২৬ অগাস্ট ২০২৬, বুধবার, ০৭:৩৩:৪৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম :


ফেডারেল আদালতে ট্রাম্প প্রশাসনের মামলা খারিজ
‘স্যাংচুয়ারি’ নীতি বহাল রাখার সুযোগ পেলো মিশিগানের কাউন্টি
দেশ রিপোর্ট
  • আপডেট করা হয়েছে : ২৬-০৮-২০২৬
‘স্যাংচুয়ারি’ নীতি বহাল রাখার সুযোগ পেলো মিশিগানের কাউন্টি ফেডারেল বিচারক এফ কে বেহম ‘স্যাংচুয়ারি’ অভিবাসন নীতি বহাল রাখার পক্ষে রায় দিয়েছেন


মিশিগানের ওয়াশটেনাও কাউন্টির ‘স্যাংচুয়ারি’ অভিবাসন নীতি বহাল রাখার পক্ষে রায় দিয়েছে ফেডারেল আদালত। ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে আইনি লড়াইয়ে বড় জয় পেয়েছে কাউন্টি। ফেডারেল বিচারক এফকে বেহম ট্রাম্প প্রশাসনের করা মামলা খারিজ করে বলেছেন, ফেডারেল অভিবাসন আইন কার্যকর করতে স্থানীয় সরকারকে ফেডারেল সরকারের হয়ে কাজ করতে বাধ্য করা যায় না। ফলে আইসিইর সঙ্গে সহযোগিতা সীমিত রাখাসহ ওয়াশটেনাও কাউন্টির অভিবাসন-সংক্রান্ত নীতিগুলো বহাল থাকছে।

২১ আগস্ট মিশিগানের ফ্লিন্টে অবস্থিত ইউএস ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের বিচারক বেহম ৮৬ পৃষ্ঠার রায়ে ট্রাম্প প্রশাসনের করা মামলাটি পুরোপুরি খারিজ করে দেন। তিনি বলেন, ফেডারেল সরকার বা প্রেসিডেন্ট স্থানীয় কর্মকর্তাদের নিজেদের অভিবাসন নীতি বাস্তবায়নে বাধ্য করতে পারেন না।

বিচারক বেহম লিখেছেন, প্রেসিডেন্ট স্থানীয় ও স্টেট সরকারগুলোকে ফেডারেল সরকারের পছন্দের অভিবাসন নীতি বাস্তবায়নের কাজে বাধ্য করতে পারেন না। তার মতে, ওয়াশটেনাও কাউন্টি যে নীতিগুলো গ্রহণ করেছে, সেগুলো মূলত সংবিধানের টেন্থ অ্যামেন্ডমেন্টের অধীনে স্থানীয় সরকারের ক্ষমতা প্রয়োগের মধ্যেই পড়ে।

ট্রাম্প প্রশাসন গত এপ্রিল মাসে ওয়াশটেনাও কাউন্টির শেরিফ আলিশিয়া ডায়ার, কাউন্টি প্রসিকিউটর এলি সাভিট এবং কাউন্টি বোর্ড অব কমিশনার্সের বিরুদ্ধে মামলা করে। সরকারের অভিযোগ ছিল, কাউন্টির বিভিন্ন নীতি ফেডারেল অভিবাসন আইন প্রয়োগে বাধা সৃষ্টি করছে এবং সংবিধানের সুপ্রিমেসি ক্লজ লঙ্ঘন করছে। মামলার কেন্দ্রে ছিল কাউন্টির তিনটি নীতি। প্রথমত, প্রসিকিউটরের কার্যালয় কোনো আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ বা প্লিয়া চুক্তির সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় তার অভিবাসন-সংক্রান্ত পরিস্থিতি বিবেচনা করতে পারে। দ্বিতীয়ত, শেরিফের কার্যালয় নিয়মিত দায়িত্ব পালনের সময় ব্যক্তিদের অভিবাসন অভিবাসন-সংক্রান্ত অবস্থান, আইনি অবস্থান, বৈবাহিক অবস্থা, মামলার বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জানতে চায় না এবং বিচারকের জারি করা আদেশ ছাড়া শুধু আইসের ডিটেইনার বা ওয়ারেন্টের ভিত্তিতে কাউকে আটক করে না। তৃতীয়ত, বিচারিক ওয়ারেন্ট বা আদালতের আদেশ ছাড়া ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তাদের কাউন্টির সম্পত্তিতে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি ছিল, এসব নীতি ফেডারেল আইন প্রয়োগে বাধা দেয় এবং অপরাধীদের গ্রেফতার থেকে রক্ষা করে জননিরাপত্তাকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে। কিন্তু বিচারক বেহম বলেন, ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ন্যাশনালিটি অ্যাক্ট স্টেট ও স্থানীয় সরকারের ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সহযোগিতার সুযোগ রাখলেও কোনো নির্দিষ্ট ফেডারেল অনুরোধে তাদের সহযোগিতা করা বাধ্যতামূলক করেনি।

ফেডারেল সরকারের পক্ষ থেকে কাউন্টির শেরিফের কার্যালয়ের বিরুদ্ধে বৈষম্যের অভিযোগও আনা হয়েছিল। তবে বিচারক বলেন, কাউন্টি অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানকে একই পরিস্থিতিতে বেশি সুবিধা দিয়েছে, এমন প্রমাণ সরকার দেখাতে পারেনি। ফলে বৈষম্যের অভিযোগও প্রমাণিত হয়নি। রায়ের পর ওয়াশটেনাও কাউন্টি শেরিফ আলিশিয়া ডায়ার বলেন, তার দায়িত্ব স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়ন করা নয়। তিনি বলেন, অভিবাসন-নির্বিশেষে সবার সাংবিধানিক ও নাগরিক অধিকার রক্ষায় কাউন্টি কাজ করে যাবে।

কাউন্টি বোর্ড অব কমিশনার্সের চেয়ার কেটি স্কটও রায়কে স্বাগত জানিয়ে বলেন, স্থানীয় সম্পদ কীভাবে ব্যবহার করা হবে সে বিষয়ে কাউন্টির সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার রয়েছে। ফেডারেল আইনকে সম্মান করা এবং একই সঙ্গে ফেডারেল সরকারের কাজ নিজেরা করতে বাধ্য হওয়া দুটি এক বিষয় নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

ট্রাম্প দ্বিতীয়বার প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর স্যাংচুয়ারি জুরিসডিকশনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেন। তিনি ফেডারেল অভিবাসন অভিযানে সহযোগিতা না করা অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় এলাকাগুলোর ফেডারেল অর্থায়ন বন্ধের হুমকি দেন এবং এসব সরকারের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে অ্যাটর্নি জেনারেল ও হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারিকে নির্দেশ দেন।

ওয়াশটেনাও কাউন্টির মামলাটি এ ধরনের অন্তত ১৪টি মামলার একটি। ইমিগ্রেশন পলিসি ট্র‍্যাকিং প্রজেক্টের তথ্য অনুযায়ী, ইলিনয়, ক্যালিফোর্নিয়া, নিউইয়র্ক, কলোরাডো ও মিনেসোটার কয়েকটি মামলাতেও ট্রাম্প প্রশাসন প্রাথমিকভাবে পরাজিত হয়েছে। কিছু মামলায় প্রশাসন আপিল করেছে, আর কয়েকটি মামলা এখনো আদালতে বিচারাধীন।

শেয়ার করুন