২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বুধবার, ১১:৩৮:৪১ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
হোয়াইট হাউসে প্রবেশাধিকার বন্ধ : ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা মসজিদ ও ডিয়ারবর্নের মেয়রকে হুমকির অভিযোগে রোজভিলের নারী অভিযুক্ত ইসলামবিরোধী বক্তব্যের বিরুদ্ধে টেক্সাসে মুসলিমদের পাল্টা লড়াই তিন ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থীকে গুলি : জেসন ইটন দোষী সাব্যস্ত অনথিভুক্ত শিশুদের সরকারি শিক্ষার অধিকার নিয়ে নতুন বিতর্ক প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রবাসী বাংলাদেশী ফোরামের ৯ দাবি ‘বেস্ট অব দ্য ওয়েস্ট’ ইয়ুথ লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ডে সম্মানিত তাহমিদ চৌধুরী সরকারি কর্মকর্তা সেজে বাড়ছে প্রতারণা চল্লিশ বছর আগের সেই দিনটির কথা দিয়েই শুরু ড. খলিলের চুক্তি না হলে ইরানকে ধ্বংসের হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের


তিন ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থীকে গুলি : জেসন ইটন দোষী সাব্যস্ত
দেশ রিপোর্ট
  • আপডেট করা হয়েছে : ২৩-০৯-২০২৬
তিন ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থীকে গুলি : জেসন ইটন দোষী সাব্যস্ত ভারমন্টের বার্লিংটনে তিন ফিলিস্তিনি কলেজ শিক্ষার্থীকে গুলি করার মামলার বিচার চলাকালে আদালতে জেসন ইটনকে দেখা যাচ্ছে


যুক্তরাষ্ট্রের ভারমন্ট স্টেটে তিন ফিলিস্তিনি কলেজ শিক্ষার্থীকে গুলি করার ঘটনায় জেসন ইটন নামে ৫১ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে গত ২১ সেপ্টেম্বর দোষী সাব্যস্ত করেছে জুরি। ২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে ইউনিভার্সিটি অব ভারমন্টের কাছে বার্লিংটনে ওই গুলির ঘটনা ঘটে। গত সোমবার রায় ঘোষণার সময় জুরি ইটনের উন্মাদনার (ইনস্যানিটি) দাবি প্রত্যাখ্যান করে। তার সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে।

গুলিতে আহত তিন শিক্ষার্থী হলেন হিশাম আওয়ারতানি, তাহসিন আলিয়াহমাদ ও কিনান আবদালহামিদ। ঘটনার সময় তিনজনেরই বয়স ছিল ২০ বছর। আওয়ারতানি গুলিতে কোমরের নিচ থেকে পক্ষাঘাতগ্রস্ত হন এবং বর্তমানে হুইলচেয়ার ব্যবহার করেন। আলিয়াহমাদের কলারবোনে এবং আবদালহামিদের ডান নিতম্বে গুলি লাগে। এক সপ্তাহব্যাপী বিচার শেষে জুরি কয়েক ঘণ্টা আলোচনা করে রায় দেয়। বিচারে তিন আহত শিক্ষার্থী নিজেদের অভিজ্ঞতার কথা জানান। পাশাপাশি প্রতিরক্ষা ও প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের সাক্ষ্য নেওয়া হয়।

ইটন গুলি চালানোর বিষয়টি অস্বীকার করেননি। তবে তার আইনজীবীরা যুক্তি দেন, ঘটনার সময় তিনি মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন এবং তাকে উন্মাদনার কারণে দোষমুক্ত ঘোষণা করা উচিত। প্রতিরক্ষার দাবি অনুযায়ী, গুলি চালানোর আগে ইটন বিশ্বাস করছিলেন যে সিআইএ ও ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ এফএম রেডিওর মাধ্যমে তাকে নির্দেশ দিচ্ছে। তার দাবি ছিল, ঈশ্বরও তাকে ইহুদি প্রতিবেশীদের রক্ষা করার নির্দেশ দিচ্ছেন।

প্রতিরক্ষা আইনজীবীদের মতে, গুলির ঘটনার প্রায় দুই সপ্তাহ আগে ইটন একটি ক্রেডিট ইউনিয়নে চাকরি হারান। এরপর তিনি বিভ্রম ও মানসিক বিকারের মধ্যে পড়েছিলেন। আইনজীবী জোশুয়া ও’হারা আদালতে বলেন, স্থানীয় একটি এনপিআর রেডিও স্টেশন শুনতে গিয়ে ইটন সেখানে সিআইএর বার্তা শুনছেন বলে বিশ্বাস করেছিলেন। প্রথম দিকে এসব বার্তাকে তিনি উৎসাহব্যঞ্জক মনে করলেও পরে সেগুলো তাকে কাউকে গুলি করার নির্দেশ দিচ্ছে বলে মনে করতে শুরু করেন।

তবে প্রসিকিউশন ইটনের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়। প্রসিকিউটর স্যালি অ্যাডামস জানান, ইটনের অ্যাপার্টমেন্ট থেকে তিনটি শটগান এবং একটি রুগার ৩৮০ ক্যালিবারের হ্যান্ডগান উদ্ধার করা হয়। অপরাধ তদন্তের পরীক্ষায় ওই হ্যান্ডগানটিকেই গুলির ঘটনায় ব্যবহৃত অস্ত্র হিসেবে শনাক্ত করা হয়। ইটন ঘটনার সাত মাস আগে ভারমন্টের একটি বন্দুকের দোকান থেকে অস্ত্রটি কিনেছিলেন। আহত তিন শিক্ষার্থী আদালতে জানান, থ্যাঙ্কসগিভিং ছুটির সপ্তাহান্তে তারা আওয়ারতানির দাদির বাড়িতে গিয়েছিলেন। পরে তারা তার যমজ কাজিনদের জন্মদিন উদ্যাপন করতে বোলিং খেলতে যান। সন্ধ্যার পর ইউনিভার্সিটি অব ভারমন্টের কাছে হাঁটার সময় তাদের ওপর গুলি চালানো হয়।

আওয়ারতানি জানান, তারা তখন ইংরেজি ও আরবি মিশিয়ে কথা বলছিলেন এবং সিগারেট খাচ্ছিলেন। আলিয়াহমাদ ও আবদালহামিদ ফিলিস্তিনি ঐতিহ্যবাহী স্কার্ফ ‘কেফিয়েহ’ পরেছিলেন। তারা ইটনকে প্রথমে তার অ্যাপার্টমেন্ট ভবনের বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেন। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে ইটন তাদের দিকে এগিয়ে এসে কাছ থেকে হ্যান্ডগান বের করে গুলি চালান বলে আদালতে সাক্ষ্য দেন আওয়ারতানি।ঘটনার সময় আওয়ারতানি ব্রাউন ইউনিভার্সিটিতে পড়াশোনা করছিলেন। আলিয়াহমাদ পড়তেন ট্রিনিটি কলেজে এবং আবদালহামিদ ছিলেন পেনসিলভানিয়ার হ্যাভারফোর্ড কলেজের শিক্ষার্থী। গুলিতে আওয়ারতানির মেরুদণ্ড ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে কোমরের নিচ থেকে পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়। আলিয়াহমাদের কলারবোনে গুলি লাগে এবং আবদালহামিদের ডান নিতম্বে গুলি লাগে।

ইটনের প্রতিবেশী জ্যাকব পাইনের সাক্ষ্য অনুযায়ী, তিনি চার থেকে ছয়টি গুলির শব্দ শুনেছিলেন। এরপর সিঁড়ি দিয়ে কারও ওপরে ওঠার শব্দ পান। বাইরে এসে তিনি আহত একজনকে ‘আমি গুলিবিদ্ধ হয়েছি, সাহায্য করুন’ বলে চিৎকার করতে শুনতে পান। পরে তিনি আহতদের কম্বল দেন এবং জরুরি নম্বরে ফোন করেন।২০২৩ সালের নভেম্বরের এই হামলা ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধ শুরুর কয়েক সপ্তাহ পর ঘটে। ঘটনাটির পর এটিকে সম্ভাব্য হেইট ক্রাইম হিসেবে তদন্তের দাবি ওঠে। তবে ইটনের বিরুদ্ধে কোনো হেইট ক্রাইম অভিযোগ আনা হয়নি। হামলার পেছনে ফিলিস্তিনিবিরোধী বিদ্বেষ, মানসিক বিকার নাকি অন্য কোনো কারণ কাজ করেছিল তা নিয়ে সে সময় প্রশ্ন ছিল।

মামলার রায়ের পর কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস বা কেয়ারের ডেপুটি এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর এডওয়ার্ড আহমেদ মিচেল জুরি সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান। তিনি বলেন, তিন ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থীকে হত্যার চেষ্টা এবং ইটনের উন্মাদনার দাবি প্রত্যাখ্যানের সিদ্ধান্তকে তারা স্বাগত জানাচ্ছেন। মিচেলের বক্তব্য অনুযায়ী, শিক্ষার্থীরা ফিলিস্তিনি পরিচয়ে দৃশ্যমান থাকার কারণেই লক্ষ্যবস্তু হয়েছিলেন।তিনি আরো বলেন, ঘৃণার পরিবেশ সহিংসতায় রূপ নিতে পারে এবং গত কয়েক বছরে এমন সহিংসতার ঘটনা দেখা গেছে। তিনি রাজনৈতিক নেতাদের ফিলিস্তিনিবিরোধী বর্ণবাদ ও মুসলিমবিরোধী বিদ্বেষ প্রত্যাখ্যান করার আহ্বান জানান এবং আহত শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন।

ইটনকে রায়ের পর হেফাজতে রাখা হয়েছে। তার সাজা ঘোষণার তারিখ এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। মামলাটিতে হত্যাচেষ্টার দণ্ডের পাশাপাশি ২০২৩ সালের হামলার উদ্দেশ্য, মানসিক অসুস্থতার দাবি এবং সম্ভাব্য বিদ্বেষমূলক উদ্দেশ্য নিয়ে আলোচনাও আবার সামনে এসেছে।

শেয়ার করুন