২৬ অগাস্ট ২০২৬, বুধবার, ০৮:২৭:৩২ অপরাহ্ন
শিরোনাম :


দেশকে শার্লিন ফারজানা
নাটকে রূপালি পর্দার মতোই সৌন্দর্য্য ও পরিচ্ছন্নতা সম্ভব
আলমগীর কবির
  • আপডেট করা হয়েছে : ২৬-০৮-২০২৬
নাটকে রূপালি পর্দার মতোই সৌন্দর্য্য ও পরিচ্ছন্নতা সম্ভব অভিনেত্রী শার্লিন ফারজানা


দীর্ঘ বিরতি সামলে ফের ছোটপর্দায় ফিরেছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী শার্লিন ফারজানা। সমসাময়িক নাটকের বর্তমান প্রেক্ষাপট, কাজের স্বাচ্ছন্দ্য, সহশিল্পীদের ভূমিকা এবং তাঁর ব্যক্তিগত ভাবনা নিয়ে নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত পাঠকপ্রিয় দেশ পত্রিকার সাথে খোলামেলা আলোচনা করেছেন তিনি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আলমগীর কবির

প্রশ্ন: দীর্ঘ বিরতির পর নাটকে ফেরার মূল অনুপ্রেরণা কী ছিল?

শার্লিন ফারজানা: সত্যি বলতে, নাটকের আঙিনাটাকে ভীষণ মিস করছিলাম। অভিনয় জীবনের শুরুটা তো নাটকের মাধ্যমেই। আমার সবসময় মনে হয়, নাটকের নিজস্ব একটি আলাদা মাদকতা ও নান্দনিকতা রয়েছে। চলচ্চিত্রে হয়তো ঢিমেতালে মাসজুড়ে কাজ করা যায়, কিন্তু নাটকে সাত দিনের শুটিংয়ে ৪০ থেকে ৬০ মিনিটের টানটান একটি গল্প ফুটিয়ে তুলতে হয়। এই যে একটা কাজের চাপ, এটার ভেতর থেকেই পুরো ইউনিটের সঙ্গে চমৎকার এক বন্ধন তৈরি হয়। এশিয়ার মধ্যে আমাদের দেশের নাটকে যে সাবলীল ও পরিচ্ছন্ন সৌন্দর্য্য থাকে, তা অনেক সময় সিনেমাতেও পাওয়া যায় না। সেই জায়গা থেকেই ফেরা। তবে সারা মাস কাজ না করলেও মাসে অন্তত দুই-তিনটি ভালো কাজ নিয়মিত করতে চাই।

প্রশ্ন: আগের তুলনায় নাটকের নির্মাণশৈলী ও বাজেটে যে পরিবর্তন এসেছে, তা কেমন লাগছে?

শার্লিন ফারজানা: ইতিবাচক এই পরিবর্তন সত্যিই উপভোগ করছি। আগে একটা সময় দেখা যেত এক দিনেই দুটো করে নাটকের শুটিং করতে হতো-দিনে একটি, রাতে আরেকটি। এখন আর সেই হুটোপাটির মানসিক চাপ নেই। কাজের স্বাচ্ছন্দ্য ও স্বাধীনতা বেড়েছে, যা আমাদের চরিত্র ফুটিয়ে তুলতে বেশি সময় ও সুযোগ দিচ্ছে। এর ফলে নাটকের গুণগত মান নিশ্চিতভাবেই উন্নত হয়েছে।

প্রশ্ন: জিয়াউল ফারুক অপূর্বের সঙ্গে আপনার রসায়ন সবসময় দর্শকপ্রিয়। তার সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা কেমন?

শার্লিন ফারজানা: কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ছাড়া যখন অভিনয়ে আসি, তখন অপূর্ব ভাই আমাকে সবচেয়ে বেশি সহযোগিতা করেছেন। তিনি সহশিল্পীদের কাজের জন্য অত্যন্ত স্বাচ্ছন্দ্যময় পরিবেশ তৈরি করেন। শটের নিখুঁত লুক, মেকআপ থেকে শুরু করে কার ক্লোজ শট নেওয়া দরকার-সব বিষয়েই তিনি খেয়াল রাখেন এবং পরামর্শ দেন। অপূর্ব ভাইয়ের সঙ্গে কাজের কথা শুনলে স্ক্রিপ্ট না দেখেই আমি রাজি হয়ে যাই। যেমন ‘গোলাম মামুন’ করার সময় স্ক্রিপ্ট বা ভূমিকা নিয়ে বিন্দুমাত্র চিন্তা করিনি, কারণ সহশিল্পী হিসেবে অপূর্ব ভাইয়ের ওপর আমার শতভাগ আস্থা রয়েছে।

প্রশ্ন: ক্যামেরার সামনে ফেরার পর নিজেকে ফিট রাখা নিয়ে কোনো সংশয় ছিল?

শার্লিন ফারজানা: বড় পর্দায় কাজের সুবিধা হলো কালার কারেকশন বা নানা পোস্টপ্রোডাকশন পোলিশিংয়ের সুযোগ থাকে। নাটকে সেই সুযোগ কম, সরাসরি রূপালি স্ক্রিনে ফিট থাকতে হয়। তাই মনের ভেতর খানিকটা দ্বিধা কাজ করছিল-আগের সেই লুক বা ফিটনেস ধরে রাখতে পেরেছি কি না। তবে শুটিংয়ের পর নিজের শট দেখে মনে হলো, না, সব ঠিকই আছে। এই ব্যাপারে অপূর্ব ভাইও আমাকে দারুণ সাহস যুগিয়েছেন।

প্রশ্ন: একটি চরিত্রের ভেতরে ঢুকতে কীভাবে প্রস্তুতি নেন?

শার্লিন ফারজানা: ছোটবেলা থেকে বই পড়ার অভ্যাস চরিত্র অনুধাবনে দারুণ কাজ দেয়। সাহিত্যের সঙ্গে সম্পর্ক থাকলে মানুষের মানসিক রূপ বা মনস্তত্ত্ব বুঝতে সুবিধা হয়। এটি অবচেতনভাবেই অভিনয়ে চলে আসে। এছাড়া বাস্তবের রূপরেখা খোঁজা বা ভিজ্যুয়াল ডায়েরি থেকে আইডিয়া নেওয়া তো রয়েছেই। তবে সবচেয়ে বেশি দরকার ভালো চিত্রনাট্য ও টিমওয়ার্ক।

প্রশ্ন: এখনও কি আগের মতোই বই পড়া হয়?

শার্লিন ফারজানা: বাবা সাহিত্যের মানুষ হওয়ায় বইয়ের সঙ্গে আমার সম্পর্ক চুটেনি। তবে এখন সাহিত্য ছাড়াও সেলফ-হেল্প এবং মার্কেটিংয়ের ওপর বেশি পড়াশোনা করছি। যেমন সম্প্রতি সেথ গডিনের ‘পার্পল কাউ’ বইটি পড়া হলো।

প্রশ্ন: করপোরেট পেশায় যুক্ত হওয়ার একটা গুঞ্জন শুনছিলাম, তা কতটুকু সত্যি?

শার্লিন ফারজানা: হ্যাঁ, ইচ্ছা আছে। মূল অনুপ্রেরণা আমার স্বামী। ও প্রায়ই মজা করে বলে-অভিনেতাদের জীবন খুব সহজ, দু-একটি ফ্রিল্যান্স কাজ করলেই চলে; প্রতিদিন অফিসে যাওয়ার ক্লান্তি অভিনেতা-অভিনেত্রীরা বুঝবে না! ওর এই কথা থেকেই চ্যালেঞ্জটা নেওয়া। আমি ঘরে বসে থাকতে পারি না, করোনাকালেও ফুড বিজনেস পরিচালনা করেছি। ভবিষ্যতেও হয়তো জীবনের শেষভাগে প্রবীণ চরিত্রে অভিনয় করব, কিন্তু সাথে একটি নিয়মিত চাকরি বা নিজস্ব কাজ ধরে রাখব।

প্রশ্ন: নতুন কাজের খবর এবং একজন মা হিসেবে দেশের কাছে আপনার প্রত্যাশা কী?

শার্লিন ফারজানা: অনেক অফার পেয়েছি, কয়েকটি চূড়ান্তও করা হয়েছে। আগামী ঈদের কাজগুলোর শুটিং নভেম্বর থেকে শুরু হবে। তার আগেই কিছু কাজ গুছিয়ে রাখছি।

আর একজন মা হিসেবে আমার চাওয়া খুবই সাধারণ। বড় বড় অবকাঠামোর চেয়ে সাধারণ মানুষের মৌলিক পাঁচটি অধিকারের সহজলভ্যতা বেশি জরুরি। লোডশেডিং ও যানজট কমানো, নিত্যপণ্যের বাজারমূল্য সহনীয় রাখা, শিক্ষার প্রসার ও দুর্নীতি কমানোই মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত। দৈনন্দিন জীবনে এই ভিত্তিটুকু স্বস্তিদায়ক হলে আমাদের সন্তানরা এ দেশেই সুন্দর ভবিষ্যৎ খুঁজে পাবে।

শেয়ার করুন