা তাকে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে জরুরি চিকিৎসাসেবার অ্যাম্বুলেন্সের মাধ্যমে নাসাউ কাউন্টি মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়।

নিউইয়র্ক ফায়ার ডিপার্টমেন্ট (এফডিএনওয়াই) জানিয়েছে, ওই অগ্নিকাণ্ডে লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি তদন্ত করা হয়। আগুনের খবর পেয়ে ফায়ারফাইটাররা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান চালান। ঘটনাস্থল থেকে কয়েকজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর ছিল।

হাসপাতালে নেওয়ার পর থেকে সোহাগের চিকিৎসা চলছিল। পরিবারের সদস্যদের উদ্ধারের সময় শরীরের বড় অংশ পুড়ে যাওয়া এবং ধোঁয়া শ্বাসের কারণে তার অবস্থা সংকটাপন্ন ছিল। চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টার পরও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। রফিকুল ইসলাম সোহাগের সাহসিকতার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর নিউইয়র্কের বাংলাদেশি কমিউনিটিতে তাকে একজন বীর বাবা হিসেবে স্মরণ করা হচ্ছে। অনেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার আত্মত্যাগের প্রশংসা করে পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।

প্রবাসী বাংলাদেশিদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সোহাগের মতো মানুষের সাহস ও আত্মত্যাগ শুধু তার পরিবার নয়, পুরো কমিউনিটিকে অনুপ্রাণিত করবে।

তার পরিবার এখন শোকের মধ্যে রয়েছে। স্বজনরা জানিয়েছেন, পরবর্তী আনুষ্ঠানিকতা শেষে তার মরদেহ দাফনের ব্যবস্থা করা হবে।

শেয়ার করুন