মেক্সিকো সীমান্তে আশ্রয়কেন্দ্রগুলোর বেড এখন প্রায় খালি
যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের চেষ্টা করা অভিবাসীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় মেক্সিকোর উত্তর সীমান্তের বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্র এখন প্রায় খালি হয়ে যাচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন নীতি, ব্যাপক বহিষ্কার অভিযান এবং বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সুযোগ সংকুচিত হওয়ার পর সীমান্তমুখী অভিবাসীর প্রবাহ কমে গেছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।
মেক্সিকোর সিউদাদ হুয়ারেজ শহরের পরিস্থিতি এর স্পষ্ট উদাহরণ। ইকুয়েডরের অভিবাসী সালোমে ভিলেনা স্বামী ও চার ও ছয় বছর বয়সী দুই সন্তানকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু পরিবর্তিত অভিবাসন নীতির কারণে পরিবারটি এখন মেক্সিকোতেই থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার জন্য পাচারকারীর সাহায্য নেওয়ার কথাও তারা ভেবেছিল, কিন্তু ওই ব্যক্তি তাদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়া শুরু করায় সেই পরিকল্পনাও বাতিল করেন।
ট্রাম্প প্রশাসন ক্ষমতায় ফিরে অভিবাসীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি বৈধ পথ সিবিপি ওয়ান অ্যাপ বন্ধ করে দেয়। এই অ্যাপের মাধ্যমে আশ্রয়প্রার্থীরা যুক্তরাষ্ট্রের প্রবেশবন্দরে সাক্ষাতের সময় নির্ধারণ করতে পারতেন। এটি বন্ধ হওয়ার পর হাজার হাজার অভিবাসী সিউদাদ হুয়ারেজসহ মেক্সিকোর সীমান্তবর্তী শহরগুলোতে আটকা পড়েন। একই সময়ে ব্যাপক বহিষ্কারের আশঙ্কায় মেক্সিকো সরকার অতিরিক্ত আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করলেও অভিবাসীর সংখ্যা কমে যাওয়ায় অনেক কেন্দ্র প্রায় ফাঁকাই থেকে যায়।
সিউদাদ হুয়ারেজের আশ্রয়কেন্দ্রগুলোর পরিস্থিতিতেও এই পরিবর্তনের প্রভাব স্পষ্ট। শহরের গুড সামারিটান আশ্রয়কেন্দ্রের প্রধান হুয়ান ফিয়েরো বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির কারণে নতুন অভিবাসীর আগমন উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। মেক্সিকোর কোয়েসপো জনসংখ্যা পরিষদের কর্মকর্তা দিরভান গার্সিয়ার তথ্য অনুযায়ী, বাজেট সংকোচন ও অভিবাসীর সংখ্যা কমে যাওয়ার কারণে তাদের নেটওয়ার্কে থাকা আশ্রয়কেন্দ্রের সংখ্যা প্রায় অর্ধেকে নেমে ১৮টিতে দাঁড়িয়েছে। এসব কেন্দ্রের গড় দখলমাত্রা এখন প্রায় ১৫ শতাংশ।
আশ্রয়কেন্দ্রগুলোর বাসিন্দাদের চেহারাতেও বড় পরিবর্তন এসেছে। আগে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার উদ্দেশ্যে মেক্সিকোর উত্তর সীমান্তে আসা বিদেশি অভিবাসীরাই ছিল প্রধান বাসিন্দা। এখন অবশিষ্ট বাসিন্দাদের বড় অংশই মেক্সিকোর অভ্যন্তরীণ সহিংসতায় বাস্তুচ্যুত মানুষ। বিদেশি অভিবাসীদের মধ্যে ভেনেজুয়েলা, কলম্বিয়া এবং মধ্য আমেরিকার বিভিন্ন দেশের নাগরিকরা রয়েছেন।
ফলে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের চেষ্টা কমে যাওয়ার পাশাপাশি মেক্সিকোর সীমান্ত শহরগুলোর অভিবাসী পরিস্থিতিও বদলে যাচ্ছে। যারা একসময় যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার অপেক্ষায় সীমান্তে অবস্থান করছিলেন, তাদের একটি অংশ এখন মেক্সিকোতেই স্থায়ীভাবে থাকার কথা ভাবছেন। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সীমান্তে অভিবাসীদের প্রবাহ কমে যাওয়ায় মেক্সিকোর উত্তরাঞ্চলের আশ্রয়কেন্দ্র ব্যবস্থাও আগের তুলনায় অনেক ছোট হয়ে এসেছে।