০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ৬:০৭:৩৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
ইসরায়েলের সমালোচনা, বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসা বাতিল ও বহিষ্কার অসাংবিধানিক রাজু হত্যার অভিযুক্ত আতোস্তা গ্রেফতার নিউইয়র্কে মাদকে মৃত্যু ৪৫ শতাংশ কমেছে ক্যালিফোর্নিয়ায় ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহাকে স্বীকৃতি দিতে বিল পাস মসজিদে তিন মুসলিম হত্যাকাণ্ড : লিন্ডসের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ উল্টো পথে আসা গাড়ির ধাক্কায় বাংলাদেশি মা-মেয়ে নিহত আশ্রয়প্রার্থী শতাধিক অভিবাসীকে আফ্রিকার ৮ দেশে পাঠালো যুক্তরাষ্ট্র ডাকা প্রাপকদের গ্রিনকার্ড প্রাপ্তিতে বাড়তে পারে জটিলতা নাগরিকত্ব প্রত্যাশীদের জন্য ‘নেইবারহুড ইনভেস্টিগেশন’ ৩৫ বছর পর আবার চালু করলো ইউএসসিআইএস নিউইয়র্কে একের পর এক অপরাধ


অ্যাডভান্স প্যারোল নিয়ে নতুন বিআইএ সিদ্ধান্ত
ডাকা প্রাপকদের গ্রিনকার্ড প্রাপ্তিতে বাড়তে পারে জটিলতা
দেশ রিপোর্ট
  • আপডেট করা হয়েছে : ০২-০৯-২০২৬
ডাকা প্রাপকদের গ্রিনকার্ড প্রাপ্তিতে বাড়তে পারে জটিলতা ডিফার্ড অ্যাকশন ফর চাইল্ডহুড অ্যারাইভালস (ডাকা)


যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘদিন ধরে বসবাসরত অনথিভুক্ত অভিবাসী, বিশেষ করে ডিফার্ড অ্যাকশন ফর চাইল্ডহুড অ্যারাইভালস (ডাকা) প্রাপকদের জন্য অ্যাডভান্স প্যারোল ব্যবহার করে বিদেশ ভ্রমণের আইনি ঝুঁকি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বোর্ড অব ইমিগ্রেশন অ্যাপিলস (বিআইএ) সম্প্রতি এক সিদ্ধান্তে আগের একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির বাতিল করে অ্যাডভান্স পারোল নিয়ে ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছে।

গত ১৩ আগস্ট ম্যাটার অব মিলাগ্রো ডেলকারমেন-লারা মামলায় বিআইএ ১৪ বছর আগে দেওয়া ম্যাটার অব আরাব্যালি অ্যান্ড ইয়েরাবেলি সিদ্ধান্ত বাতিল করে। নতুন সিদ্ধান্তে বিআইএ বলেছে, অ্যাডভান্স প্যারোলের অনুমতি নিয়ে কোনো ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে গেলে, নির্দিষ্ট আইনি পরিস্থিতিতে সে বিদেশ ভ্রমণকে অভিবাসন আইনের অধীনে ডিপার্চার হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে।

এর অর্থ এই নয় অ্যাডভান্স প্যারোল নিয়ে বিদেশে গেলেই প্রত্যেক ব্যক্তির ওপর স্বয়ংক্রিয়ভাবে ৩ বা ১০ বছরের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে, বরং কোনো ব্যক্তির ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে কি না, তা তার আনলফুল প্রেজেন্সের ইতিহাস, যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ধরন এবং অন্যান্য অভিবাসন পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করতে পারে। আগের আরাব্যালি অ্যান্ড ইয়েরাবেলি সিদ্ধান্তের অধীনে অ্যাডভান্স পারোল নিয়ে সাময়িক বিদেশ ভ্রমণকে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে এমন ‘ডিপার্চার’ হিসেবে গণ্য করা হতো না, যার ফলে ৩ বা ১০ বছরের পুনঃপ্রবেশ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়। এ ব্যাখ্যার কারণে কিছু ডাকা প্রাপক ও অন্যান্য অনথিভুক্ত অভিবাসী বিদেশ ভ্রমণ শেষে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে এসে অ্যাডজাস্টমেন্ট অব স্ট্যাটাসের মাধ্যমে গ্রিনকার্ডের জন্য আবেদন করার সম্ভাব্য সুযোগ পেতেন।

নতুন ডেলকারমেন-লারা সিদ্ধান্তে সে আইনি ব্যাখ্যা পরিবর্তিত হয়েছে। ফলে অ্যাডভান্স প্যারোল নিয়ে বিদেশ ভ্রমণের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নিজের অভিবাসন পরিস্থিতি আলাদাভাবে মূল্যায়ন করা আরো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইনের অধীনে, নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ১৮০ দিনের বেশি কিন্তু এক বছরের কম আন-লফুল প্রেজেন্স থাকার পর দেশ ছাড়লে তিন বছরের এবং এক বছর বা তার বেশি আন-লফুল প্রেজেন্সের পর দেশ ছাড়লে ১০ বছরের পুনঃপ্রবেশ নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হতে পারে। তবে এসব বিধান ব্যক্তির নির্দিষ্ট অভিবাসন ইতিহাসের ওপর নির্ভর করে এবং আনলফুল প্রেজেন্স কীভাবে গণনা হবে, সেটিও সব ক্ষেত্রে একই নয়।অনেক ডাকা প্রাপক শৈশবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছেন এবং তাদের বৈধভাবে ইন্সপেক্টেড অ্যান্ড অ্যাডমিটেড হওয়ার রেকর্ড নেই। ফলে তারা অন্য যোগ্যতা পূরণ করলেও গ্রিন কার্ডের জন্য অ্যাডজাস্টমেন্ট অব স্ট্যাটাসের ক্ষেত্রে বৈধ প্রবেশ বা পারোলের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। অ্যাডভান্স প্যারোল কিছু ডাকা প্রাপকের জন্য এ সমস্যার একটি সম্ভাব্য সমাধান তৈরি করতে পারে। তবে নতুন বিআইএ সিদ্ধান্তের পর বিদেশ ভ্রমণের সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য আইনি ঝুঁকিও বিবেচনা করতে হবে।

৩ বা ১০ বছরের নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হলে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ওয়েইভারের সুযোগ থাকতে পারে। তবে ওয়েইভার স্বয়ংক্রিয় নয় এবং অনুমোদনও নিশ্চিত নয়। কোন ওয়েইভার প্রযোজ্য হবে এবং কী ধরনের প্রমাণ প্রয়োজন, তা ব্যক্তির অভিবাসন পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে। এর আগে ম্যাটার অব সান্তিয়াগো-সান্তিয়াগো মামলায় বিআইএ সিদ্ধান্ত দেয়, শুধু ডিএসিএ স্ট্যাটাস থাকা কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে চলমান ডিপোর্টেশন প্রসিডিংস বন্ধ বা বাতিল করার জন্য একাই যথেষ্ট কারণ নয়। এদিকে অ্যাডভান্স প্যারোলের মাধ্যমে পুনরায় প্রবেশের ক্ষেত্রে নতুন ১ হাজার ডলারের প্যারোল ফি চালুর বিষয়টিও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জন্য অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি করেছে।

নতুন বিআইএ সিদ্ধান্তের ফলে কিছু ডাকা প্রাপক ও অন্যান্য অভিবাসীর জন্য অ্যাডভান্স পারোল নিয়ে বিদেশ ভ্রমণের আইনি হিসাব আরো জটিল হতে পারে। তবে এ সিদ্ধান্ত প্রত্যেক ডিএসিএ প্রাপকের ক্ষেত্রে একই ফল বয়ে আনবে—এমন নয়। ব্যক্তির আন-লফুল প্রেজেন্স, আগের প্রবেশ ও অভিবাসন ইতিহাস এবং অন্যান্য পরিস্থিতির ওপর ফলাফল ভিন্ন হতে পারে। তাই অ্যাডভান্স প্যারোল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে যাওয়ার আগে নিজের অভিবাসন ইতিহাস ও সম্ভাব্য ঝুঁকি একজন অভিজ্ঞ অভিবাসন আইনজীবীর মাধ্যমে পর্যালোচনা করা গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণ তথ্যের ভিত্তিতে বিদেশ ভ্রমণ বা গ্রিনকার্ডের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

শেয়ার করুন