২২ জুন ২০১২, শনিবার, ০২:৩৩:২৭ অপরাহ্ন


শতবর্ষ উদযাপন অনুষ্ঠানে নেতৃবৃন্দ
ভাষা এবং স্বাধীনতা আন্দোলনে ঢাবির যে ভূমিকা তা বিশ্বের অন্য কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের নেই
দেশ রিপোর্ট
  • আপডেট করা হয়েছে : ৩০-১১-২০২২
ভাষা এবং স্বাধীনতা আন্দোলনে ঢাবির যে ভূমিকা তা বিশ্বের অন্য কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের নেই শতবর্ষের অনুষ্ঠান উদ্বোধন করছেন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান


আমাদের ভাষা আন্দোলন, স্বাধীনতাযুদ্ধসহ সকল আন্দোলনের সাথেই জড়িত ছিলো প্রচ্যের অক্সফোর্ড হিসেবে পরিচিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিটি আন্দোলনে যে ভূমিকা রেখেছে বিশ্বের অন্য কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের নেই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে আমাদের ঐতিহ্যের এবং ইতিহাসের অংশ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা ছাড়া বাংলাদেশের কোনো ইতিহাস লেখা যাবে না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের গর্বিত করেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আজকে শতবর্ষের অনুষ্ঠানে আপনারা নতুন ইতিহাস রচনা করেছেন। পুরো দেশকে তুলে ধরেছেন শিল্পীর তুলিতে। আপনাদের প্রচেষ্টা শতভাগ সফল। অসম্প্রদায়িক চেতনার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। এই কথাগুলো বলেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন ইউএসএ আয়োজিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষ উদযাপন অনুষ্ঠানে।

অনুষ্ঠানটি গত ২৬ নভেম্বর সন্ধ্যায় লাগোয়ার্ডিয়া প্লাজা হোটেলের বলরুমে অনুষ্ঠিত হয়। এই অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে পুরো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসকে তুলে ধরে হয় নানা আঙ্গিকে, নানা আয়োজনে। হোটেলে সামনে স্থাপন করা হয় অপরাজেয় বাংলা। হোটেলে ঢুকতেই যা সবার দৃষ্টি কাড়ে। অসাধারণ কারুকাজ এবং যারাই দেখেছেন তারাই প্রশংসা করেছেন। অডিটোরিয়ামের ভিতরে এবং বাইরে জ্বলন্ত ছিলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। কখনো শিল্পীর তুলিতে, আবার কখনো ভিডিও প্রজেকশনে। পুরো অনুষ্ঠানটি ছিলো অনিন্দ্য সুন্দর, হৃদয়স্পর্শী এবং স্মৃতির অতলে হারিয়ে যাওয়ার মুহূর্ত। আর যারা অনুষ্ঠানে এসেছেন তারাও হয়েছেন ভালোবাসায় সিক্ত। অনেকেই ফিরে গিয়েছেন তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের দূরন্ত জীবনে। তবে অতিরিক্ত দলপ্রীতি উপস্থিত অনেকের বিরক্তির কারণ হয়েছে। তা না হলে অনুষ্ঠানটি হতো সোনায় সোহাগা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সাইদা আখতার লিলির সভাপতিত্বে, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা কামাল, কার্যকরি সদস্য মোহাম্মদ রুহুল আমিন সরকার ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক সামছুন নাহার নূপুর চৌধুরী উপস্থানায় বর্ণিল এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান। বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আনোয়ার-উল-আলম চৌধুরী, জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও স্থায়ী প্রতিনিধি আব্দুল মুহিত, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোল্লা মোহাম্মদ আবু কায়সার।

অনুষ্ঠানে কি-নোট স্পিকারে বক্তব্য উপস্থাপন করেন প্রফেসর মোস্তফা সারওয়ার। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের প্রেসিডেয়াম সদস্য মোল্লা মনিরুজ্জামান, সাধারণ সম্পাদক গাজী সামসউদ্দীন, প্রফেসর নাসির, স্টেট সিনেটর জন ল্যু, ড. আব্দুল্লাহ শিবলি, কুইন্স ডেমোক্রেটিক লিডার অ্যাট লার্জ অ্যাটর্নি মঈন চৌধুরী, ডা. চৌধুরী সারওয়ারুল হাসান, অ্যাটর্নি আশোক কর্মকার, চিফ অ্যাডভাইজর সৈয়দ টিপু সুলতান, বিশিষ্ট রিয়েল এস্টেট ইনভেস্টর আনোয়ার হোসেন, ম. জহিরুল হক প্রমুখ।

বিকেলেই বেলুন উড়িয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান। এই সময় আরো উপস্থিত ছিলেন বিশেষ অতিথি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আনোয়ার-উল-আলম চৌধুরী, জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও স্থায়ী প্রতিনিধি আব্দুল মুহিত, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোল্লা মোহাম্মদ আবু কায়সার, সংগঠনের সভাপতি সাইদা আকতার লিলি, সাধারণ সম্পাদক গাজী সামসউদ্দীন, চিফ কো-অডিনেটর মোল্লা মনিরুজ্জামান, চিফ প্যাট্রন ডা. চৌধুরী সারওয়ারুল হাসান, যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, এ কে আজাদ তালুকদার, স্বপন বড়ুয়া, জসীম উদ্দিন, মাসুম এম মহসীন, হযরত আলী, আর্থার আজাদ, পরেশ শর্মা, ব্যারিস্টার কামরুল হাফিজ আহমেদ, যুগ্ম সদস্য সচিব এম এস আলম, গোলাম মোস্তফা, বিশ্বজিৎ চৌধুরী। চিফ অ্যাডভাইজর সৈয়দ টিপু সুলতান। উপদেষ্টা, ড. মহসীন পাটোয়ারি, ড. আব্দুল্লাহ, নাজিম চৌধুরী, অ্যাডভোকেট মুজিবুর রহমান, খোরশেদ চৌধুরী, তৈয়বুর রহমান হারুন, ফখরুল আলম, সাইফ উদ্দিন আহমেদ, অ্যাটর্নি অশোক কর্মকার, ইসমাইল রায়হান, স্বপন বড়ুয়া, মোহাম্মদ মহিউদ্দিন দেওয়ান, লিয়াকত আলী, মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ, জাতিসংঘে নিযুক্ত প্রেস মিনিস্টর নূরে এলাহি মিনা, প্রবীণ সাংবাদিক সৈয়দ মোহাম্মদ উল্যাহ, সংগঠনের সিনিয়র সহ-সভাপতি গোলাম মোস্তফা, সহ-সভাপতি আব্দুস সালাম, কোষাধ্যক্ষ মোহাম্মদ হানিফ মজুমদার, দফতর সম্পাদক ইউছুফ আলী, প্রচার সম্পাদক মোহাম্মদ লিয়াকত আলী, কার্যকরি সদস্য আজহার আলী খান, এম এস আলম, জহিরুল হক, সাইফুল ইসলাম ভূইয়া, মোহাম্মদ রুহুল আমিন সরকার, প্রেসিডেয়াম সদস্য মো. তাজুল ইসলাম, গোলাম মাওলা মানিক প্রমুখ।

অডিটোরিয়ামে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান বলেন, আপনারা আজকে নতুন ইতিহাস তৈরি করেছেন। আপনরা পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসকে তুলে এনেছেন শিল্পীর তুলিতে অন্য অর্থে পুরো দেশকে তুলে থরেছেন। আমি অনেক অনুষ্ঠানে গিয়েছি। কিন্তু এতো সুন্দর আয়োজন দেখিনি। আজকে আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে এখানে দেখিছি। অপরাজেয় বাংলা দেখেছি, শহিদ মিনার দেখেছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে অসাম্প্রদায়িক চেতনার উজ্জ্বল নিদর্শন। তিনি বলেন, ভাষা আন্দোলন শুরু হয়েছিলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। আর প্রথম রাজবন্দি হয়েছিলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে ঢাবির ছাত্রছাত্রীদের ভূমিকা ছিলো স্বর্ণাক্ষরে লিখে রাখার মতো। স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উঠেছিলো এই ক্যাম্পাসেই। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু আমাদের দেশ দিয়েছেন আর তার কন্যা শেখ হাসিনা আমাদের দেশকে সারা বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেলে পরিণত করেছেন। বঙ্গবন্ধু এবং শেখ হাসিনা দু’জনই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী। তিনি র‌্যাঙ্কিং নিচে নেমে যাওয়া নিয়ে বিভিন্ন বক্তারা জবাবে বলেন, দুঃখজনক হলেও সত্যি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো র‌্যাঙ্কিং কারা করে? এমনকি কোনো বৈধ বা গ্রহণযোগ্য প্রতিষ্ঠান রয়েছে? তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শুরু হয়েছিলো টিচিং বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থে আমরা নতুন আইন করছি। যাতে করে দেশের অর্থে বিদেশে পড়তে গিয়ে সেখানে থেকে না যায়। অনেক শিক্ষককে আমরা ধরে রাখতে পারিনি। উন্নত জীবন পেয়ে তারা বিদেশে থেকে গেছেন। আমরা যদি তাদের পেতাম, তাহলে আমরা আরো ভালো করতাম। নতুন আইনে পড়তে এসে না গেলে পুরো অর্থ ফেরত দিতে হবে। যদিও এর জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ তিনি বঙ্গবন্ধু স্কলারশিপ চালু করেছেন। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের কারুকুলাম এখন আধুনিক। আমার কাছে অর্থ বড় বিষয় নয়, দেশ সেবার ইচ্ছাটিই সবচেয়ে বড়। তিনি প্রবাসী অ্যালামনাইদের বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রদূত আব্দুল মুহিত বলেন, আজকে আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্মশতবার্ষিকী পালন করছি। এটা আমাদের অহংকার। তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভাষা আন্দোলন, স্বাধীনতাযুদ্ধ থেকে শুরু করে সকল আন্দোলন- সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। বিশ্বের আর কোনো বিশ্ববিদ্যালয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো খুঁজে পাওয়া যাবে না। তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে বিশ্বের দরবারে উন্নয়নের রোল মডেলে পরিণত করেছেন। যদিও করোনা এবং রাশিয়ার যুদ্ধ সব দেশের অর্থনীতিতে আঘাত হেনেছে। বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়। তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা তা কাটিয়ে উঠেছি। তিনি অ্যালামনাইদের উদ্দেশ্যে বলেন, দেশ আমাদের অনেক দিয়েছে, এখন আমাদের সময় এসেছে দেশকে তা ব্যাক করা।

ড. মনিরুল ইসলাম বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র এবং শিক্ষিক হিসেবে আমি গর্বিত। আমি ফার্মেসির ছাত্র ছিলাম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলাম বলেই বিশ্বকে জানতে পেরেছি। আজকে সারাবিশ্বে বাংলাদেশতে তুলে ধরছি। সে জন্য আমি আমার শিক্ষকদের ধন্যবাদ জানাই। তিনি বাংলাদেশ ও আমেরিকার সম্পর্ক উন্নয়নে আপনারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন।

আনোয়ার-উল-আলম চৌধুরী পারভেজ বলেন, আমাদের লেখপড়ার র‌্যাঙ্কিং কমে যাচ্ছে সে জন্য আমরা অ্যালামনাইরা কি করছি। আমি বলতে পারি আমরা এর জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করছি। তিনি আরো বলেন, শেখ হাসিনার বঙ্গবন্ধুর সোনার প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি আরো বলেন, আমাদের মূল্যবোধের অবক্ষয় হচ্ছে। আগে আমাদের সময় সমাজের মুরুব্বিরাও আমাদের শাসন করতেন। এখন সেটা নেই। এখন ছেলেমেয়েরা বক্সের মধ্যে ঢুকে গেছে। তারা আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছে। এটা আমাদের পরিবর্তন করতে হবে। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে গৃহীত কর্মসূচি তুলে ধরেন।

মোল্লা আবু কায়সার আয়োজকদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, আজকে আয়োজনটি আমাকে অভিভূত করেছে। তিনি বলেন, দেশ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে আপনাদের ভূমিকা রয়েছে। আমাদের সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টাতেই শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে।

সভাপতি সাইদা আকতার লিলি অনুষ্ঠান সফল এবং সার্থক করার জন্য সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

অ্যাটর্নি মঈন চৌধুরী বিশ্ববিদ্যালয়ে যে কোনো উন্নয়নে সহযোগিতা করার আশ্বাস প্রদান করেন।

অনুষ্ঠানের শেষপর্বে সংগীত পরিবেশন করেন বাংলাদেশের জনপ্রিয় শিল্পী ফেরদৌস আরা, প্রবাসের জনপ্রিয় শিল্পী চন্দন চৌধুরী, শশি এবং নৃত্য পরিবেশন করে বিপা এবং চন্দ্রা ব্যানার্জির শিল্পীরা।

এ ছাড়াও অনুষ্ঠানে অতিথিদের ক্রেস্ট এবং কয়েকজন সাবেক ছাত্রকে সাইটেশন প্রদান করা হয়। কেন্দ্রীয় অ্যালামনাই নেতৃবৃন্দ ইউএসএ কমিটিকে বইসহ আরো জিনিসপত্র উপহার দেন। শতবর্ষের অনুষ্ঠানে প্রকাশ করা হয় একটি ম্যাগাজিন। অন্যদিকে অতিথিদের গিফট বক্সও সবার দৃষ্টি কেড়েছে।

শেয়ার করুন