১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রবিবার, ০২:২৭:১১ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
আসুন এবার রাষ্ট্রকে আমরা পুনর্গঠন করি - প্রধানমন্ত্রী ‘মাননীয়’ শব্দ ব্যবহার না করার সূচনা নিজেই শুরু করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান টেক্সাসে বিতর্কিত নতুন পাঠ্যক্রম অনুমোদনে মুসলিমদের ক্ষোভ ঘুষ নিয়ে নাগরিকত্ব, সাবেক ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা লুকম্যান ও ওলাবি গ্রেফতার জাতিসংঘ অধিবেশনের ফাঁকে তারেক-ট্রাম্পের বৈঠকের সম্ভাবনা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নিলেন ড. খলিলুর রহমান সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও স্ত্রীর সম্পদের বিষয়ে এফবিআইয়ের প্রতিবেদন দুদকে তারেকের কূটনৈতিক চালে ধরাশায়ী হাসিনা মুসলিম বিদ্বেষে কিশোর আলী হত্যায় মায়ার্সকে ২৫ বছরের কারাদণ্ড অক্টোবরে বাড়ছে স্ন্যাপ সুবিধা ও আয়সীমা


বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার নাগরিকের বিরুদ্ধে মার্কিন নাগরিকত্ব জালিয়াতির অভিযোগ
দেশ রিপোর্ট
  • আপডেট করা হয়েছে : ২৯-০৭-২০২৬
বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার নাগরিকের বিরুদ্ধে মার্কিন নাগরিকত্ব জালিয়াতির অভিযোগ ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস


ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার নাগরিক মিরান কোস্টিচ (৬৬)-এর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্টের নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রক্রিয়ায় প্রতারণা ও মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগে মামলা করেছে। আইডাহোর ডিস্ট্রিক্টের ফেডারেল গ্র‍্যান্ড জুরি গত সপ্তাহে তার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে। বিচার বিভাগের অভিযোগ অনুযায়ী, কোস্টিচ যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্বের আবেদন করার সময় এবং এফবিআই ও ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেসের সিটিজেনশিপ ইন্টাভিউয়ে যুদ্ধকালীন নির্যাতনের তথ্য গোপন করে তার অতীত ভূমিকা সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, তিনি বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার যুদ্ধ চলাকালে তথাকথিত অটোনোমাস প্রভিন্স অব ওয়েস্টার্ন বসনিয়ার একজন উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তা ছিলেন।

মার্কিন কর্মকর্তাদের অভিযোগ, ওই সময় কোস্টিচ বন্দিদের ওপর নির্যাতনে অংশ নিয়েছিলেন এবং অন্যদেরও নির্যাতনের নির্দেশ দিয়েছিলেন। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, তিনি বন্দিদের পিস্তলের বাট দিয়ে আঘাত করেছেন, কাঠের লাঠি ও খুঁটি দিয়ে মারধর করেছেন, ঘুসি ও লাথি মেরেছেন, যার ফলে কিছু বন্দি অচেতন হয়ে পড়েছিলেন। এছাড়া তিনি বন্দিদের একে অপরকে মারধর করতে বাধ্য করেছিলেন এবং সংগঠনের অন্য সদস্যদেরও বন্দিদের ওপর হামলার নির্দেশ দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিসের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করার সময় কোস্টিচ এসব নির্যাতনের ঘটনা গোপন করেন এবং বসনিয়া ও হার্জেগোভিনায় তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া যুদ্ধাপরাধ সংক্রান্ত অভিযোগ সম্পর্কেও তথ্য প্রকাশ করেননি। কোস্টিচের বিরুদ্ধে ন্যাচারালাইজেশন জালিয়াতির চেষ্টা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মিথ্যা বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে নাগরিকত্ব জালিয়াতির প্রতিটি অভিযোগে সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং মিথ্যা বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে সর্বোচ্চ ৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।

ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিসের ক্রিমিনাল ডিভিশনের সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল এ. টাইসেন দুভা বলেন, মিরান কোস্টিচ কয়েক দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের সুবিধা পেয়েছেন এবং শেষ পর্যন্ত নাগরিকত্ব পাওয়ার চেষ্টা করেছেন, কিন্তু একই সময়ে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনায় সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়গুলো গোপন করেছেন। তিনি আরো বলেন, যারা বিদেশে গুরুতর অপরাধ বা নির্যাতনের সঙ্গে জড়িত থেকেও যুক্তরাষ্ট্রে নিরাপদ আশ্রয় পাওয়ার জন্য অভিবাসন কর্তৃপক্ষকে মিথ্যা তথ্য দেয়, তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও বিচার করা হবে।

আইডাহোর ইউএস অ্যাটর্নি বার্ট এম ডেভিস বলেন, ফেডারেল অভিবাসন আইন যথাযথভাবে অনুসরণ ও কার্যকর করার জন্য আমরা আমাদের আইনশৃঙ্খলা অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করছি। ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনসের ভারপ্রাপ্ত বিশেষ এজেন্ট ইন চার্জ এপ্রিল মিলার বলেন, নাগরিকত্ব একটি বিশেষ অধিকার, যা সততা ও নৈতিকতার মাধ্যমে অর্জন করতে হয়। প্রতারণার মাধ্যমে নাগরিকত্ব প্রক্রিয়াকে ক্ষতিগ্রস্ত করার সুযোগ দেওয়া হবে না। এফবিআই ক্রিমিনাল ডিভিশনের সহকারী পরিচালক হেইথ জ্যাঙ্কে বলেন, মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য নিজের সহিংস অতীত গোপন করার চেষ্টা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা আমাদের আইনশৃঙ্খলা অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করে এ ধরনের প্রতারণার তদন্ত চালিয়ে যাব।

মামলাটির তদন্ত করছে এইচএসআই এবং এফবিআই। তদন্তে সহযোগিতা করছে ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড ওয়ার ক্রাইমস সেন্টার, ইউএসসিআইএসের অফিস অব ফ্রড ডিটেকশন অ্যান্ড ন্যাশনাল সিকিউরিটি এবং এফবিআইয়ের ইন্টারন্যাশনাল হিউম্যান রাইটস ইউনিট। ডিপার্টমেন্ট অফ জাস্টিসের অফিস অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স মামলার জন্য প্রয়োজনীয় প্রমাণ সংগ্রহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তদন্তে সহযোগিতার জন্য মার্কিন বিচার বিভাগ বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিচার মন্ত্রণালয় এবং জাতিসংঘের ইন্টারন্যাশনাল রেসিডুয়াল মেকানিজম ফর ক্রিমিনাল ট্রাইব্যুনালসকে ধন্যবাদ জানিয়েছে।

মামলাটি পরিচালনা করছেন বিচার বিভাগের হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড স্পেশাল প্রসিকিউশনস বিভাগের ট্রায়াল অ্যাটর্নি এলিজাবেথ নিলসেন এবং আইডাহো ডিস্ট্রিক্টের সহকারী ইউএস অ্যাটর্নি কেট হরউইটজ। মার্কিন কর্তৃপক্ষ বলছে, নাগরিকত্ব প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষা এবং যুদ্ধাপরাধ বা গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ইতিহাস গোপন করে যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ মর্যাদা পাওয়ার চেষ্টা ঠেকানো তাদের অন্যতম অগ্রাধিকার।

শেয়ার করুন