২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বুধবার, ০৫:৪১:২৮ অপরাহ্ন


জ্যাকসন হাইটসে পাল্টাপাল্টি সমাবেশ
বিএনপির স্বাগত জানানোর ব্যানার ছিঁড়লো আ.লীগ নেতাকর্মীরা
দেশ রিপোর্ট
  • আপডেট করা হয়েছে : ২৩-০৯-২০২৬
বিএনপির স্বাগত জানানোর ব্যানার ছিঁড়লো আ.লীগ নেতাকর্মীরা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ব্যানার ছেঁড়ার দৃশ্য


প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগমনকে কেন্দ্র যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি, বিএনপির অঙ্গ সংগঠন এবং যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ ও আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠন নানাবিধ কর্মসূচি ঘোষণা করে। বিএনপি এবং অঙ্গ সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে স্বাগত জানাতে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করে। যার মধ্যে ছিল স্বাগত র‌্যালি, আনন্দ সমাবেশ এবং নিউইয়র্কে বাংলাদেশি অধ্যুষিত এলাকায় বিভিন্ন ধরনের পোস্টার। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ এবং অঙ্গ সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রতিবাদ বিক্ষোভের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। দুদলের জন্যই জ্যাকসন হাইটসের ডাইভারসিটি যেন প্রেস ক্লাবের (ঢাকার) প্রাঙ্গণে পরিণত হয়। পোস্টার লাগানো হয়েছে ডাইভারসিটি প্লাজায়, বিএনপির স্বাগত র‌্যালিও দেওয়া হয়েছে ডাইভারসিটি প্লাজায়। আওয়ামী লীগের বিক্ষোভ সমাবেশও দেয়া হয়েছে ডাইভারসিটি প্লাজায়। মূলত প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে প্রায় প্রতিদিনই ডাইভারসিটি প্লাজায় উভয় দল কর্মসূচি পালন করে আসছিল আগে বা পরে কিন্তু বাধ সাধে গত ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায়। দুদলই এতোই স্থানে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ঘোষণা করে।

২০ সেপ্টেম্বর ছিল দিনব্যাপী হালকা বৃষ্টি। বিকেলেও বৃষ্টি ছিল। কিন্তু সন্ধ্যায় বৃষ্টি ছিল না। ঐ সময়ই দুই দল কর্মসূচি পালন করতে আসে। প্রথমে অবস্থান নেয় যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি, নিউইয়র্ক স্টেট বিএনপি, নিউইয়র্ক উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপি, যুক্তরাষ্ট্র জাসাস, যুক্তরাষ্ট্র শমিক দল, যুক্তরাষ্ট্র যুব দল, যুক্তরাষ্ট্র ছাত্রদলসহ অন্যান্য সংগঠনের নেতাকর্মী এবং বিএনপির সমর্থকরা। তারা প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়ে বিভিন্ন ধরনের স্লোগান দিতে থাকে। ঘন্টাখানেক পরেই যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা ড. প্রদীপ রঞ্জন কর ও মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকীর নেতৃত্বাধীন নেতাকর্মীরা ডাইভার সিটি প্লাজার অন্য প্রান্তে অবস্থান নেন। উভয় গ্রুপের কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে চলছিল। প্রায় দেড় ঘন্টার মত তাদের উভয় গ্রুপের কর্মসূচি চলছিল। বিএনপি প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়ে এবং শেখ হাসিনার বিরোধিতা করে স্লোগান দিচ্ছিল। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা তারেক রহমানকে অবৈধ সরকার বলে এবং শেখ হাসিনাকে দেশে নেওয়া আহ্বান জানিয়ে স্লোগান দিচ্ছিল। এরই মধ্যে পুলিশ এসে যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক তোফায়েল চৌধুরী লিটন, স্টেট বিএনপির সভাপতি অলিউল্যাহ আতিকুর রহমানের সঙ্গে এবং আওয়ামী লীগ নেতা ড. প্রদীপ রঞ্জন করের সঙ্গে কথা বলেন। কথা বলার পর কয়েকজন পুলিশ উভয় দলের মাঝে অবস্থান নেন। যে কারণে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। যদিও বিএনপির নেতাকর্মীদের তুলনায় বিএনপির নেতাকর্মীর সংখ্যা অনেক বেশি ছিল। এক পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ডা. সিদ্দিকুর রহমানের নেতৃত্বে কর্মসূচিতে যোগ দেয় আওয়ামী লীগের আরো নেতাকর্মী। তারা বিভিন্ন ধরনের স্লোগান দিতে থাকে এবং প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়ে বিএনপির টাঙানো একটি ব্যনার ছিঁড়ে ফেলে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। এই সময় উভয় গ্রুপের মধ্যে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। সময় মতো আরো পুলিশ সেখানে উপস্থিত হয়। উভয় গ্রুপকে দুই দিকে ঠেলে দেয়। এই সময় পরিস্থিতি আরো উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ দুগ্রুপকে দুদিক দিয়ে বের করে দেয়। ব্যাপক পুলিশ থাকায় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। কাউকে গ্রেফতারও করা হয়নি। তবে ভিনদেশিরা পরিস্থিতি দেখে ঘৃণা জানিয়েছে। একই দেশের মানুষ, কীভাবে একে অন্যকে গালাগাল করে!

বিএনপির নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন—বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন খোকন, সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নাহিদুর রহমান সায়েল, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আবদুল লতিফ সম্রাট, কেন্দ্রীয় কমিটির অপর সদস্য জিল্লুর রহমান জিল্লু, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য গিয়াস আহমেদ, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মিজানুর রহমান মিল্টন ভূঁইয়া, যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক কোষাধ্যক্ষ জসীম ভূঁইয়া, সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুল ইসলাম, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আকতার হোসেন বাদল, নিউইয়র্ক স্টেট বিএনপি সভাপতি অলিউল্যাহ আতিকুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান সাঈদ, নিউইয়র্ক উত্তর বিএনপির সভাপতি আহবাব চৌধুরী খোকন, সাধারণ সম্পাদক ফয়েজ চৌধুরী, যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি আবু সাঈদ আহমেদ, যুব দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক তথ্য ও গবেষনা বিষয়ক সম্পাদক তোফায়েল চৌধুরী লিটন, নিউইয়র্ক দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি হাবিবুর রহমান সেলিম রেজা, সাধারণ সম্পাদক বদিউল আলম, যুক্তরাষ্ট্র মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি আলহাজ বাবর উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক গোলাম রহমান, যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা কামাল পাশা বাবুল, যুক্তরাষ্ট্র জাসাসের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার সায়েম রহমান, সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর সরওয়ার্দী, স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মাকসুদুল হক চৌধুরী, স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক সাইফুর খান হারুণ, বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বৈদেশিক রাজনৈতিক বিষয়ক কমিটির সদস্য গোলাম ফারুক শাহীন, যুক্তরাষ্ট্র শ্রমিক দলের সভাপতি জাহাঙ্গীর এম আলম, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আনোয়ারুল ইসলাম শাহীন, সিনিয়র সহ-সভাপতি মোস্তাক আহমেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল কালাম, যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি নেতা মোশাররফ হোসেন সবুজ, এবাদ চৌধুরী, আব্দুস সবুর, আনোয়ার হোসেন, রিয়াজ মাহমুদ, নিউইয়র্ক স্টেট বিএনপির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ভিপি জসীম, বিএনপি নেতা বদরুল হক আজাদ, দেওয়ান কাউছার, জাহাঙ্গীর হাসাইন, যুবদল নেতা আতিকুল হক আহাদ, মিজানুর রহমান, শরিফুল খালিসদার, নাঈম টুটুল, শেখ হায়দার আলী, জাবেদ উদ্দীন, লিয়াকত আলী, সুমন, মাজহারুল ইসলাম জনি, মোহাম্মদ জামি, ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল খালেক, অ্যাডভোকেট রেজওয়ানা সেতু, মোতাহার হোসেন, বাচ্চু মিয়া, গিয়াস উদ্দীন, যুক্তরাষ্ট্র যুব দলের সাবেক সভাপতি জাকির এইচ চৌধুরী, নাসিম আহমেদ, রুহুল আমিন, নূরুজ্জামান লাল্টু, এমদাদ তরফদার প্রমুখ।

যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক আবদুস সামাদ আজাদ, উপদেষ্টা ড. প্রদীপ রঞ্জন কর, দফতর সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকী, সোলায়মান আলী, দরুদ মিয়া রুনেল, শাহানারা রহমান, আক্তার হোসেন, মমতাজ শাহনাজ, নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এমদাদ চৌধুরী, তানভীর হায়দার, মোহাম্মদ হৃদয় মিয়া, যুক্তরাষ্ট্র যুব লীগের সভাপতি সেবুল মিয়া, সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফরিদ আলম, মুক্তিযোদ্ধা ফারুত হোসাইন, আওয়ামী লীগ নেতা মঞ্জুর আহমেদ চৌধুরী, স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি ইকবাল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক ইকবাল, নুরুজ্জামান সর্দার প্রমুখ।

শেয়ার করুন